Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

চাকরির জন্য আকর্ষণীয় সিভি লেখার ১০ কার্যকর কৌশল

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

চাকরির জন্য আকর্ষণীয় সিভি লেখার ১০ কার্যকর কৌশল

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

চাকরির বাজারে একটি পদের বিপরীতে অসংখ্য আবেদন জমা পড়ে। তাই শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করলেই একটি সিভি নিয়োগদাতার নজরে পড়বে বিষয়টা এমনটা নয়। সিভি হতে হবে সংক্ষিপ্ত, তথ্যবহুল, প্রাসঙ্গিক এবং এমনভাবে সাজানো, যাতে অল্প সময়েই নিয়োগকর্তা প্রার্থীর যোগ্যতা ও সম্ভাবনা বুঝতে পারেন।

একটি ভালো সিভি তৈরির সময় নিচের বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে— 

১. সিভির নকশা যত সহজ ও গোছানো হবে, পড়তে তত সুবিধা হবে। অতিরিক্ত রং, নকশা বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য এড়িয়ে চলুন। যোগাযোগের তথ্যের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পোর্টফোলিও, ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের লিংক যুক্ত করতে পারেন।

২. নিয়োগদাতারা এখন শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা ও সামাজিক বুদ্ধিমত্তার মতো দক্ষতাও গুরুত্ব দেন। তাই আপনি কী কাজ করেছেন, তার পাশাপাশি সেই কাজের মাধ্যমে কী ফল অর্জন করেছেন, সেটিও তুলে ধরুন।

৩. এআই দিয়ে সিভির কাঠামো বা ভাষা উন্নত করা যেতে পারে। তবে আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, অর্জন ও ক্যারিয়ার-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এআই সবসময় সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে না। তাই এআইকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করুন, চূড়ান্ত লেখক হিসেবে নয়।

৪. আপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সময় পরিস্থিতি, কাজ, পদক্ষেপ, ফলাফল কাঠামো অনুসরণ করতে পারেন। অর্থাৎ কী পরিস্থিতিতে কী সমস্যা ছিল, আপনার দায়িত্ব কী ছিল, আপনি কী পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত কী ফল এসেছে সংক্ষেপে তা তুলে ধরুন।

৫. সিভির প্রথম অংশেই আপনার যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত সারাংশ দিন। যে পদের জন্য আবেদন করছেন, সেই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাগুলো শুরুতেই তুলে ধরলে নিয়োগদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হয়।

৬. আপনার পেশায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন বা মেশিন লার্নিং কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তা প্রাসঙ্গিক হলে সিভিতে উল্লেখ করুন। এতে বোঝা যাবে আপনি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে কাজ করতে সক্ষম।

৭. সিভির প্রতিটি অংশে আপনার পেশাগত পরিচয়ের একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি থাকা উচিত। শুধু ‘কাজের অভিজ্ঞতা’ বা ‘দায়িত্ব’ লেখার বদলে আপনার বিশেষত্ব ও অর্জনকে সামনে রেখে তথ্য সাজাতে পারেন।

৮. কী কাজ করতেন এটি গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কাজটি করে কী ফল পেয়েছেন এটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্বের দীর্ঘ তালিকা না দিয়ে আপনার অর্জন, অবদান ও ফলাফলকে প্রাধান্য দিন।

৯. আপনার সাফল্যকে সংখ্যা, শতাংশ বা সময়ের মাধ্যমে প্রকাশ করা গেলে তা আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়। যেমন—বিক্রি ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, খরচ ১৫ শতাংশ কমানো বা নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রকল্প শেষ করা। তবে সব তথ্য অবশ্যই সত্য ও যাচাইযোগ্য হওয়া উচিত।

১০. শুধু সাফল্যের কথা বলবেন না। সাফল্য কীভাবে এসেছে, সেটিও সংক্ষেপে তুলে ধরুণ। আপনি কী করেছেন, কেন করেছেন, কীভাবে করেছেন এবং এর ফলে প্রতিষ্ঠান কী সুবিধা পেয়েছে এই চারটি প্রশ্নের উত্তর সিভিতে থাকলে আপনার অভিজ্ঞতা আরও শক্তিশালীভাবে ফুটে উঠবে।

ক্যারিয়ারের সাম্প্রতিক ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো আগে তুলে ধরুণ। বিশেষ করে যে অর্জনগুলো কাঙ্ক্ষিত পদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত, সেগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিন। একটি সিভি শুধু আপনার সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মাধ্যম নয় বরং এটি প্রতিষ্ঠানকে বোঝানোর সুযোগ যে আপনি কেন তাদের জন্য উপযুক্ত। তাই প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, মূল্যবোধ, সাম্প্রতিক কাজ ও প্রয়োজন সম্পর্কে ধারণা নিয়ে সিভির তথ্য সাজান।

একটি সিভি সব ধরনের চাকরির জন্য ব্যবহার করা ভালো কৌশল নয়। প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতাগুলো চিহ্নিত করুন। এরপর সেই পদের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ও কী-ওয়ার্ডগুলো সিভিতে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করুন।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম