নিয়মিত রাউটার রিস্টার্টে পাবেন যেসব সুবিধা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাড়ি কিংবা অফিসে স্মার্টফোন, কম্পিউটার, স্মার্ট টিভি, ক্যামেরা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত রাখতে রাউটার প্রায় সব সময়ই চালু থাকে। দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করার ফলে ডিভাইসটির মেমোরিতে বিভিন্ন অস্থায়ী তথ্য জমা হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে ইন্টারনেট সংযোগের স্থিতিশীলতা ও ওয়াইফাইয়ের গতির ওপর। এ কারণে নিয়মিত রাউটার রিস্টার্ট করলে নেটওয়ার্কের কিছু সাধারণ সমস্যা সমাধান হতে পারে।
রিস্টার্ট করলে কি আসলেই স্পিড বাড়ে?
রাউটারকে ছোট একটি কম্পিউটারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এতে প্রসেসর, মেমোরি ও সফটওয়্যার থাকে, যা সারাক্ষণ নেটওয়ার্কের ডেটা আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সংযোগ পরিচালনা করে।
দীর্ঘ সময় চালু থাকার পর কখনো কখনো মেমোরিতে অস্থায়ী তথ্য জমে বা কোনো প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কাজ না করতে পারে। রাউটার রিস্টার্ট করলে এসব অস্থায়ী প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে ডিভাইসটি নতুন করে কাজ শুরু করে। একই সঙ্গে মডেম, রাউটার এবং ইন্টারনেট সেবাদাতার মধ্যে সংযোগও নতুন করে প্রতিষ্ঠিত হয়।
কিছু রাউটার রিস্টার্টের পর আশপাশের ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক ও চ্যানেল পরিস্থিতি নতুন করে পর্যবেক্ষণ করতে পারে। ফলে নেটওয়ার্কে হস্তক্ষেপ বা অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে তৈরি হওয়া কিছু সংযোগ সমস্যা কমার সুযোগ থাকে।
এর ফলে ওয়াই-ফাই বারবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, ভিডিও চালানোর সময় বাফারিং কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম গতি পাওয়ার মতো সমস্যার সাময়িক সমাধান হতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তায়ও কিছুটা ভূমিকা আছে
রাউটার রিস্টার্ট করার সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই ও এনএসএ রাউটার নিয়মিত রিবুট করার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ, রিস্টার্টের মাধ্যমে কিছু ধরনের ম্যালওয়্যারের সক্রিয়তা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং রাউটারের সঙ্গে থাকা কিছু অস্বাভাবিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
তবে রাউটার রিস্টার্ট করাকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। নিরাপদ নেটওয়ার্কের জন্য রাউটারের ফার্মওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ করা, শক্তিশালী ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখাও জরুরি।
কতদিন পর পর রিস্টার্ট করবেন
সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাসে একবার রাউটার রিস্টার্ট করা যেতে পারে। তবে ইন্টারনেটের গতি হঠাৎ কমে গেলে, ওয়াই-ফাই বারবার সংযোগ হারালে কিংবা একাধিক ডিভাইস অস্বাভাবিকভাবে নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হলে প্রয়োজন অনুযায়ী তার আগেও রিস্টার্ট করা যায়।
আবার কিছু আধুনিক রাউটারে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিবুট করার সুবিধা থাকে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারী চাইলে নিয়মিত রিবুটের জন্য একটি সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
রিবুট ও ফ্যাক্টরি রিসেট এক নয়
রাউটার রিস্টার্ট করার ক্ষেত্রে সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে প্রায় ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট অপেক্ষা করার পর আবার চালু করলেই হয়। এতে রাউটারের আগের কনফিগারেশন সাধারণত ঠিক থাকে।
অন্যদিকে, ফ্যাক্টরি রিসেট সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটি করলে রাউটার প্রস্তুতকারকের প্রাথমিক সেটিংসে ফিরে যায়। ওয়াই-ফাইয়ের নাম, পাসওয়ার্ড এবং অন্যান্য কনফিগারেশন মুছে যেতে পারে। ফলে পরে আবার নতুন করে রাউটার সেটআপ করতে হয়।
তাই ইন্টারনেট বা ওয়াই-ফাইয়ের সাধারণ সমস্যায় সরাসরি ফ্যাক্টরি রিসেট না করে প্রথমে রাউটার রিস্টার্ট করে দেখা ভালো। অনেক ক্ষেত্রে এতেই সমস্যার সাময়িক সমাধান পাওয়া যায়।


