সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিংয়ে ৮০-এর দশকের লুক, যেভাবে এটি তৈরি করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর কল্যাণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন নতুন এক নস্টালজিক ট্রেন্ড বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানের যেকোনো সাধারণ ছবিকে আশির দশকের পুরোনো ছবির রূপ দিতে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করছেন ব্যবহারকারীরা।
শুধু ওপর থেকে কোনো ফিল্টার বসানো নয়, বরং ছবির পেছনের পুরো দৃশ্যপট, চুলের স্টাইল, পোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড এবং ছবির টেক্সচার পুরোপুরি পাল্টে ফেলে সেটিকে আশির দশকের আদলে তৈরি করা হচ্ছে।
মূলত ইনস্টাগ্রামের ‘অ্যাড ইউরস’ স্টিকারের মাধ্যমে এই ট্রেন্ডটি বন্ধুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। মানুষ জানতে চাইছে—আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে এই ছবিটি তোলা হলে তার লুক কেমন হতো?
এই ট্রেন্ডে ছবিগুলো দেখতে মূলত পুরোনো পারিবারিক অ্যালবামের ছবির মতো, কিংবা বাংলা সিনেমার গ্ল্যামারাস পোর্ট্রেট বা পুরোনো ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদের মতো হয়ে থাকে।
বাংলাদেশি ঘরানার ছবিতে নারীদের রঙিন শাড়ি, ভলিউম করা চুল এবং স্টেটমেন্ট জুয়েলারিতে সাজানো হচ্ছে, আর পুরুষদের ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা বা ফিট করা শার্ট, হাই-ওয়েস্টেড প্যান্ট ও কারো কারো ক্ষেত্রে গোঁফের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
পাশাপাশি, এআই যাতে পুরো মানুষটিকে বদলে না ফেলে, সেজন্য প্রম্পটে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে মুখের অবয়ব, ত্বকের রঙ ও পরিচিত বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখে শুধু চারপাশের পরিবেশটা আশির দশকের মতো তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
যেভাবে তৈরি করা হচ্ছে এই ছবিগুলো
একটি স্পষ্ট সেলফি বা পোর্ট্রেট ছবি চ্যাটজিপিডিতে আপলোড করে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের স্টাইল বর্ণনা করছেন। প্রথমবারে নিখুঁত না হলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে চ্যাট করে বারবার ছবিটিতে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
এ জন্য চ্যাটজিপিটিতে ছবি আপলোড করে নির্দেশনায় লিখতে হবে—
‘ছবিটিকে ১৯৮০-এর দশকের একটি বাস্তবসম্মত পোর্ট্রেটে রূপান্তর করুন। ব্যক্তির মুখের বৈশিষ্ট্য, পরিচয়, বয়স ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি অপরিবর্তিত রাখুন। ৮০-এর দশকের উপযোগী চুলের স্টাইল, পোশাক ও মেকআপ দিন। পেছনে রাখুন পুরোনো স্টুডিওর আবহ। ছবিতে ৩৫ মিমি ফিল্মের দানা, উষ্ণ রঙ, নরম ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক ছায়া ও বাস্তবসম্মত ত্বকের টেক্সচার যোগ করুন। ছবিটি যেন ভিনটেজ ফিল্টার দেওয়া আধুনিক ছবি না হয়ে সত্যিই ১৯৮০-এর দশকে তোলা একটি ছবি মনে হয়। কোনো লেখা, ওয়াটারমার্ক বা আধুনিক উপাদান রাখবেন না।’
এই ট্রেন্ডে গা ভাসিয়েছেন অনেক তারকারাও।
আরও ভালো ফল পেতে সে সময়ের নির্দিষ্ট পোশাক, চুলের ধরন বা ব্যাকগ্রাউন্ডের কথাও উল্লেখ করা যায়। যেমন বাংলাদেশের ৮০-এর দশকের ফ্যাশন, পুরোনো ঢাকার রাস্তা কিংবা সে সময়ের স্টুডিওর পরিবেশ যোগ করলে ছবিতে আসতে পারে আরও স্থানীয় আবহ।
তবে ছবি পোস্ট করার আগে খেয়াল রাখতে হবে যেন এআইয়ের কারণে হাত, আঙুল বা ব্যাকগ্রাউন্ডের লেখায় কোনো অসংগতি চলে না আসে।
স্মার্টফোনের এই যুগে অতীতকে জীবন্ত করে তোলার এক সুযোগ করে দিয়েছে ইনস্টাগ্রামের এআই ট্রেন্ডটি। একটি মাত্র ছবি এবং সঠিক প্রম্পটের সাহায্যে এখন খুব সহজেই নিজের একটি বিকল্প বা কাল্পনিক অতীত ইতিহাস তৈরি করে নেওয়া যাচ্ছে। এর মাধ্যমে কয়েকটি নির্দেশনাতেই বর্তমানের একটি ছবি হয়ে উঠতে পারে চার দশক আগের স্মৃতির মতো।

