শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্লাড সুগার, কোলেস্টেরল কিংবা লিভার-কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করান অনেকেই; কিন্তু শরীরে ক্যানসারের কোনো ইঙ্গিত রয়েছে কিনা, তা নিয়েও অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু রক্ত পরীক্ষা শরীরে অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সব ধরনের ক্যানসার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে আরও নির্দিষ্ট পরীক্ষা করাতে হয়।
ক্যানসারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত শনাক্তকরণ। কোনো উপসর্গ, পারিবারিক ইতিহাস কিংবা নির্দিষ্ট বয়সজনিত ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা ও অন্যান্য স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিতে পারেন। তাই নিজের মতো করে একগুচ্ছ টিউমার মার্কার পরীক্ষা না করিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কোন কোন রক্ত পরীক্ষা করা হয়?
রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষার ক্ষেত্রে সিবিসি বা কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট, এলএফটি বা লিভার ফাংশান টেস্ট, কেএফটি বা কিডনি ফাংশান টেস্ট, থাইরয়েড প্রোফাইল, লিপিড প্রোফাইল আর সিএ১৫.৩ (স্তন ক্যানসার নির্ণায়ক পরীক্ষা), সিএ৭২.৪ (পাকস্থলীর ক্যানসার নির্ণায়ক পরীক্ষা) পরীক্ষা করা হয়।
রক্তে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে চিকিৎসক প্রয়োজনে আরও পরীক্ষা করাতে পারেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অকারণে দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত, শরীরে কোনও গাঁট, দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা বা অন্য কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ
মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নির্ধারণে বয়স, পারিবারিক ইতিহাস এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যামোগ্রাফি বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে। একইভাবে জরায়ুমুখের ক্যানসারের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং পরীক্ষাও রয়েছে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি মূল্যায়নে পিএসএ পরীক্ষা কিছু পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়। তবে সেটিও সবার জন্য একইভাবে প্রয়োজনীয় নয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসক সিদ্ধান্ত নেন।
শুধু রক্ত পরীক্ষার ওপর নির্ভর নয়
ক্যানসার প্রতিরোধ বা দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পাশাপাশি বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী উপযুক্ত স্ক্রিনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তপরীক্ষাকে ক্যানসার শনাক্ত করার একমাত্র উপায় মনে করা ঠিক নয়।
কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে কিংবা পরিবারে ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ যত দ্রুত শনাক্ত করা যায়, চিকিৎসার সুযোগও তত বেশি থাকে।

