Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

মাটি-ঘাসে খেললে বাড়তে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বলছে গবেষণা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

মাটি-ঘাসে খেললে বাড়তে পারে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বলছে গবেষণা

নিয়মিত বাগান করা কিংবা ঘাসে খেলা শুধু প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগই তৈরি করে না, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

Advertisement

নিয়মিত বাগান করা, গাছের ছাল স্পর্শ করা কিংবা ঘাসে খেলা শুধু প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগই তৈরি করে না, এটি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাটি, গাছপালা ও প্রাকৃতিক পরিবেশের সংস্পর্শে এলে ত্বকে বসবাসকারী অণুজীবের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে খতিয়ে দেখছেন, মাটি, উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শ ত্বকের মাইক্রোবায়োমকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং এর মাধ্যমে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা উপকৃত হয়।

ফিনল্যান্ডের গবেষকদের পরিচালিত এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ২০ সেকেন্ড ধরে মাটি, পিট ও শ্যাওলা হাতে ঘষতে বলা হয়। এতে দেখা যায়, তাদের ত্বকে থাকা অণুজীবের সংখ্যা ও বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এমনকি সাধারণ পানি দিয়ে হাত ধোয়ার পরও কিছু পরিবর্তন বজায় ছিল।

কেন গুরুত্বপূর্ণ ত্বকের অণুজীব?

ত্বকে ব্যাকটেরিয়া থাকা মানেই তা ক্ষতিকর নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকে বিভিন্ন ধরনের অণুজীবের উপস্থিতি একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর জীবাণুর আধিপত্য বিস্তারকে কঠিন করে তোলে।   

ফিনিশ এনভায়রনমেন্ট ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্য গবেষক মিরা গ্রোনরুস বলেন, অংশগ্রহণকারীদের হাত দেখতে পরিষ্কার থাকলেও অণুজীবের গঠনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে।

তবে গবেষকরা এটিও দেখেছেন যে মাত্র ২০ সেকেন্ডের সংস্পর্শ দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনে না। কিছু সময় পর ত্বকের অণুজীবের গঠন আবার আগের অবস্থার কাছাকাছি ফিরে যায়। ফলে নিয়মিত বা দীর্ঘ সময় প্রকৃতির সংস্পর্শে থাকা একবারের সংস্পর্শের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাটিতে খেলা শিশুদের জন্য উপকারী

প্রকৃতির সংস্পর্শ শিশুদের স্বাস্থ্যে কী প্রভাব ফেলে, সেটিও গবেষকরা পরীক্ষা করে দেখছেন। ফিনল্যান্ডের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুরা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা বনসদৃশ খেলার মাঠে সময় কাটায়। সেখানে তারা গাছে ওঠে, মাটি ও কাঠ নিয়ে খেলে, বালুর দুর্গ তৈরি করে এবং বিভিন্ন উদ্ভিদের সংস্পর্শে আসে।

গবেষকরা শিশুদের ত্বক, লালা ও মলের নমুনার পাশাপাশি রক্ত ও চুলের নমুনাও সংগ্রহ করছেন। এসব তথ্যের মাধ্যমে কয়েক বছর ধরে তাদের মাইক্রোবায়োম ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই ডে-কেয়ার সেন্টারটি ফিনল্যান্ডের ‘অ্যাডেল’ গবেষণা কর্মসূচির অংশ, যেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শিশুদের অণুজীবের সংস্পর্শের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে।

বনসদৃশ খেলার মাঠে বাড়ে অণুজীবের বৈচিত্র্য

২০১৬ ও ২০১৭ সালে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় গবেষকরা একটি ডে-কেয়ার কেন্দ্রের খেলার মাঠে বনসদৃশ পরিবেশ তৈরি করেন। সেখানে পিট, বনমাটি ও গাছ লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়।

২৮ দিন ধরে ওই পরিবেশে খেলার পর দেখা যায়, শিশুদের ত্বক, লালা ও অন্ত্রে অণুজীবের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে পাকা বা নুড়িপাথরযুক্ত মাঠে খেলা শিশুদের মধ্যে এমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এক বছর পর করা অনুসরণমূলক পরীক্ষায়ও ত্বকের অণুজীব বৈচিত্র্যের কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন বজায় থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

গবেষকরা আরও দেখেছেন, বনমাটিতে খেলা শিশুদের ত্বকে রোগ সৃষ্টিকারী সম্ভাব্য ক্ষতিকর অণুজীবের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক

বিজ্ঞানীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ত্বকের অণুজীবের পরিবর্তন রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কীভাবে প্রভাবিত করে। এক পরীক্ষায় শিশুদের এমন বালুর মাঠে খেলতে দেওয়া হয়, যেখানে কিছু জায়গায় অণুজীবের বৈচিত্র্য বেশি এবং কিছু জায়গায় কম ছিল। দেখা যায়, অণুজীবসমৃদ্ধ মাটির সংস্পর্শে থাকা শিশুদের ত্বকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বেড়েছে।

একই সঙ্গে তাদের রক্তে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত ‘সাইটোকাইন’ নামের কিছু উপাদানের পরিবর্তনও লক্ষ্য করা যায়। এসব পরিবর্তন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা একদিকে হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে সাহায্য করে, অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়া থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

তাহলে কি ময়লা নিয়ে আর চিন্তা নেই?

গবেষকরা বলছেন, বিষয়টি এমন নয় যে সব ধরনের ময়লা উপকারী বা ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার প্রয়োজন নেই। বরং গবেষণাগুলো ইঙ্গিত করছে, প্রকৃতির বৈচিত্র্যময় অণুজীবের সঙ্গে নিয়মিত ও স্বাভাবিক সংস্পর্শ মানবদেহ ও অণুজীবের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাইরে খেলাধুলা মাটি, গাছপালা ও কাঠের মতো প্রাকৃতিক উপাদানের সংস্পর্শের সুযোগ তৈরি করে। পাশাপাশি এটি তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সূত্র: সামা টিভি অনলাইন 

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম