Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ডিটক্স পানি পান করে বিপদ ডেকে আনছেন না-তো? কারা বেশি ঝুঁকিতে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ এএম

ডিটক্স পানি পান করে বিপদ ডেকে আনছেন না-তো? কারা বেশি ঝুঁকিতে

Advertisement

সুস্থ জীবনযাপন বা ওয়েলনেস ট্রেন্ডের দ্রুত পরিবর্তনশীল জগতে সকালবেলার ডিটক্স পানীয়, ভেষজ উপাদানে শরীর শুদ্ধিকরণ এবং গ্রিন জুস পান করা এখন একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করা, ত্বক পরিষ্কার রাখা এবং মেদ ঝরানোর সহজ ও দ্রুত উপায় হিসেবে এগুলোর প্রচার চালানো হয়। 

 প্রায়শই এই পানীয়গুলোকে সাধারণ ও প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যাভ্যাস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সকালের এই অভ্যাসটিকে আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ মনে হতে পারে। তবে এটি আপনার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, বিশেষ করে কিডনির ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিডনির স্বাস্থ্যের ওপর ভেষজ ডিটক্স পানীয়ের প্রভাব সম্পর্কে  বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত দিয়েছেন। জার্নাল অব হার্বাল মেডিসিনে উল্লিখিত চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের শরীরে আগে থেকেই বিষাক্ত পদার্থ দূর করার কার্যকরী ও প্রাকৃতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান। লিভার এবং কিডনি শরীরের প্রাকৃতিক ডিটক্স ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে—

লিভার ও কিডনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

লিভার শরীরের প্রধান বিপাকীয় প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। এটি বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, ওষুধ এবং শরীরের বর্জ্যজাত পদার্থ ভেঙে প্রক্রিয়াজাত করে। কিডনি আমাদের শরীরে জৈবিক ফিল্টারের মতো কাজ করে। প্রতিদিন প্রায় ১২০ থেকে ১৫০ কোয়ার্ট রক্ত প্রক্রিয়াজাত করে বর্জ্য অপসারণ এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ওয়েলনেস ড্রিঙ্ক বা ডিটক্স পানীয় এসব অঙ্গকে আলাদাভাবে পরিষ্কার করে না। বাস্তবে, বাণিজ্যিক ডিটক্স পণ্যগুলো চিকিৎসাগত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি একটি বিপণনভিত্তিক ধারণা।

কেন হারবাল ডিটক্স ড্রিঙ্ক কিডনির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে

ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. জোসেফ ভাসালোটির মতে, সুস্থ কিডনির বর্জ্য ছেঁকে বের করার জন্য বাইরের কোনো অতিরিক্ত সহায়তা বা বিশেষ হারবাল রেজিমেনের প্রয়োজন নেই। কিডনি ক্লিনজ বা ডিটক্স মূলত একটি বিপণন ধারণা, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা নয়। কিডনি ও লিভার স্বাভাবিকভাবেই ২৪ ঘণ্টা শরীরের বর্জ্য অপসারণের কাজ করে।

হারবাল ডিটক্স ড্রিঙ্ক কিডনির কার্যকারিতায় কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে

সাধারণ ক্যামোমাইল বা পুদিনার চায়ের মতো হালকা হারবাল পানীয় সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে উচ্চমাত্রার হারবাল ডিটক্স মিশ্রণে কিছু নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকতে পারে—

১. অনেক ডিটক্স ফর্মুলায় ড্যান্ডেলিয়ন, জুনিপার বা হর্সটেইলের মতো প্রাকৃতিক মূত্রবর্ধক উপাদান ব্যবহার করা হয়। এগুলো দ্রুত শরীর থেকে তরল বের করে দিতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে শরীরের পানির ওজন কমে, কিন্তু প্রকৃত চর্বি কমে না।

শরীরের তরল দ্রুত কমে গেলে পানিশূন্যতা হতে পারে এবং রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।

২. ঘন জুস ক্লিনজ এবং অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রিন এক্সট্র্যাক্টে প্রচুর অক্সালেট থাকতে পারে। পালং শাক, বিট এবং কিছু চায়ের নির্যাসে অক্সালেটের পরিমাণ বেশি থাকে। অতিরিক্ত অক্সালেট প্রস্রাবের পথে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে তীব্র অক্সালেটজনিত কিডনি ক্ষতিও হতে পারে।

৩. নিয়ন্ত্রণহীন ডিটক্স চায়ে প্রায়ই সেনা পাতা বা ক্যাসকারার মতো প্রাকৃতিক জোলাপজাতীয় উপাদান থাকে। দীর্ঘদিন এগুলো গ্রহণ করলে পেটের সমস্যা ও ডায়রিয়া হতে পারে। এর ফলে পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ শরীর থেকে কমে যেতে পারে। কিডনির জন্য শরীরের তরল ভারসাম্য ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইলেক্ট্রোলাইটের সঠিক ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাবের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে কিছু ব্যক্তিদের জন্য হারবাল ক্লিনজ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—

* আগে থেকেই কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি

* নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী ব্যক্তি

* বয়স্ক ব্যক্তি

কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখার উপায়

বিশেষজ্ঞরা কিডনির স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কয়েকটি উপায়ের কথা বলেছেন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন, লবণ গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করুন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ অতিরিক্ত ব্যবহার করবেন না এবং সুষম খাবার খান। আপনার কিডনির জন্য প্যাকেটজাত কোনো ডিটক্স টি প্রয়োজন নেই। কিডনি ও লিভারই শরীরের নিজস্ব প্রাকৃতিক ডিটক্সিফিকেশন ব্যবস্থা। উচ্চমাত্রার কোনো হারবাল সাপ্লিমেন্ট শুরু করার আগে অবশ্যই একজন যোগ্য চিকিৎসক বা নেফ্রোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম