অ্যাসিডিটি নাকি হার্ট অ্যাটাক? যে লক্ষণ দেখে সতর্ক হবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিনেমায় হার্ট অ্যাটাকের দৃশ্য মানেই বুকে হাত দিয়ে কষ্ট পাওয়া, হাঁপাতে হাঁপাতে পড়ে যাওয়া। বাস্তবে হার্ট অ্যাটাক সবসময় এমন নাটকীয়ভাবে আসে না। অনেক সময় এটি অ্যাসিডিটি, অল্প পরিশ্রমেই অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা এমন অবসাদ হিসেবে দেখা দিতে পারে, যাকে অনেকে ঘুমিয়ে ঠিক হয়ে যাবে বলে মনে করেন।
চিকিৎসকদের সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের জায়গাটিও এখানেই। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, হার্ট অ্যাটাক গুরুতর পর্যায়ে যাওয়ার অনেক আগেই শরীর সাধারণত কিছু সতর্কসংকেত দেয়। কিন্তু মানুষ প্রায়ই এসব লক্ষণের নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে তা এড়িয়ে যান।
দুপুরের ঝাল খাবার, ঘুমের ভুল ভঙ্গি কিংবা কর্মক্ষেত্রের চাপকে দায়ী করেই অনেকে বিষয়টি পাশ কাটান। অথচ হৃদ্রোগের ক্ষেত্রে এমন ভুলের মূল্য দিতে হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে।
চিকিৎসকরা জানান, তীব্র হার্ট অ্যাটাকের সময় হৃদ্পেশির একটি অংশে রক্ত সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে যায় বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। যত বেশি সময় এই বাধা থাকে, তত বেশি হৃদ্পেশি স্থায়ী ক্ষতির শিকার হয়।
হার্ট অ্যাটাকের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো বুকে অস্বস্তি। তবে সেটি সবসময় অসহ্য ব্যথা হিসেবে দেখা দেয় না। বুকের মাঝখানে বা পুরো বুকজুড়ে চাপ, শক্ত হয়ে আসা, চেপে ধরা, ভারী লাগা, ভরা ভরা অনুভূতি কিংবা অস্বস্তি হতে পারে।
এ ধরনের অস্বস্তি কয়েক মিনিট স্থায়ী হয়ে কিছুটা কমে আবার তীব্র হয়ে ফিরতে পারে। তাই ব্যথা অসহ্য হওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে বুকে সামান্য বা অস্বাভাবিক অস্বস্তির সঙ্গে অন্য সতর্কসংকেত থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
বুকের বাইরেও ছড়াতে পারে ব্যথা
হার্ট অ্যাটাকের অস্বস্তি শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্নায়ুর মাধ্যমে এর প্রভাব শরীরের অন্য অংশেও অনুভূত হতে পারে। এক বা দুই হাত, কাঁধ, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
চোয়ালে অজানা ব্যথা কিংবা দুই কাঁধের মাঝখানে অস্বস্তিকে অনেকে পেশির সমস্যা মনে করেন। কিন্তু এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঘাম, বমিভাব বা বুকে অস্বস্তি থাকলে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
হঠাৎ বা অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্টও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। অল্প পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট হওয়া, পুরোপুরি শ্বাস নিতে না পারার অনুভূতি কিংবা বিশ্রামের সময়ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। এমনকি বুকে অস্বস্তি ছাড়াও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
অ্যাসিডিটি ভেবে ভুল করবেন না
বুক বা পেটের ওপরের অংশে জ্বালাপোড়া কিংবা ভারী লাগলে অনেকেই সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিডিটির ওষুধ খান। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, বদহজম, অ্যাসিডিটি ও বুকজ্বালা সাধারণ সমস্যা হলেও কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গও একই রকম মনে হতে পারে।
নতুন করে শুরু হওয়া বা কারণ বোঝা যাচ্ছে না এমন বুকজ্বালা, ভারী লাগা বা অস্বস্তিকে শুধু অ্যাসিডিটি ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে ঘাম, শ্বাসকষ্ট, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শরীরের অন্য অংশে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে উপসর্গ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে বুকের মাঝখানে ব্যথার বদলে বমিভাব, বমি, তীব্র ক্লান্তি বা কোমরের নিচের অংশে চাপের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সন্দেহ হলে কী করবেন?
হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাব্য লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। সাহায্য আসা পর্যন্ত শারীরিক পরিশ্রম বন্ধ করে আরামদায়ক অবস্থায় বসে বা শুয়ে থাকতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, জরুরি সহায়তা ডাকার পর কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা রক্তপাতের ঝুঁকি না থাকলে অ্যাসপিরিন চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো অনিশ্চয়তা থাকলে চিকিৎসাকর্মীদের নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করাই নিরাপদ।
রোগী অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে উপস্থিত ব্যক্তিদের সিপিআর শুরু করতে হবে এবং কাছে থাকলে স্বয়ংক্রিয় বহিঃস্থ ডিফিব্রিলেটর (এইডি) ব্যবহার করতে হবে।
চিকিৎসকের মূল পরামর্শ, হার্ট অ্যাটাক সবসময় সিনেমার মতো নাটকীয় লক্ষণ নিয়ে আসে না। সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলে তা বাড়ে কি না দেখার জন্য অপেক্ষা করার চেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই নিরাপদ।

-6aa4db3732256.jpg)
-6aa4e9b1abc07.jpg)