পরিবারে টাইপ ১ ডায়াবেটিস থাকলে ভাইবোনদের ঝুঁকি ১০ গুণ বেশি: গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দক্ষিণ কোরিয়ায় পরিচালিত এক সরকারি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারে কারো টাইপ ১ ডায়াবেটিস থাকলে সেই পরিবারের অন্য ভাইবোনদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ শিশুদের তুলনায় ১০ গুণেরও বেশি।
কোরিয়া ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন এজেন্সি (কেডিসিএ)-র অর্থায়নে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ১৮ বছর বা তার কম বয়সি ৯৩৬ জন শিশুর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ায় শিশু-কিশোরদের ডায়াবেটিসের বংশগত প্রবণতা নিয়ে প্রথম বড় ধরনের গবেষণা।
গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের ভাইবোনদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার হার ৩ শতাংশ, অথচ সাধারণ কোরিয়ান শিশুদের মধ্যে এই হার মাত্র শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। এ ছাড়া যমজ শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি দেখা গেছে।
গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৭ জোড়া যমজের মধ্যে ৩ জোড়া যমজের দুজনেরই টাইপ ১ ডায়াবেটিস রয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, পরিবারে আগে থেকেই ডায়াবেটিসের রোগী থাকলে অন্য শিশুদের লক্ষণগুলো দ্রুত বোঝা যায়, ফলে রোগ জটিল হওয়ার আগেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সম্ভব হয়।
টাইপ ১ ডায়াবেটিস হলো এক ধরণের অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরি করা কোষগুলো ধ্বংস করে দেয়। ফলে শরীর আর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না এবং এটি সাধারণত শিশু বা কিশোর বয়সে দেখা দেওয়ায় সারাজীবন ইনসুলিন নিতে হয়।
এই রোগের একটি মারাত্মক জটিলতা হলো ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস (ডিকেএ), যা শরীরে ইনসুলিনের পরিমাণ মারাত্মক কমে গেলে এবং রক্তে কিটোন বেড়ে গিয়ে রক্ত অম্লীয় হয়ে পড়লে ঘটে। সময়মতো চিকিৎসা না করালে এটি জ্ঞান হারানোর মতো মারাত্মক বিপদ ঘটাতে পারে, তবে পরিবারে আগে রোগী থাকায় সচেতনতা বাড়ায় এই জটিলতা এড়ানো সহজ হয়।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বুন্দাং হসপিটালের অধ্যাপক কিম জ্য-হিউন বলেন, এই গবেষণার ফলাফল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের আগে থেকেই চিহ্নিত করে স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করার পথ সহজ হবে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকার এখন শিশু-কিশোরদের জন্য একটি জাতীয় ডায়াবেটিস রেজিস্ট্রি বা তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাই পরিবারে বা ভাইবোনদের কারো টাইপ ১ ডায়াবেটিস থাকলে অন্য শিশুদের ছোটোখাটো লক্ষণ বা পরিবর্তনের দিকেও বাড়তি নজর রাখা উচিত।
সূত্র: সামা টিভি

-6aa8dd9de9161.jpg)