Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ব্লু-লাইট চশমা কি সত্যিই চোখ রক্ষা করে?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম

ব্লু-লাইট চশমা কি সত্যিই চোখ রক্ষা করে?

ফাইল ছবি

Advertisement

স্ক্রিনের ক্ষতিকর আলো থেকে চোখ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্লু-লাইট চশমার বড় একটি বাজার তৈরি হয়েছে। বর্তমানে এই শিল্পের বৈশ্বিক বাজারমূল্য ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি। তবে গবেষণার ফলাফল খতিয়ে দেখলে চোখ সুরক্ষায় এসব চশমার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

ব্লু-লাইট চশমার কাজ কী

চিকিৎসকরা বলেন, নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় একদল মানুষকে ব্লু-লাইট লেন্স এবং অন্যদলকে সাধারণ লেন্স পরিয়ে একই ধরনের স্ক্রিনের কাজ সারাদিন করানো হয়েছে। দেখা গেছে, দুই দলের মধ্যে চোখের ক্লান্তির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য নেই। অর্থাৎ যে সমস্যা সমাধানের দাবি নিয়ে মূলত এসব চশমা বাজারজাত করা হয়, গবেষণায় সেই ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাওয়া যায়নি।

চোখে চাপ পড়ে কেন?

চিকিৎসকদের মতে, স্ক্রিন দেখার কারণে চোখে যে ক্লান্তি তৈরি হয়, তার প্রধান কারণ নীল আলো নয়। বরং স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় মানুষ অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে সম্পূর্ণ পলক ফেলেন না। ফলে চোখের ওপরের আর্দ্রতা কমে চোখের পৃষ্ঠ শুষ্ক হয়ে যায়।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় কাছ থেকে স্ক্রিন দেখার কারণে চোখের ফোকাস করার পেশিগুলোকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে স্ক্রিনের ভুল উচ্চতা, চোখ থেকে স্ক্রিনের ভুল দূরত্ব কিংবা এক-দুই বছর পুরোনো চশমার পাওয়ার যুক্ত হলে চোখে ক্লান্তি আরও বাড়তে পারে। রোগীরা স্ক্রিন দেখার পর সাধারণত যে ধরনের অস্বস্তির কথা জানান, এর প্রায় সবকিছুর সঙ্গেই এসব কারণের সম্পর্ক রয়েছে। নির্দিষ্টভাবে নীল আলোর সঙ্গে এর সম্পর্ক খুব বেশি নয়।

তাহলে কি ব্লু-লাইট চশমার প্রয়োজন নেই?

তবে ঘুমের ক্ষেত্রে নীল আলোর কিছুটা প্রভাব রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, সন্ধ্যার সময় নীল আলো মেলাটোনিনের নিঃসরণ কমিয়ে দিতে পারে এবং ঘুমের সময়সূচিতে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই ঘুমানোর আগে নীল আলো কমাতে পারে এমন লেন্সের কিছুটা যৌক্তিক ভূমিকা থাকতে পারে।

তবে এর প্রভাবও খুব বেশি নয়। ঘুমানোর আগে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে দেওয়া কিংবা ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ করলেও প্রায় একই ধরনের উপকার পাওয়া যেতে পারে। এর জন্য আলাদা করে ব্লু-লাইট চশমা ব্যবহারের প্রয়োজন নাও হতে পারে।

চোখের ক্লান্তি কমাতে যা করবেন

দিনের বেলায় স্ক্রিন ব্যবহারে চোখের ক্লান্তি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলো খুব সাধারণ। এর মধ্যে রয়েছে ২০-২০-২০ নিয়ম। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো। এতে চোখের ক্লান্তি কমে।

এ ছাড়া সচেতনভাবে সম্পূর্ণ পলক ফেলার অভ্যাসও উপকারী। স্ক্রিনের উচ্চতা ও চোখ থেকে এর দূরত্ব সঠিক রাখা এবং পুরোনো চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করাও জরুরি।

চোখের বিশেষজ্ঞের মতে, ব্লু-লাইট চশমা বিপজ্জনক নয়। তবে যে সমস্যার সমাধানের জন্য এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেটি অনেক ক্ষেত্রেই চোখের ক্লান্তির প্রকৃত কারণ নয়। ফলে চশমা কেনার আগে চোখে চাপ পড়ার আসল কারণগুলো চিহ্নিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম