ওজন কমানোর ওষুধ কি হতাশা-আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে নতুন গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ এএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্প্রতি ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হতাশা (ডিপ্রেশন) এবং আত্মহত্যার চিন্তার উচ্চ ঝুঁকির একটি যোগসূত্র পাওয়ার কথা জানিয়েছে নতুন একটি গবেষণা।
দক্ষিণ কোরিয়ার গবেষকরা প্রায় ২৭ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এর মধ্যে ৮৪৬ জন মানুষ জানিয়েছেন যে তারা চিকিৎসকের পরামর্শে ওজন কমানোর ওষুধ খেয়েছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহার করেছেন, ওষুধ খাননি এমন মানুষের তুলনায় তাদের মধ্যে হতাশার শিকার হওয়ার ঝুঁকি ৯৩ শতাংশ বেশি এবং আত্মহত্যার চিন্তা আসার ঝুঁকি ১৬৮ শতাংশ বেশি।
এ ছাড়া গবেষকরা প্রায় ১০ বছর ধরে জিএলপি-১ জাতীয় ওষুধ ব্যবহারকারীদের ওপরও নজর রেখেছেন। তারা দেখতে পেয়েছেন, ওষুধ খাওয়ার পর যাদের ওজন আবার আগের মতো বেড়ে গেছে, তাদের মধ্যে মানসিক সমস্যার ঝুঁকি আরও বেশি।
গবেষক দলের প্রধান ড. কিউং-ইয়ং সন ও তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন, ওজন কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সাথে মানসিক অবসাদ ও আত্মহত্যার প্রবণতার যোগসূত্র রয়েছে। বিশেষ করে ওষুধ বন্ধ করার পর যাদের ওজন আবার বেড়ে যায়, তাদের ঝুঁকি বেশি থাকে।
গবেষকদের মতে, ওষুধ খাওয়ার পরও ওজন আবার বেড়ে গেলে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এই গবেষণাটি শুধু ওষুধ খাওয়ার সাথে মানসিক সমস্যার একটি ‘যোগসূত্র’ বা সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছে। এর মানে এই নয় যে ওষুধগুলো সরাসরি হতাশা বা আত্মহত্যার কারণ।
স্থূলতা দূর করার ওষুধগুলোর কারণে মনে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিয়ে চলমান গবেষণাতেই এই নতুন তথ্য যোগ হলো।
উল্লেখ্য, ওজন কমানোর ওষুধের সাথে আত্মহত্যার চিন্তার কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা নিয়ে এর আগেও নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর কাছে এমন শত শত অভিযোগ জমা পড়েছে। অনেক রোগী জানিয়েছেন, এই ওষুধ খাওয়ার সময় তাদের মনে চরম নিরাশা ও আত্মহত্যার চিন্তা ভর করেছিল। এমনকি কিছু রোগীর দাবি, এর আগে তাদের কখনো মানসিক কোনো সমস্যা ছিল না, কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরই তাদের মধ্যে এই লক্ষণগুলো দেখা দেয়।
সূত্র: সামা টিভি

