ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে সতর্ক হোন, বাড়তে পারে আরও ৩ রোগের ঝুঁকি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে আমরা সাধারণত প্রতিটি রোগকে আলাদাভাবে বিবেচনা করি। যেমন—লিভারে চর্বি জমা বা ফ্যাটি লিভার এবং কোলনোস্কোপিতে ধরা পড়া পলিপকে আমরা আলাদা সমস্যা মনে করি।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের এই রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে গভীর ও অদৃশ্য এক যোগসূত্র। সহজ কথায়, রোগগুলোরও যেন একেকটি ‘জোড়’ বা জুটি রয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত ক্যাংবুক স্যামসাং হসপিটাল হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টার প্রায় চার লাখ সুস্থ মানুষের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য সামনে এনেছে।
মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দুই শতাধিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা দেখেছেন যে, শরীরের একটি অঙ্গের অসুস্থতা একা থাকে না, বরং এটি অন্য অঙ্গের রোগের কারণ বা সংকেত হতে পারে।
ফ্যাটি লিভার ও কিডনির সঙ্গে বিপাকীয় রোগের যোগসূত্র
শরীরের একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে সমস্যা দেখা দিলে তা শুধু সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
ফ্যাটি লিভার: লিভারে চর্বি জমার সমস্যা শুধু লিভারকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এটি ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ এবং হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
কিডনিতে পাথর: আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার সময় অনেক সময় আকস্মিকভাবে কিডনিতে ছোট পাথর ধরা পড়ে। একে সাধারণ মনে হলেও চিকিৎসকরা বলছেন, এর সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকিও জড়িত থাকতে পারে।
মেনোপজ: নারীদের মেনোপজের সময় শুধু অতিরিক্ত গরম লাগার সমস্যাই হয় না, এর সঙ্গে ঘুমের সমস্যা, মানসিক অবসাদ, এমনকি শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার মতো জটিলতাও একসঙ্গে যুক্ত থাকে।
আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ স্থূলতা কি আসলেই নিরাপদ?
কিছু মানুষের ওজন বেশি থাকলেও তাদের রক্তচাপ, ব্লাড সুগার এবং কোলেস্টেরল থাকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। একে বলা হয় ‘সুস্থ স্থূলতা’।
অনেকে মনে করেন ওজন বেশি হলেও যেহেতু রোগবালাই নেই, তাই হয়তো কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় এই ‘সুস্থ ও অতিরিক্ত ওজনের’ মানুষদের মধ্যেও পরবর্তীতে হৃদরোগ, কিডনি রোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে।
করণীয় কী?
‘রোগের জোড়’ থাকার অর্থ এই নয় যে একটি রোগ সরাসরি অন্য রোগটি সৃষ্টি করে। এর আসল অর্থ হলো—শরীরের ভেতরে মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়ায় কোনো বড় গণ্ডগোল (যেমন অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, ভুল খাদ্যাভ্যাস বা অনিদ্রা) চলছে, যা একসঙ্গে শরীরের একাধিক অঙ্গে প্রভাব ফেলছে।
তাই স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ছোট কোনো রোগ বা সমস্যা ধরা পড়লেও শুধু সেটির চিকিৎসা করলেই চলবে না। শরীরের সামগ্রিক বিপাকীয় স্বাস্থ্য, রক্তচাপ, সুগার ও ওজন নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী একসঙ্গে সবকিছু পরীক্ষা ও পরিচর্যা করা উচিত।

