দাঁতের এনামেল ক্ষয় ঠেকাতে যা করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দাঁতের সবচেয়ে বাইরের ও শক্ত স্তর হলো এনামেল, যা দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এনামেল ক্ষয় হলে দাঁতের শিরশিরানি, ক্ষয় ও গর্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। প্লাকের ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করে এ ক্ষয় ত্বরান্বিত করে। একবার এনামেলের বড় অংশ নষ্ট হলে শরীর স্বাভাবিকভাবে তা পুনর্গঠন করতে পারে না।
কোন খাবারে এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
এনামেল অত্যন্ত শক্ত হলেও পুরোপুরি ক্ষয়রোধী নয়। প্রতিদিন কোমল পানীয়, লেবুজাতীয় ফল, ফলের রসসহ বিভিন্ন খাবার ও পানীয়ের অ্যাসিডের সংস্পর্শে আসে দাঁত। এমনকি কিছু স্বাস্থ্যকর খাবারেও অ্যাসিড থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, দাঁতের ক্ষয়জনিত সমস্যায় আক্রান্ত ৮৪ দশমিক ৮ শতাংশ রোগীর খাবারে অ্যাসিড গ্রহণের হার বেশি।
তবে এনামেলের ক্ষয় সরাসরি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয় না। অন্যদিকে দাঁতের প্লাকে থাকা ব্যাকটেরিয়া খাবারের চিনি থেকে অ্যাসিড তৈরি করে, যা দাঁতে ক্ষয় সৃষ্টি করতে পারে। ঘন ঘন খাবার খাওয়া, মুখের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, মুখ শুষ্ক থাকা এবং কিছু জীবনযাপন-সংক্রান্ত অভ্যাস এনামেলের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
কীভাবে এনামেল সুরক্ষিত রাখা যায়?
এনামেল সুরক্ষার মূল লক্ষ্য হলো ক্ষয়ের কারণগুলো কমানো এবং ভবিষ্যতে আরও ক্ষতি ঠেকানো। এর জন্য দৈনন্দিন চিনি ও অতিরিক্ত অ্যাসিডযুক্ত খাবার ও পানীয় কম খাওয়া, অ্যাসিডযুক্ত পানীয় গ্রহণের পর পানি দিয়ে মুখ কুলকুচি করা এবং নিয়মিত মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি। পাশাপাশি নরম ব্রিসলের টুথব্রাশ ব্যবহার করলে অপ্রয়োজনীয় ঘর্ষণ কমানো যায়।
দিনে দুবার বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত ব্রাশ করাও গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লোরাইড প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত এনামেলের পুনখনিজায়নে সহায়তা করে এবং এনামেলকে শক্তিশালী করে। ফলে অ্যাসিডের আক্রমণ প্রতিরোধে দাঁত আরও সক্ষম হয়ে ওঠে।
নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াও এনামেল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। রোগী নিজে টের পাওয়ার আগেই চিকিৎসক এনামেলের ক্ষয়ের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে পারেন এবং বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এনামেল কীভাবে শক্তিশালী হয়?
এনামেল সুরক্ষার পাশাপাশি একে শক্তিশালী করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সারা দিন দাঁতের এনামেলে খনিজ হারানো ও পুনরায় খনিজ যুক্ত হওয়ার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে। একে বলা হয় ডিমিনারেলাইজেশন ও রিমিনারেলাইজেশন বা খনিজায়ন ও পুনখনিজায়ন।
দাঁতের এনামেলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্রিটিক্যাল পিএইচ’ প্রায় ৫ দশমিক ৫। মুখের ভেতর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়লে বা পিএইচ কমে গেলে এনামেল থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মতো খনিজ বের হয়ে যেতে থাকে। তবে মুখের পরিবেশ আবার স্বাভাবিক হলে লালা কিছুটা হারানো খনিজ ফিরিয়ে দিতে পারে।
সমস্যা হয় যখন বারবার বা দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাসিডের আক্রমণ চলতে থাকে। তখন পুনখনিজায়নের চেয়ে খনিজ হারানোর হার বেড়ে যায়। ধীরে ধীরে এনামেল দুর্বল হয়ে দাঁতের ক্ষয় এবং আরও এনামেল হারানোর ঝুঁকি বাড়ে।
এ ক্ষেত্রে কিছু আধুনিক টুথপেস্টের উপাদান সহায়ক হতে পারে। আরজিনিন ও ফ্লোরাইডের সমন্বয়যুক্ত কিছু প্রযুক্তি এনামেলকে অ্যাসিডের ক্ষতি থেকে সুরক্ষার পাশাপাশি পুনখনিজায়নেও সহায়তা করে।
তবে এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ হারিয়ে যাওয়া এনামেল পুনরায় তৈরি করা সম্ভব নয়। বরং যেসব অংশে খনিজ কমে গেছে কিন্তু কাঠামোগতভাবে এখনও অক্ষত রয়েছে, সেসব অংশকে শক্তিশালী করতে এটি সহায়তা করে।
টুথপেস্ট বাছাইয়ে কী দেখবেন?
বিশ্বের মুখের যত্নের পণ্যের বাজারে হাজারো পণ্য রয়েছে। এসব পণ্যের অনেকগুলোতেই এনামেল সুরক্ষা বা শক্তিশালী করার আকর্ষণীয় দাবি থাকে। তবে শুধু প্যাকেটের প্রচারণামূলক বক্তব্য দেখে পণ্য বেছে নেওয়া উচিত নয়।
পণ্য কেনার সময় শুধু বিজ্ঞাপনের দাবি নয়, প্রমাণভিত্তিক উপাদানের দিকে নজর দেওয়া উচিত। দাঁতে শিরশিরানি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য বেছে নেওয়া ভালো।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ ইতোমধ্যে দাঁতের ক্ষয় ও এনামেল ক্ষয়ের সমস্যায় ভুগছেন বলে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল তথ্য-উপাত্তে উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন দাঁত সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করা, নিয়মিত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষিত মুখের যত্নের পণ্য ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। এনামেল একবার বড় ধরনের ক্ষতির কারণে হারিয়ে গেলে তা স্বাভাবিকভাবে ফিরে আসে না। তাই ক্ষতি হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়াই দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


