ফিটনেস বাড়াতে প্রতিদিনের রুটিনে রাখুন এই ৫ অভ্যাস
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
শরীরচর্চা শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ফিট ও সুস্থ শরীর গড়তে কেবল কঠোর ডায়েট বা জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় কাটানোই যে একমাত্র উপায় নয়, তা বলছেন ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রতিদিনের কিছু সহজ ও নিয়মিত অভ্যাসই শরীরের গঠন ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এমন অভ্যাস বেছে নেওয়া, যা দীর্ঘমেয়াদে সহজে মেনে চলা সম্ভব।
প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করুন
শরীরচর্চা শুরু করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো নিয়মিত হাঁটা। অনেক সময় এটিকে গুরুত্ব দেওয়া না হলেও হাঁটা হৃদ্স্বাস্থ্যের উন্নতি, অস্থিসন্ধির কার্যকারিতা বৃদ্ধি, মানসিক প্রশান্তি এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটা বার্ধক্যের প্রভাবও কিছুটা কমাতে পারে। শুরুতেই বেশি হাঁটার প্রয়োজন নেই; নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী শুরু করে ধীরে ধীরে সময় ও দূরত্ব বাড়ানো যেতে পারে।
সপ্তাহে অন্তত দুদিন ওজনভিত্তিক ব্যায়াম
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ক্ষয় এবং হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া স্বাভাবিক হলেও নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিং বা ওজনভিত্তিক ব্যায়ামের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া ধীর করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের ব্যায়াম পেশির শক্তি ও ভর বজায় রাখতে, হাড় মজবুত করতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে। ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে, ভারসাম্য রক্ষা সহজ হয় এবং আঘাতের ঝুঁকিও কমে।
প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারকে গুরুত্ব দিন
সুস্থ শরীর গঠনে পুষ্টিকর খাদ্যের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত দুটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। পর্যাপ্ত প্রোটিন পেশি পুনর্গঠনে সাহায্য করে, শরীরের চর্বির ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। এতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঘরে রান্না করা খাবার বেশি খান
দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে ঘরে তৈরি খাবারের বিকল্প নেই। বাড়িতে রান্না করলে উপকরণ, তেল-মশলা এবং খাবারের পরিমাণ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অন্যদিকে, বাইরে বা প্যাকেটজাত খাবারে অতিরিক্ত ক্যালোরি, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য ঘরে তৈরি খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন
ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেকেরই ঘুমের অভ্যাস অনিয়মিত হয়ে পড়ে। অথচ পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম সুস্থ শরীরের অন্যতম ভিত্তি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন সাত ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুম এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও জাগার অভ্যাস পেশি পুনর্গঠন, হরমোনের ভারসাম্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং মানসিক সতেজতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ফিট থাকতে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

