Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কোলাজেন কতটা উপকারী?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে কোলাজেন কতটা উপকারী?

ফাইল ছবি

Advertisement

স্বাস্থ্য ও সুস্থতার আলোচনায় কোলাজেন এখন বেশ পরিচিত একটি শব্দ। ত্বকের সৌন্দর্য থেকে শুরু করে হাড়, জোড় ও পেশির সুস্থতা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোলাজেনের ভূমিকা রয়েছে। তবে কোলাজেন আসলে কী এবং এটি শরীরের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ, তা অনেকেরই অজানা।

কোলাজেন কী?

কোলাজেন শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত প্রোটিন। ত্বক, হাড়, টেনডন, লিগামেন্টসহ শরীরের বিভিন্ন সংযোগকারী টিস্যুর বড় একটি অংশ কোলাজেন দিয়ে তৈরি। এটি অনেকটা কাঠামো বা ভাড়ার মতো কাজ করে, যা শরীরের বিভিন্ন টিস্যুকে শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা দিতে সাহায্য করে।

মানবদেহে অন্তত ২৮ ধরনের কোলাজেন রয়েছে। এর মধ্যে টাইপ-১, টাইপ-২ ও টাইপ-৩ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

কোলাজেন পেপটাইড কী?

কোলাজেন পেপটাইড হলো কোলাজেন থেকে পাওয়া ছোট ছোট অ্যামিনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল। আকারে ছোট হওয়ায় এগুলো শরীরে তুলনামূলক সহজে শোষিত হয়। কোলাজেন পেপটাইড সাধারণত গবাদিপশু ও সামুদ্রিক উৎস থেকে তৈরি করা হয়।

সামুদ্রিক কোলাজেন মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী থেকে পাওয়া যায়। এতে মূলত টাইপ-১ কোলাজেন থাকে, যা বিশেষ করে ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কোলাজেনের উপকারিতা

ত্বকের স্বাস্থ্য: ত্বকের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে কোলাজেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোলাজেনের পরিপূরক গ্রহণ ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি ত্বকের গঠন বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ইলাস্টিন ও ফাইব্রিলিনের মতো প্রোটিন তৈরিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

হাড় ও জোড়ের স্বাস্থ্য: জোড়কে সুরক্ষিত রাখতে তরুণাস্থির অখণ্ডতা বজায় রাখা জরুরি। এতে কোলাজেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে কোলাজেন তৈরির পরিমাণ কমে যেতে পারে। কোলাজেন পেপটাইডের পরিপূরক গ্রহণ জোড়ের ব্যথা কমাতে এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের কিছু উপসর্গ উন্নত করতে সহায়তা করতে পারে।

চুল ও নখ: চুল ও নখের শক্তি ও বৃদ্ধিতেও কোলাজেন ভূমিকা রাখে। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন হলেও কিছু গবেষণায় কোলাজেনের পরিপূরকের সম্ভাব্য উপকারের কথা বলা হয়েছে।

পেশি: পেশির টিস্যুতেও কোলাজেনের উপস্থিতি রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সের সঙ্গে পেশির ভর কমে যাওয়ার সমস্যা সারকোপেনিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের পেশির ভর বাড়াতে কোলাজেনের পরিপূরক কিছুটা সহায়ক হতে পারে।

কোন খাবারে কোলাজেন পাওয়া যায়?

হাড়ের ঝোল কোলাজেনের একটি ভালো উৎস। দীর্ঘ সময় ধরে পশুর হাড় সিদ্ধ করলে কোলাজেন বের হয়ে আসে। মাছ ও সামুদ্রিক খাবারেও কোলাজেন পাওয়া যায়, বিশেষ করে মাছের ত্বকে টাইপ-১ কোলাজেন থাকে।

এ ছাড়া ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোলিন শরীরে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। কমলালেবু, লেবু ও জাম্বুরার মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলও কোলাজেন তৈরির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পালং শাকের মতো সবুজ পাতাযুক্ত সবজি এবং স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি ও রাস্পবেরির মতো বেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও কোলাজেনকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

কোলাজেনের পরিপূরক বেছে নেওয়ার সময়

কোলাজেনের পরিপূরক কেনার ক্ষেত্রে এর ধরন ও উৎস দেখা জরুরি। ত্বক, চুল ও নখের জন্য টাইপ-১ এবং জোড়ের জন্য টাইপ-২ কোলাজেন বেশি ব্যবহৃত হয়। পরিপূরক গবাদিপশু, সামুদ্রিক উৎস থেকে তৈরি হতে পারে।

এ ছাড়া এতে কী কী অতিরিক্ত উপাদান রয়েছে, তা দেখে নেওয়া উচিত। ভিটামিন সি বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিড যুক্ত কিছু পরিপূরক পাওয়া যায়। পণ্য বাছাইয়ের সময় অতিরিক্ত উপাদান, কৃত্রিম উপাদান ও ফিলারের বিষয়টিও খেয়াল করা দরকার। তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষিত ও মাননিয়ন্ত্রিত পণ্য বেছে নেওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে, কোলাজেন শরীরের গঠন ও বিভিন্ন টিস্যুর কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিন। খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মানসম্মত কোলাজেনের পরিপূরক গ্রহণও করা যেতে পারে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম