অল্প বয়সে চুল পড়ার কারণ কী? জানালেন বিশেষজ্ঞ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১০ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চুল পড়ার সমস্যা এখন আর শুধু ৩০ বা ৪০ বছর বয়সি পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইদানিং কিশোর বয়সের শেষ দিকে এবং ২০-এর কোঠায় থাকা অনেক তরুণই চুল পড়া, কপালের চুল পেছনে সরে যাওয়া কিংবা মাথার মাঝখানে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর কারণ কী? বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস নাকি শরীরচর্চায় ব্যবহৃত ক্রিয়েটিন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত একটি কারণে নয়, একাধিক কারণেই চুল পড়তে পারে।
বংশগত কারণ
তরুণদের চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বংশগত। বিশেষ করে কপালের চুল পেছনে সরে যাওয়া বা মাথার মাঝখানে ধীরে ধীরে চুল পাতলা হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়া বা পুরুষদের সাধারণ টাক পড়ার প্রবণতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসকরা বলেন, বংশগত কারণে চুলের গোড়া অ্যান্ড্রোজেন হরমোনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হতে পারে। বিশেষ করে ডাইহাইড্রোটেস্টোস্টেরন (ডিএইচটি) হরমোনের প্রভাবে এসব চুলের গোড়া ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যায়। ফলে সময়ের সঙ্গে চুল পাতলা ও ছোট হতে থাকে।
এ ধরনের বংশগত প্রবণতা শুধু মায়ের দিক থেকেই আসে—এ ধারণা ভুল। পরিবারের বাবা বা মা উভয় দিক থেকেই এর প্রভাব আসতে পারে।
বিশেষজ্ঞের মতে, চুল পড়ার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। কপালের দুই পাশের চুল ধীরে ধীরে পেছনে সরে যাওয়া, মাথার মাঝখানে চুল পাতলা হওয়া এবং চুল ক্রমে সরু হয়ে যাওয়ার ধরন হঠাৎ করে সারা মাথায় চুল পড়ার চেয়ে আলাদা।
মানসিক চাপ
বর্তমান জীবনযাত্রার নানা বিষয় চুলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। পরীক্ষা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, মানসিক উদ্বেগ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দ্রুত ওজন কমানো এবং বিভিন্ন অসুস্থতা চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধির চক্রে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ক্ষেত্রে টেলোজেন এফ্লুভিয়াম নামে একটি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সংখ্যক চুল অকালেই ঝরে পড়ার পর্যায়ে চলে যায়। তবে কোনো মানসিক চাপ বা অসুস্থতার কয়েক মাস পর চুল পড়া শুরু হতে পারে। এ কারণে অনেকেই চুল পড়ার সঙ্গে আগের কোনো চাপ বা অসুস্থতার সম্পর্ক বুঝতে পারেন না।
ক্রিয়েটিন কি চুল পড়ার কারণ?
শরীরচর্চা করা তরুণদের মধ্যে ক্রিয়েটিন ব্যবহারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে ক্রিয়েটিন সরাসরি চুল পড়ার কারণ—এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ক্রিয়েটিন নিয়ে উদ্বেগের মূল কারণ কিছু গবেষণায় ডিএইচটি হরমোনের মাত্রার পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে আসা। তবে কোনো হরমোনের মাত্রা বাড়লেই ক্রিয়েটিনের কারণে ক্লিনিক্যালি সিগনিফিক্যান্ট বা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় চুল পড়বে—এমনটা বলা যায় না।
যাদের বংশগতভাবে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেশিয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তারা ক্রিয়েটিন ব্যবহারের সময় চুলের ঘনত্ব ও চুল পড়ার ধরনে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। বর্তমানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সব তরুণকে ক্রিয়েটিন চুল পড়ার কারণ হবে—এমন সতর্কতা দেওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ নেই।
খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন
বিশেষজ্ঞের মতে, শরীরের বেঁচে থাকার জন্য চুল অপরিহার্য অঙ্গ নয়। তাই শরীরে পুষ্টির ঘাটতি বা শারীরিক চাপ তৈরি হলে শরীর চুলের বৃদ্ধির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে পারে।
পর্যাপ্ত প্রোটিন না খাওয়া, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং আয়রনসহ বিভিন্ন পুষ্টির ঘাটতি কিছু মানুষের চুল পড়ার কারণ হতে পারে। তবে চুল পড়লেই যে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি রয়েছে, তা নয়। তাই কারণ না জেনে নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি-পরিপূরক গ্রহণ করাও সমাধান নয়।


