আবহাওয়া যেভাবে মানুষের মন ও মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালে ঝলমলে রোদ দেখে মনটা ফুরফুরে হয়ে যাওয়া কিংবা একটানা বৃষ্টিতে হঠাৎ করেই বিষণ্ণ বা অলস বোধ করা—এমন অভিজ্ঞতা কি আপনার হয়েছে?
আবহাওয়ার সঙ্গে আমাদের শরীরের সম্পর্কটা যে কেবল তাপমাত্রার ওঠানামার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সরাসরি আমাদের মন ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে—এ কথাই উঠে এসেছে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক ট্রেভর হার্লির বই ‘হেড ইন দ্য ক্লাউডস: হাউ দ্য ওয়েদার অ্যাফেক্টস আওয়ার মাইন্ডস অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ’-এ।
আবহাওয়ার আলো, তাপমাত্রা, বৃষ্টি কিংবা ঋতু পরিবর্তনের এই খেলা আমাদের দৈনন্দিন মেজাজ ও আচরণকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা নিয়ে বইটিতে রয়েছে চমৎকার কিছু তথ্য।
১. আবহাওয়া ও মানসিক স্বাস্থ্য
আমাদের মন কোনো আলাদা সত্তা নয়, বরং তা আবহাওয়ার মাঝেই বসবাস করে।
শীতকালে সূর্যের আলোর অভাবে অনেকের মধ্যে একধরনের অবসাদ দেখা দেয়, যাকে বলা হয় ‘সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে এসএডি। এই সমস্যায় ভোগা মানুষেরা শীতের দিনে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘুম ঘুম ভাব ও হতাশায় ভোগেন। এর পেছনে মূল কারণ হলো অপর্যাপ্ত আলো, যা আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা অভ্যন্তরীণ সময় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে গুলিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, গরম আবহাওয়াও আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরমে মানুষের বিরক্তি ও মেজাজ হারানোর প্রবণতা বেড়ে যায়, বিঘ্নিত হয় ঘুম। আবার শীতের আমেজ বা মিষ্টি রোদ অনেক সময় মনে এনে দেয় অন্যরকম প্রশান্তি।
২. আচরণে আবহাওয়ার প্রভাব
আমাদের একেকজনের ব্যক্তিত্ব যেমন আলাদা, তেমনি আবহাওয়া নিয়ে রয়েছে একেক রকম পছন্দ।
কেউ তীব্র গরমে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন, আবার কেউ বর্ষার বৃষ্টিতে পান অদ্ভুত শান্তি। তবে কিছু সাধারণ মিলও দেখা যায়। যেমন, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া মানুষকে সহজে খিটখিটে ও আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, রোদ আমাদের সামাজিক ও সৃজনশীল করে তোলে, আর মেঘলা বা বৃষ্টির দিনগুলো আমাদের আরও বেশি মননশীল ও গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করে। বৃষ্টির পর মাটির সেই পরিচিত গন্ধ বা বৃষ্টির একটানা শব্দ আমাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা অনেক সময় আমাদের একটু ধীরস্থির হতে ও বিশ্রাম নিতে সাহায্য করে।
৩. নিজের আচরণ পরিবর্তন করা সম্ভব
আবহাওয়াকে তো আর আমাদের ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, কিন্তু আবহাওয়ার কারণে নিজের ভেতর যে পরিবর্তন আসে, তা আমরা সামলে নিতে পারি। যেমন—গরমের দিনে অপ্রয়োজনীয় তর্কে না জড়ানো, শীতের দিনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা কিংবা বৃষ্টির দিনটিকে নিজের মতো করে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো।
আবহাওয়া আমাদের চারপাশে যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনি আমরাও নিজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার ক্ষমতা রাখি।
৪. জন্মের মাস কি প্রভাব ফেলে?
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ বছরের কোন সময়ে বা ঋতুতে জন্ম নিয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেও তাদের ব্যক্তিত্ব বা কিছু মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সামান্য যোগসূত্র থাকতে পারে। গর্ভকালীন বা শৈশবের শুরুর দিকে আলো, তাপমাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসের ভিন্নতা মানুষের শরীর ও মানসিক গঠনে ছোট হলেও স্থায়ী ছাপ রেখে যায়।
৫. আবহাওয়ায় থাকুক বিস্ময় ও মুগ্ধতা
বৃষ্টির পর হুট করে রোদ ওঠার দৃশ্য, শীতের সকালে তুষারপাত কিংবা ঝড়ের আগের মেঘের গর্জন—প্রকৃতির এই রূপগুলো আমাদের মনে একধরনের বিস্ময় ও প্রশান্তি এনে দেয়। এই বিস্ময়বোধ আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।
ব্যস্ত জীবনের নানা চাপের মাঝে কেবল একটু চোখ তুলে আকাশটার দিকে তাকালেই মন ভালো হয়ে যেতে পারে। প্রকৃতির এই রূপ বদলকে মেনে নিয়ে এবং আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চললেই জীবনকে আরও সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলা সম্ভব।

