বাজারে কলা কিনছেন? গাছপাকা নাকি কৃত্রিমভাবে পাকানো, বুঝবেন যেভাবে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৯ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিকেলের হালকা খাবার, কলা অনেকেরই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকার অংশ। সহজলভ্য, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ও সহজে খাওয়া যায় বলে সব বয়সের মানুষের কাছেই এই ফলের চাহিদা রয়েছে। তবে বাজারে কলা কিনতে গিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে, কলাটি কি স্বাভাবিকভাবে পেকেছে, নাকি দ্রুত পাকানোর জন্য কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে?
কলার খোসার রং, দাগ বা ডাঁটার অবস্থা দেখে অনেকেই ফলের মান সম্পর্কে ধারণা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শুধু এসব লক্ষণ দেখে কলা কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। পরিবহণের সময় চাপ লাগা, সংরক্ষণের ধরন, বাতাসের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণেও কলার খোসায় দাগ বা রঙের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
আসলে বাজারজাত করার সুবিধার জন্য অনেক সময় কলা পুরোপুরি পাকার আগেই গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরে নির্দিষ্ট পরিবেশে রাখা হলে তা ধীরে ধীরে পাকে। ফল পাকানোর এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় ইথাইলিন নামের একটি উদ্ভিদ হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ্ধতিতে ইথাইলিন ব্যবহার করে ফল পাকানোর প্রক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই ইথাইলিন ব্যবহৃত হলেই কলা ক্ষতিকর হয়ে যায়, এমন ধারনা সঠিক নয়।
তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কিছু ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বা অননুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করে দ্রুত ফল পাকানোর চেষ্টা করা হয়। এর ফলে ক্যালসিয়াম কার্বাইড অন্যতম আলোচিত উপাদান। এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কলা কেনার সময় তাই কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা দরকার। অস্বাভাবিক তীব্র বা রাসায়নিক গন্ধ থাকলে সেই কলা এড়িয়ে চলা ভালো। একইভাবে খুব উজ্জ্বল হলুদ রং, অস্বাভাবিক শক্ত কিন্তু পাকা দেখানো বা অস্বাভাবিক ধরনের দাগ থাকলেও সতর্ক হওয়া উচিত।
বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে ফল কেরা এবং বাড়িতে আনার সময় সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।কলা অতিরিক্ত নরম হয়ে গেলে, পচনের গন্ধ এলে বা ছত্রাকের লক্ষণ দেখা দিলে তা না খাওয়াই নিরাপদ।
শুধু কলার খোসার রং বা ডাটা দেখে করা কৃত্রিমভাবে পাকানো হয়েছে তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তাই নিরাপদ উৎস থেকে ফল কেনা এবং স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
