কানে পানি ঢুকেছে? কোন উপসর্গ দেখেও চিকিৎসকের কাছে না গেলে হারাতে পারেন শ্রবণশক্তি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোসল বা সাঁতার কাটার সময় কানে পানি ঢুকে যাওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কানে ঢোকা পানি কিছু সময়ের মধ্যেই নিজে থেকে বেরিয়ে যায় বা শুকিয়ে যায়। তবে পানি আটকে থাকার পর কানে ব্যথা, অস্বস্তি কিংবা শুনতে সমস্যা হলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কারণ দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা থাকলে বাইরের কানে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কানে পানি ঢোকার পর অনেকেই অস্বস্তি দূর করতে ইয়ারবাড, আঙুল কিংবা অন্য কোনো ধারালো জিনিস দিয়ে কান খোঁচাতে শুরু করেন। এতে কানের ভেতরের ত্বকে ক্ষত তৈরি হয়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এ ধরনের কাজ এড়িয়ে চলা জরুরি।
কানে পানি ঢুকলে কী করবেন?
কানে পানি ঢোকার পর প্রথমে মাথা পানি ঢোকা কানের দিকে কাত করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারেন। কানের বাইরের অংশ আলতোভাবে মুছে নিন এবং স্বাভাবিকভাবে পানি বের হওয়ার সুযোগ দিন।
পানি সহজে বের না হলে কানের লতি আলতোভাবে বিভিন্ন দিকে টেনে মাথা কাত করে রাখতে পারেন। এতে কানের পথ কিছুটা সোজা হওয়ায় পানি বের হতে সহায়তা করতে পারে।
প্রয়োজনে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটি কানের খুব কাছে না এনে কম তাপমাত্রা ও কম গতিতে ব্যবহার করতে হবে। গরম বাতাস সরাসরি কানের ভেতরে দেওয়া উচিত নয়।
কানে পানি ঢোকার পর জোরে নাক বন্ধ করে শ্বাস ছাড়ার চেষ্টা বা চাপ সৃষ্টি করা ঠিক নয়। এতে কানের পর্দার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। বিশেষ করে কানের পর্দায় ছিদ্র বা আগে থেকে কানের সমস্যা থাকলে এ ধরনের পদ্ধতি ক্ষতিকর হতে পারে।
ইয়ারবাড দিয়ে কান পরিষ্কার করবেন না
কানে পানি ঢোকার পর ইয়ারবাড, কাঠি, আঙুল কিংবা কোনো ধারালো বস্তু দিয়ে ভেতরে খোঁচাখুঁচি করা উচিত নয়। এতে কানের ভেতরের ত্বকে ক্ষত হতে পারে এবং কানের পর্দাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাজারচলতি কোনো কানের ড্রপও ব্যবহার না করাই ভালো। বিশেষ করে কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে কিছু ধরনের ড্রপ ক্ষতিকর হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কানে পানি ঢোকার পর কয়েক দিন ধরে কান বন্ধ লাগা, ব্যথা, চুলকানি বা অস্বস্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে কানে পুঁজ বা তরল বের হওয়া, কান ফুলে যাওয়া, তীব্র ব্যথা, জ্বর কিংবা হঠাৎ শুনতে কম পাওয়া গেলে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।
কানের সংক্রমণ চিকিৎসা না করে ফেলে রাখলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজনে অটোস্কোপের মাধ্যমে কানের ভেতর ও কানের পর্দা পরীক্ষা করতে পারেন। শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে অডিওমেট্রির মতো পরীক্ষাও প্রয়োজন হতে পারে।
তাই কানে পানি ঢোকার পর সামান্য অস্বস্তিতে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা শুনতে সমস্যা শুরু হলে নিজে চিকিৎসা না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: আনন্দবাজার

