Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ, বলছে গবেষণা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৭ পিএম

মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ, বলছে গবেষণা

জরায়ুর ভেতরের আবরণে শুরু হওয়া ক্যানসারকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার বলা হয়।

Advertisement

জরায়ুর ভেতরের আবরণে শুরু হওয়া ক্যানসারকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসার বলা হয়। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এটি নারীদের সবচেয়ে বেশি দেখা গাইনোকলজিক্যাল ক্যানসার। বিশ্বজুড়ে এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

সর্বশেষ গ্লোবোক্যান ২০২৪-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৬২০ জন নতুন করে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ৬৮০ জন। সামগ্রিকভাবে সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে এটি ১৬তম সর্বাধিক দেখা ক্যানসার।

ভারতে ২০২৪ সালে এ রোগে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৮ হাজার ৩০৮ জন এবং মারা গেছেন ৬ হাজার ৩৬২ জন। দেশটিতে গত পাঁচ বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকা নারীর সংখ্যা প্রায় ৭৩ হাজার ৮০০।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস কমে যাওয়া এবং মানুষের গড় আয়ু বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়েই এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। গত তিন দশকে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্তের হার বিশ্বব্যাপী ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক হবেন

এ রোগের একটি ইতিবাচক দিক হলো, এটি সাধারণত দীর্ঘ সময় নীরবে থাকে না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক জরায়ু রক্তপাত। বিশেষ করে মেনোপজের পর যেকোনো ধরনের রক্তপাত এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।

মেনোপজের আগে অনিয়মিত বা স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত রক্তপাতও এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের অস্বাভাবিক রক্তপাতের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এ ছাড়া পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত যোনিপথের স্রাব এবং তলপেটে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হওয়াও লক্ষণ হতে পারে। রোগটি শরীরের আরও অগ্রসর পর্যায়ে গেলে কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া, পেট ফাঁপা এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

তাই মেনোপজের পর রক্তপাতকে কখনোই স্বাভাবিক বয়সজনিত পরিবর্তন হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

যেসব কারণে ঝুঁকি বাড়ে

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর বেশিরভাগই শরীরে পর্যাপ্ত প্রোজেস্টেরনের ভারসাম্য ছাড়া অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেনের সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত।

স্থূলতা, কখনো গর্ভধারণ না হওয়া, অল্প বয়সে মাসিক শুরু হওয়া, দেরিতে মেনোপজ হওয়া, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস), শুধু ইস্ট্রোজেনযুক্ত হরমোন থেরাপি এবং ট্যামোক্সিফেন ব্যবহারে এই ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ ছাড়া টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপও গুরুত্বপূর্ণ বিপাকীয় ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

অন্যদিকে সম্মিলিত ধরনের মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক ব্যবহার, একাধিকবার গর্ভধারণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার সঙ্গে এ রোগের তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায়।

জেনেটিক কারণও গুরুত্বপূর্ণ

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ক্ষেত্রে জেনেটিক কারণও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ‘লিঞ্চ সিনড্রোম’ থাকলে এই ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

লিঞ্চ সিনড্রোম একটি বংশগত রোগ, যা ডিএনএর ভুল সংশোধনের সঙ্গে জড়িত কিছু জিনের পরিবর্তনের কারণে হয়। এই সিনড্রোম থাকলে একজন নারীর জীবদ্দশায় এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

এ কারণেই বর্তমানে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর টিউমারে মিসম্যাচ-রিপেয়ার ব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা নিয়মিত চিকিৎসা পদ্ধতির অংশ হয়ে উঠেছে।

কীভাবে রোগটি শনাক্ত করা হয়

অস্বাভাবিক রক্তপাতের অভিযোগ নিয়ে কোনো নারী চিকিৎসকের কাছে গেলে সাধারণত সেখান থেকেই রোগ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে এ ক্যানসার চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

সাধারণত প্রথমে ট্রান্সভ্যাজাইনাল আল্ট্রাসাউন্ড করা হয়। এরপর রোগ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের চেম্বারেই এন্ডোমেট্রিয়াল বায়োপসি করা হতে পারে।

বায়োপসির নমুনা থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত না পাওয়া গেলে অথবা পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক হলেও রক্তপাত চলতে থাকলে হিস্টেরোস্কপি করে নির্দিষ্ট স্থান থেকে বায়োপসি নেওয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটাজ করা হয়।

ক্যানসার নিশ্চিত হওয়ার পর টিউমারের প্রচলিত গ্রেড ও গঠনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বর্তমানে এর মলিকিউলার বা আণবিক ধরনও নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণে এই তথ্যের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

টিউমার জরায়ুর দেয়ালে কতটা গভীরে ছড়িয়েছে তা বুঝতে পেলভিক এমআরআই করা হয়। আর জরায়ুর বাইরে ক্যানসার ছড়িয়েছে কি না তা দেখতে উচ্চ ঝুঁকির বা অগ্রসর রোগীদের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করা হতে পারে।   

চিকিৎসা কী

বর্তমানে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের চিকিৎসায় টিউমারের মলিকিউলার ধরনকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণত জরায়ু অপসারণের পাশাপাশি দুই পাশের ফ্যালোপিয়ান টিউব ও ডিম্বাশয়ও অপসারণ করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী লিম্ফ নোড পরীক্ষা করা হয়।

প্রাথমিক পর্যায়ের কম ঝুঁকির ক্যানসার অনেক ক্ষেত্রেই শুধু অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব। তবে ঝুঁকি বেশি হলে বা রোগ অগ্রসর পর্যায়ে থাকলে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে মিসম্যাচ-রিপেয়ার ঘাটতিযুক্ত টিউমারের ক্ষেত্রে বর্তমানে ইমিউনোথেরাপিও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

মলিকিউলার প্রোফাইলিং ও লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা দ্রুত এগিয়ে চলায় চিকিৎসা পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আসছে। তাই রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে নিয়মিত আলোচনা এবং ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো সচেতনতা। 

সূত্র: দ্যা সাইন্স ডেইলি 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

যেসব লক্ষণে বুঝবেন জরায়ুর মুখ ক্যানসার, কেন হয়, প্রতিকারে কী করবেন

যেসব লক্ষণে বুঝবেন জরায়ুর মুখ ক্যানসার, কেন হয়, প্রতিকারে কী করবেন

জরায়ুমুখ ক্যানসারের লক্ষণগুলো কী? কখন সতর্ক হবেন

জরায়ুমুখ ক্যানসারের লক্ষণগুলো কী? কখন সতর্ক হবেন

অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ

অনিয়মিত ঋতুস্রাব হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ

আরও পড়ুন

উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যেসব ওষুধ ভুলেও খাবেন না

উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যেসব ওষুধ ভুলেও খাবেন না

নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে কমতে পারে মস্তিষ্কের বার্ধক্য, বলছে গবেষণা

নির্দিষ্ট খাদ্যাভ্যাসে কমতে পারে মস্তিষ্কের বার্ধক্য, বলছে গবেষণা

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে যেসব মৌসুমি ফল খাবেন

সর্দি-কাশি প্রতিরোধে যেসব মৌসুমি ফল খাবেন

মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ, বলছে গবেষণা

মেনোপজের পর রক্তপাত হতে পারে জরায়ুর ক্যানসারের লক্ষণ, বলছে গবেষণা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম