Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

‘লিভার সিরোসিস’ ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ এএম

‘লিভার সিরোসিস’ ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

Advertisement

আমরা অনেকেই জানি, অতিরিক্ত মদপানের কারণে লিভারের ক্ষতি হয়। তবে কেবল মদপান নয়, আমাদের দৈনন্দিন ভুল জীবনযাপন, রক্তে চর্বি বা শর্করার আধিক্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণের কারণেও লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

এই ধরণের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক পর্যায়কেই চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘লিভার সিরোসিস’। 

সহজ ভাষায় লিভার সিরোসিস কী, এর লক্ষণ, কারণ এবং কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন—চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

লিভার সিরোসিস কী? 

লিভারের কোনো দীর্ঘমেয়াদি ঘা বা প্রদাহের কারণে যখন এর সুস্থ ও স্বাভাবিক টিস্যুগুলো শক্ত স্কার (ক্ষতচিহ্ন বা দাগ) টিস্যুতে পরিণত হয়, তখন তাকে সিরোসিস বলে। 

যখন শক্ত দাগের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়, তখন লিভার তার স্বাভাবিক কাজ—যেমন রক্ত পরিশোধিত করা, খাবার হজমে সাহায্য করা এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি করা—বন্ধ করে দেয়। 

সিরোসিস হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে আর আগের জায়গায় ফিরিয়ে আনা যায় না (এটি রিভার্স করা সম্ভব নয়), তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই ক্ষতি থামিয়ে রাখা যায়। 

সিরোসিসের প্রধান দুটি ধাপ

১. কমপেনসেটেড সিরোসিস (প্রাথমিক ধাপ): এই ধাপে লিভারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাকি সুস্থ অংশটি ক্ষতের ভরপাই করে শরীরকে চালিয়ে নেয়। ফলে শরীরে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। 

২. ডিকম্পেনসেটেড সিরোসিস (উন্নত ধাপ): যখন লিভারের কাজের ক্ষমতা একবারে কমে যায়, তখন শরীরে নানা রকম জটিলতা ও লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। 

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ বোঝা না গেলেও লিভারের কার্যক্ষমতা কমার সঙ্গে সঙ্গে যে লক্ষণগুলো ফুটে ওঠে:

প্রাথমিক লক্ষণ 

পরবর্তী মারাত্মক লক্ষণ 

  • জন্ডিস হওয়া (চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া)। 
  • প্রস্রাবের রঙ গাঢ় এবং পায়খানার রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া। 
  • পেটে পানি জমে পেট ফুলে যাওয়া (অ্যাসাইটিস)। 
  • সারা শরীরে খোসপাঁচড়া বা র্যাশ ছাড়া চুলকানি হওয়া। 
  • ত্বকে খুব সহজে রক্ত জমে যাওয়া বা কেটে গেলে সহজে রক্তপাত না থামা। 

কেন হয় এই রোগ? 

লিভারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা অ্যালার্জি তৈরি করে এমন যেকোনো কারণই সিরোসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো: 

ম্যাশ: রক্তে উচ্চ চর্বি, অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক সমস্যার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এই ক্ষতি হতে পারে। 

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস: দীর্ঘদিনের ভাইরাল সংক্রমণের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

অ্যালকোহল গ্রহণ: দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদপানের অভ্যাস থাকলে। 

অন্যান্য কারণ: অটোইমিউন রোগ, বংশগত কিছু রোগ কিংবা ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত এবং ভুল ব্যবহারের ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

লিভার সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় যা বদলাবেন (প্রতিরোধ ও প্রতিকার)

যদিও সিরোসিস পুরোপুরি ভালো করা যায় না, তবে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন লিভারকে আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে:

১. মদপান ও ক্ষতিকর ওষুধ বর্জন: লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যালকোহল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

২. ওজন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।

৩. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভারের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমে। 

৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন: হেপাটাইটিস ভাইরাসের টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে শুরুতেই লিভারের যেকোনো সমস্যা ধরে ফেলা সম্ভব। 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

কোমল পানীয় কি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

কোমল পানীয় কি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

‘লিভার সিরোসিস’ ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

‘লিভার সিরোসিস’ ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

পানি কম খাচ্ছেন? অজান্তেই যে বিপদে ফেলছেন নিজের হার্টকে

পানি কম খাচ্ছেন? অজান্তেই যে বিপদে ফেলছেন নিজের হার্টকে

প্রতিদিন আদা খেলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক

প্রতিদিন আদা খেলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম