পানি কম খাচ্ছেন? অজান্তেই যে বিপদে ফেলছেন নিজের হার্টকে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ থাকার জন্য প্রোটিন বা ফাইবারের মতো পানির চাহিদাও অপরিসীম। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন প্রায় ২.৭ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন। কিন্তু কাজের ব্যস্ততা বা অলসতায় আমরা অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যাই, কিংবা চেষ্টা করেও খাওয়া হয়ে ওঠে না।
আমরা অনেকেই মনে করি, পানি কম খেলে কেবল তৃষ্ণা লাগে বা একটু ক্লান্তি আসে। কিন্তু আপনি কি জানেন, পানির এই ঘাটতি আপনার হৃদযন্ত্র বা হার্টের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে?
ভারতের দিল্লির ধর্মশিলা নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. প্রদীপ কুমার নায়ক তুলে ধরেছেন কীভাবে সামান্য পানির অভাব আপনার হার্টের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলে।
পানি কম খেলে হার্টে আসলে কী ঘটে?
আমাদের শরীরে রক্তের যে প্রবাহ চলে, তার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে পানি। রক্তপ্রবাহ ও রক্তের সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখতে পানি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
ড. প্রদীপ কুমার নায়ক বলেন, ‘শরীর যখন পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে, তখন রক্তে তরলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্তের মোট পরিমাণও হ্রাস পায়। এখন শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া তো থামানো যাবে না! তাই কম রক্ত নিয়েই হার্টকে দ্রুত ও বাড়তি শক্তিতে পাম্প করতে হয়।’
সহজ কথায়, শরীরে পানি কম থাকলে রক্ত পাতলা রাখার ও সঞ্চালন সচল রাখার জন্য হার্টকে অতিরিক্ত খাটতে হয়। ফলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায় বা বুক ধড়ফড় করতে থাকে।
ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলো
আপনার শরীরে পানির অভাব হচ্ছে কিনা, তা বোঝার প্রধান উপায়গুলো হলো:
- তীব্র তৃষ্ণা পাওয়া এবং মুখ বা ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া।
- প্রস্রাবের রঙ গাঢ় বা ঘন হলুদ হয়ে যাওয়া এবং কম প্রস্রাব হওয়া।
- মাথা ঘোরানো (বিশেষ করে হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে)।
- মাথাব্যথা, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া ও দুর্বলতা।
- হুট করে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা বুকে ধড়ফড়ানি অনুভব করা।
কাদের জন্য ঝুঁকি বেশি?
যেকোনো বয়সের মানুষের পানিশূন্যতা হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে:
১. যারা ভারী ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করেন: শরীরচর্চার সময় প্রচুর ঘাম হয়। এ সময় পানিশূন্যতা পূরণে পানি না খেলে হার্টবিট অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।
২. রোদে বা গরমে কাজ করা মানুষ: কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকলে তৃষ্ণা না পেলেও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যায়।
৩. জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হলে: এই শারীরিক সমস্যাগুলোতে শরীর থেকে একবারে অনেক তরল ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়।
৪. বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের প্রভাব থেকেও বয়স্করা দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েন।
বুক ধড়ফড় শুরু হলে কী করবেন?
পানির অভাবে যদি বুক ধড়ফড় শুরু হয় বা হার্টের গতি বেড়ে যায়, তবে নিচের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:
ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম: কাজের ফাঁকে সাথে সাথে কোনো ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নিন।
ধীরে ধীরে পানি পান: একবারে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে পানি পান করুন।
স্যালাইন গ্রহণ: অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়া হলে সাধারণ পানির বদলে খাবার স্যালাইন খাওয়া বেশি কার্যকর।
চিকিৎসকের পরামর্শ
পর্যাপ্ত পানি খাওয়া ও বিশ্রামের পরও যদি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক না হয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ বুক ধড়ফড় করার পেছনে কেবল পানিশূন্যতা নয়—রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা হার্টের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগও কারণ হতে পারে।
তাই প্রতিদিন নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, সুস্থ থাকুন এবং আপনার হার্টকে রাখুন চিন্তামুক্ত।
