নতুন গবেষণা
রাতে টিভি দেখার অভ্যাস হার্টের যে ক্ষতি করছে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আপনি কি প্রায়ই টিভি চলতে চলতে ঘুমিয়ে পড়েন? আমাদের শরীরে একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম রয়েছে, যা আলো ও অন্ধকারের ওপর গভীরভাবে নির্ভর করে। অন্ধকার আমাদের শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে এবং ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ‘মেলাটোনিন’ তৈরিতে সাহায্য করে। তবে রাতের বেলা কৃত্রিম আলো এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।
ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ১১,০৭১ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর নজরদারি করা হয়। তারা কবজিতে একটি লাইট সেন্সর ডিভাইস পরেছিলেন এবং প্রায় তিন বছর পর তাদের হৃদপিণ্ডের কার্ডিওভাসকুলার এমআরআই স্ক্যান করা হয়।
গবেষকদের মতে, যেসব মানুষ রাতে ৩ লাক্স-এর বেশি আলোর সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাদের হৃদপিণ্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে:
- তাদের বাম ভেন্ট্রিক্যালের ভর ২.৪ শতাংশ বেশি ছিল।
- হৃদপিণ্ডের দেয়ালের গড় পুরুত্ব ১.৫ শতাংশ বেশি ছিল।
- মায়োকার্ডিয়াল সংকোচনের মাত্রা ১.৯ শতাংশ কম ছিল।
এ ছাড়া ডান ভেন্ট্রিক্যাল এবং বাম অলিন্দেও পরিবর্তন দেখা গেছে, যা সামগ্রিকভাবে ‘কনসেন্ট্রিক কার্ডিয়াক রিমডেলিং’ নামে পরিচিত।
ভারতের শালবি ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ড. অনিল ঢল এ বিষয়ে বলেন, ‘এই গবেষণাটি দেখায় যে রাতে অতিরিক্ত আলোর সংস্পর্শে থাকা হৃদপিণ্ডের গঠন ও কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। এমনকি সামান্য আলোর সংস্পর্শেও ক্ষতি হতে পারে।
আর এটি কেবল টিভির আলোতেই সীমাবদ্ধ নয়; রাস্তার বাতি, ঘরের ল্যাম্প বা যেকোনো কৃত্রিম আলোর ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।’
কম ঘুমই কি আসল সমস্যা?
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—কম ঘুমানোর কারণে এই হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। গবেষকদের ধারণা, রাতের আলোর কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটার ফলে যে কম ঘুম হয়, সেটিই এই হৃদপিণ্ডের পরিবর্তনের প্রায় ২৪ শতাংশ থেকে ৪৯ শতাংশ দায়ী।
ড. অনিল ঢল আরও জানান, শুধু টিভির কারণে নয় বরং আমাদের প্রাকৃতিক রাতের পরিবেশ নষ্ট হওয়া, আলোর সংস্পর্শ, ঘুমের ব্যাঘাত এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়াও এই সমস্যার অন্যতম কারণ।
করণীয় কী?
শোবার ঘরে টিভি রাখা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যদি টিভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যাস থাকে, তবে সারারাত সেটি চালিয়ে না রেখে স্লিপ টাইমার সেট করে রাখুন।
পাশাপাশি, ঘরের অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখুন, ঘুমানোর আগে স্ক্রিনের আলো থেকে দূরে থাকুন এবং বাইরে থেকে আসা আলো রোধ করতে পর্দা বা ব্লাইন্ড ব্যবহার করুন।

