Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

শহুরে জীবন বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব, সন্তান নিতে দেরি করলেই ঝুঁকি

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

শহুরে জীবন বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব, সন্তান নিতে দেরি করলেই ঝুঁকি

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

আধুনিক শহুরে জীবনে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা, পরিবর্তিত জীবনধারা এবং নানা পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে জন্মহার ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের ধরণে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে। দেরিতে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়লেও এর পেছনের জৈবিক বাস্তবতা ও ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। ফলস্বরূপ, শহুরে দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।

বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ: জীবনযাপন ও পরিবেশগত চাপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বা তার পরে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা বন্ধ্যাত্ব বৃদ্ধির অন্যতম একটি বড় কারণ। কারণ এই বয়সে নারীদের ডিম্বাশয়ের ক্ষমতা (ওভারিয়ান রিজার্ভ) প্রাকৃতিকভাবেই কমতে শুরু করে।

অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অপর্যাপ্ত ঘুম, ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার অভ্যাস হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।

শারীরিক সমস্যা: নারীদের ক্ষেত্রে পিসিওএস এবং অনিয়মিত পিরিয়ডের মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে।

পুরুষদের উর্বরতা হ্রাস: বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে কেবল নারীরা নন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের বিভিন্ন সমস্যাও দায়ী। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান এবং সক্রিয়তা দিন দিন কমছে।

পরিবেশগত প্রভাব: অতিরিক্ত গরম, দূষণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব প্রজনন স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

শহুরে দম্পতিদের দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতা

বন্ধ্যাত্ব নিয়ে সমাজে এখনো এক ধরনের ট্যাবু বা সংকোচ কাজ করে। বেশিরভাগ দম্পতি বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরই কেবল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ততক্ষণে জৈবিক সময় পেরিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের জন্যও সফলতার হার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

অনেকের মাঝেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা আইভিএফ-এর সহায়তায় যেকোনো বয়সেই সন্তান ধারণ সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর স্বাভাবিক গুণগত মানের যে পতন ঘটে, তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

লক্ষণহীন উর্বরতা হ্রাস ও প্রাথমিক স্ক্রিনিং

নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া মানেই যে উর্বরতা ঠিক আছে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অনেক সময় কোনো বড় লক্ষণ ছাড়াই নীরবে ডিম্বাশয়ের ক্ষমতা কমতে থাকে।

প্রাথমিক পরীক্ষা: এএমএইচ টেস্ট এবং সাধারণ আল্ট্রাসাউন্ডের মতো সহজ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব।

লুকানো রোগ: এন্ডোমেট্রিওসিস বা হরমোনজনিত জটিলতাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। তাই দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নারীদের শেষ ২০ কিংবা ত্রিশের কোঠার শুরুতেই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা প্রি-কনসেপশন কেয়ার নেওয়া উচিত।

প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ: যাদের সন্তান নিতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তারা চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিম্বাণু বা ভ্রূণ হিমায়িত করার মতো আধুনিক পদ্ধতির কথা ভাবতে পারেন।

বন্ধ্যাত্ব কেবল নারীর সমস্যা নয়

আমাদের সমাজে বন্ধ্যাত্বের সম্পূর্ণ দায় সাধারণত নারীদের ওপর চাপানো হয়, যা একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের শুক্রাণুর গুণগত মান এবং ডিএনএ অখণ্ডতাও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায়। তাই বন্ধ্যাত্বকে একক কোনো নারীর সমস্যা না ভেবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের যৌথ সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত। দম্পতিদের উচিত একসঙ্গে প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা।

গর্ভধারনে জটিলতা ও শারীরিক ঝুঁকি

বেশি বয়সে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত শহুরে নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তপাত

জন্মগত ত্রুটি ও প্রিটার্ম বা সময়ের আগে জন্ম

সিজারিয়ান ডেলিভারির উচ্চ হার 

প্রতিক্রিয়াশীল চিকিৎসা থেকে দূরদর্শী পরিকল্পনা

সামাজিক ভীতি বা খরচের চিন্তায় অনেকে সময়মতো চিকিৎসা নিতে চান না। ফলে যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি অনেকখানি জটিল হয়ে যায়। তাই প্রজনন স্বাস্থ্যকে শেষ মুহূর্তের চিকিৎসা না ভেবে বরং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক যত্নের একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত।

কর্মক্ষেত্র ও পরিবারে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই পারে শহুরে দম্পতিদের জন্য সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।

বন্ধ্যাত্বকে কেবল শেষ মুহূর্তের কোনো জটিল সমস্যা হিসেবে না দেখে, একে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক যত্নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সঠিক সময়ে সচেতন পদক্ষেপই পারে একটি সুস্থ ও সুখী পরিবার গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে। 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

শহুরে জীবন বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব, সন্তান নিতে দেরি করলেই ঝুঁকি

শহুরে জীবন বাড়াচ্ছে বন্ধ্যাত্ব, সন্তান নিতে দেরি করলেই ঝুঁকি

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কি জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কি জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

শিশুকে মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে

শিশুকে মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখবেন যেভাবে

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি কি বেশি? যা বলছে গবেষণা

অবিবাহিতদের ক্যানসারের ঝুঁকি কি বেশি? যা বলছে গবেষণা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম