আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কি জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০১ এএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রানি ভিক্টোরিয়া, চার্লস ডারউইন কিংবা অ্যালবার্ট আইনস্টাইন—এদের সবার মধ্যে একটা সাধারণ মিল ছিল। তারা প্রত্যেকেই তাদের প্রথম কাজিন বা চাচাতো-মামাতো ভাইবোনকে বিয়ে করেছিলেন।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে যাদের এত গভীর জ্ঞান, ডারউইনের মতো বিজ্ঞানীও কি বিষয়টি জানতেন না? কারণ কাছের আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হলে তো খারাপ জিনগুলো পরবর্তীতে বাহিত হয়ে মারাত্মক সব জিনগত ত্রুটির সৃষ্টি করে, তাই না?
বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই প্রথম কাজিনের মধ্যে বিয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। তবে পশ্চিমা ইতিহাসের বেশিরভাগ সময় জুড়েই মানুষ বাধ্য হয়ে আশেপাশের মানুষকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিত, যার ফলে প্রায়ই নিজ পরিবারের বা বংশের ভেতরই বিয়ে হতো।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৬৫০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে বিবাহিত দম্পতিদের একটি বড় অংশ ছিল চতুর্থ কাজিন। অর্থাৎ, তাদের সাধারণ পূর্বপুরুষ ছিলেন চৌদ্দ পুরুষের কেউ। জিনের দিক থেকে বিচার করলে তারা মাত্র ০.২০ শতাংশ ডিএনএ শেয়ার করতেন।
প্রথম কাজিনদের (১২.৫ শতাংশ), দ্বিতীয় কাজিনদের (৩.১৩ শতাংশ) বা তৃতীয় কাজিনদের (০.৭৮ শতাংশ) তুলনায় এটি অত্যন্ত সামান্য। মূলত যত বেশি ডিএনএ মিলে যায়, সন্তানের মধ্যে সিস্টিক ফাইব্রোসিস বা সিকল-সেল অ্যানিমিয়ার মতো জিনগত রোগ হওয়ার আশঙ্কাও তত বাড়তে থাকে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: সন্তানকে জিনগত রোগ দেওয়ার জন্য বাবা-মায়ের নিজের সেই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
উদাহরণস্বরূপ ‘সিস্টিক ফাইব্রোসিস’-এর কথা বলা যায়। সিএফটিআর জিনের ত্রুটির কারণে এই রোগ হয়ে থাকে। তবে রোগটি প্রকাশ পাওয়ার জন্য ত্রুটিপূর্ণ জিনের দুটি কপিই সন্তানের শরীরে থাকতে হয়। বাবা বা মায়ের একজনের শরীরে যদি মাত্র একটি ত্রুটিপূর্ণ কপি থাকে, তবে তিনি নিজে সুস্থ থাকেন এবং তাকে কেবল ‘বাহক’ বা ‘ক্যারিয়ার’ বলা হয়।
এখন কোনো বাহক যদি এমন কাউকে বিয়ে করেন যিনি বাহক নন, তবে তাদের সন্তানদের মধ্যে রোগটি ছড়ানোর কোনো ঝুঁকি থাকে না। কিন্তু বাবা-মা উভয়েই যদি একই ত্রুটিপূর্ণ জিনের বাহক হন, তবে সন্তানের ক্ষেত্রে ওই জিন দুটো একসঙ্গে পাওয়ার এবং রোগে আক্রান্ত হওয়ার ২৫ শতাংশ আশঙ্কা তৈরি হয়।
কাজিন ম্যারেজের প্রকৃত ঝুঁকি ঠিক কতটা তা হিসাব করতে হলে দুই কাজিনই একই জিনগত রোগের বাহক কিনা, তা জানা জরুরি। যেহেতু তাদের সাধারণ দাদা-দাদি বা নানা-নানি একই, তাই জিনগত মিলের সম্ভাবনা বাড়ে।
তবে বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন যে, কাজিনদের সন্তানের জন্মগত জিনগত রোগ পাওয়ার ঝুঁকি ৪ থেকে ৭ শতাংশ। যেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এই হার ৩ থেকে ৪ শতাংশ।
তাহলে কি এটি খুব বড় কোনো বিষয় নয়? এখানেই মূল সমস্যা। একটি নির্দিষ্ট রোগের কথা ভাবলে মনে হতে পারে ঝুঁকি তো সামান্যই। কিন্তু মানুষের বংশলতিকায় লুকিয়ে থাকতে পারে এমন হাজার হাজার রোগ।
তাছাড়া, কোনো পরিবারে যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাজিনদের মধ্যেই বিয়ে হতে থাকে, তবে তা একপর্যায়ে ডেকে আনতে পারে বড় বিপর্যয়। কারণ নতুন ও উপকারী জিন পরিবারে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে তখন বারবার সেই পুরনো এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক জিনগুলোই আবর্তিত হতে থাকে।
অস্ট্রিয়ার সম্রাট ফার্দিনান্দ প্রথম এর একটি বড় উদাহরণ। তার বাবা-মা ছিলেন সম্পর্কে প্রথম কাজিন। জন্ম থেকেই তিনি খুব একটা সুস্থ ছিলেন না। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কাজিন ম্যারেজ বা রক্তের সম্পর্কের বিয়েকে কখনোই পারিবারিক ঐতিহ্য বানিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার

-6ad1a793d0921.jpg)