পরোক্ষ ধূমপান কতটা মারাত্মক? ফুসফুসের ক্ষতি করে যেভাবে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৭ এএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আপনি হয়তো ধূমপান করেন না। রেস্তোরাঁ বা বিমানবন্দরের ধূমপান করার নির্ধারিত এলাকাগুলোও এড়িয়ে চলেন। এমনকি নিজের বাড়িতেও কাউকে ধূমপান করতে দেন না। কিন্তু আপনার ঠিক পাশেই যখন কেউ একটি সিগারেট ধরায়, তখন কী হয়?
বারান্দা, গাড়ি, খোলা জানালা কিংবা চায়ের দোকানের আড্ডায় ভেসে আসা পরিচিত সেই গন্ধটি কিন্তু কেবলই সাধারণ কোনো ধোঁয়া নয়। আপনি অবচেতনভাবেই গ্রহণ করছেন সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মোক বা পরোক্ষ ধূমপানের ধোঁয়া—যা মূলত জ্বলন্ত সিগারেটের ধোঁয়া এবং ধূমপায়ীর মুখ থেকে বেরিয়ে আসা নিশ্বাসের এক বিপজ্জনক মিশ্রণ।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পুনের এমওসি ক্যানসার কেয়ারের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. অশ্বিন রাজভোজ এবং স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালের মেডিকেল অ্যান্ড প্রিসিশন অনকোলজির ডিরেক্টর ডা. সেবন্তী লিমায় পরোক্ষ ধূমপান কীভাবে আমাদের ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, সে বিষয়ে আলোকপাত করেছেন।
ফুসফুসের ওপর পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব
ডা. রাজভোজের মতে, ‘ধূমপান নিজে করছেন না বলে মানুষ প্রায়ই পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়টি হালকাভাবে নেয়। অথচ আমাদের ফুসফুস ও রক্তনালীগুলো ধূমপায়ীর নিজের সিগারেট আর বাতাসে ছড়িয়ে পড়া ধোঁয়ার মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না।’
তিনি জানান, সিগারেটের ধোঁয়ায় ৭ হাজারেরও বেশি রাসায়নিক পদার্থ রয়েছে, যার মধ্যে বহু উপাদান সরাসরি ক্যানসারের জন্য দায়ী।
যারা ধূমপান করেন না, তাদের বারবার এই ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসার ফলে ফুসফুসের ক্যানসার, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। এমনকি খুব অল্প সময়ের সংস্পর্শও রক্তনালীকে প্রভাবিত করতে পারে এবং শরীরে প্রদাহ বা শ্বাসকষ্টজনিত পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
ডা. লিমায়ের মতে, পরোক্ষ ধূমপান কেবল দুর্গন্ধের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। এতে এমন কিছু রাসায়নিক থাকে যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে কাজ করে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। এই ধরনের পরিবেশের সংস্পর্শে আসা মানেই ফুসফুসের ক্যানসার, কার্ডিওভাসকুলার এবং শ্বাসতন্ত্রের জটিলতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়া।
প্রতিবেশীর সিগারেট কি আপনার ক্ষতি করতে পারে?
ডা. রাজভোজের মতে, ‘হ্যাঁ—বিশেষ করে যখন এই সংস্পর্শ ঘন ঘন বা দীর্ঘস্থায়ী হয়।’
এর বাস্তবিক সমাধান হলো বাতাসে ধোঁয়ার গন্ধ পেয়ে আতঙ্কিত না হয়ে যথাসম্ভব সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। নিজের বাড়ি ও গাড়িকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত রাখুন, সক্রিয় ধূমপান থেকে দূরে সরে যান। আর এই ভুল ধারণা রাখবেন না যে, খোলা জানালা বা নির্দিষ্ট কোনো ধূমপানের কোণায় দাঁড়ালে তা ক্ষতিকর হবে না। কারণ অন্য কেউ সিগারেট ধরালে, তার স্বাস্থ্যঝুঁকির মূল্য আপনাকে কেন চুকাতে হবে?
ঝুঁকিতে কারা বেশি?
ডা. লিমায় সতর্ক করে বলেছেন, ‘শিশু, গর্ভবতী নারী এবং যাদের পূর্বে থেকেই হৃদরোগ বা ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তারা তামাকের ধোঁয়ার নেতিবাচক প্রভাবে সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল।’
শিশুদের ওপর এর প্রভাব মারাত্মক হতে পারে, যার ফলে অ্যাটমাসের তীব্রতা বৃদ্ধি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং ফুসফুসের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরোক্ষ ধূমপানকে আর অন্যের ব্যক্তিগত অভ্যাস বলে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি এমন এক পরিবেশগত স্বাস্থ্যঝুঁকি, যা সেই সমস্ত মানুষের ওপর চেপে বসে যাঁরা স্বেচ্ছায় ধূমপান করেন না। ক্যানসার প্রতিরোধ কেবল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ক্যানসারের জন্য দায়ী ক্ষতিকর উপাদানগুলোর সংস্পর্শ এড়ানোও এর একটি বড় অংশ।

