Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

বিয়ে নিয়ে ১২ সত্যি কথা, যা কেউ আগে বলে না

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১১ পিএম

বিয়ে নিয়ে ১২ সত্যি কথা, যা কেউ আগে বলে না

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

বৈবাহিক জীবন কি এমন এক জায়গায় এসে পৌঁছেছে, যেখানে মনে করতে হয় কত বছর ধরে আপনারা বিবাহিত? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে একা আপনি নন! মাঝেমধ্যে সঠিক সংখ্যাটা মনে করতে আসলেই একটু মাথা খাটাতে হয় । লজ্জার কিছু নেই, বরং এত দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে সংসার করা এক বিরাট গৌরবের বিষয়—তা সে ৫ বছর হোক কিংবা ২৫ বছর!

তবে বিয়ের ফুলঝুরি ঝরে যাওয়ার পর এবং দম্পতি হিসেবে থিতু হওয়ার পর একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যায়—সংসার মানেই কোনো রূপকথার গল্প নয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় নিয়মিত পরিশ্রমের। দাম্পত্য জীবনের এমন আরও ১২টি বাস্তব সত্যি নিচে তুলে ধরা হলো:

১. আপনারা দুজনেই বদলাবেন

প্রতিদিনের ঘটনা আমাদের ব্যক্তিত্বকে গড়ে তোলে। আপনারা স্বামী-স্ত্রী সারাক্ষণ হয়তো একসঙ্গে থাকেন না। আপনাদের প্রতিটি কাজ আপনাদের মনোভাব, আশাবাদ ও মানসিক দৃঢ়তাকে প্রভাবিত করে। 

যদি আপনারা একে অপরের সঙ্গে কথা বলেন, মনের খবর রাখেন এবং একে অপরের জীবনের নানা ঘটনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকেন, তবে আপনারা একসঙ্গে বদলে যাওয়ার সুযোগ পাবেন এবং আপনাদের বন্ধন আরও পোক্ত হবে।

২. সব সময় একে অপরকে ভালো লাগবে না

যেকোনো সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এটি সত্যি—সব বিষয়ে আপনাদের মত মিলবে না বা সব সময় বনিবনাও হবে না। আর সেটাই স্বাভাবিক। 

যদি আপনারা দুজনেই শুরুতেই ঠিক করে নেন যে ডিভোর্স কোনো বিকল্প নয়, তবে আপনারা নিজেদের সমস্যাগুলো নিজেরাই সমাধান করতে বাধ্য হবেন। এভাবে ছোটোখাটো দূরত্ব দূর করে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

৩. সম্পর্কে একঘেয়েমি ও বিরক্তি আসবে

এটি নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভোগার কিছু নেই বা ভাবার দরকার নেই যে আপনাদের সম্পর্কে কোনো বড় গোলমাল আছে। দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বিবাহিত দম্পতিরাও একবাক্য স্বীকার করেন যে, একঘেয়েমি আর বিরক্তি যেকোনো দাম্পত্যের একটি স্বাভাবিক অংশ। মাঝে মধ্যে সম্পর্ক বেশ ফিকে মনে হতে পারে, কিন্তু হঠাৎই এমন কিছু ঘটে যা আপনাদের আবার চনমনে করে তুলবে। তখন সংসারকে আবার আগের মতো আনন্দময় মনে হবে। 

এ ছাড়া সন্তান লালন-পালনের বিভিন্ন পর্যায়ে (২ থেকে ২০ বছর বয়স পর্যন্ত) তাদের জীবনের নানা ওঠানামা আপনাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা আপনাদের সম্পর্কেও প্রভাব ফেলা স্বাভাবিক। শুধু আশাবাদী হয়ে সামনের দিকে তাকান, কারণ কোনো ঋতুই চিরস্থায়ী হয় না! 

৪. অন্তরঙ্গতা মানে শুধু শারীরিক সম্পর্ক নয়

এটি মানসিকও বটে! গবেষক ড. কারা গার্ডেনসওয়ার্টজের মতে, ‘গভীর সংযোগ ও সম্পর্কের সন্তুষ্টির জন্য মানসিক অন্তরঙ্গতা অত্যন্ত জরুরি।’ 

যখন আপনারা মানসম্মত সময় একসঙ্গে কাটান, একে অপরের কাছে খোলামেলা ও সৎ থাকেন এবং দিনের আলোতেও একটু স্নেহ-ভালোবাসা বিনিময় করেন, তখন আপনাদের মানসিক ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়। আর দীর্ঘমেয়াদী দাম্পত্যে এই মানসিক বন্ধনই প্রকৃত সুখ এনে দেয়। 

৫. এমন কিছু চ্যালেঞ্জ আসবে যা অসম্ভব মনে হতে পারে

এটা সত্যি যে এমন কঠিন সময় আসবে। কোনো এক সময় হয়তো আপনার মনে হবে, এই পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা আপনাদের সম্পর্কের নেই। কিন্তু শক্তিশালী দাম্পত্য সম্পর্কগুলো এই ধরনের বাধাগুলো পেরিয়েই আরও মজবুত হয়ে ওঠে। 

আপনাদের সংগ্রাম দেখে মনে করবেন না যে আপনাদের সংসারটাই সবচেয়ে আলাদা বা খারাপ অবস্থায় আছে। কখনো কখনো কোনো পেশাদার কাউন্সিলরের সাহায্য নিয়ে হলেও এই কঠিন সময় পার করে দেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ এবং এটি করা সম্ভবও বটে। 

৬. সবকিছু সব সময় ন্যায্য মনে হবে না

হয়তো তার চাকরির কারণে আপনাকে বারবার জায়গা বদলাতে হয়েছে। অথবা বাচ্চাদের দেখাশোনা করার জন্য আপনাকে চাকরি ছাড়তে হয়েছে। কিংবা সহজ কথায়, রাতের খাবার প্রস্তুত করার কাজটি বারবার আপনাকেই করতে হচ্ছে—সব সময় সংসার সমান মনে হবে না। 

তবে এই চাপা কষ্ট মনে জমিয়ে রাখবেন না। স্বামীর সঙ্গে খোলামেলা কথা বলুন। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি হয়তো এমন থাকতেই পারে, কিন্তু তা চিরকাল একইরকম থাকবে না। একটি ভালো সম্পর্ক মানেই আদান-প্রদান। 

আপনি হয়তো এখন ছাড় দেওয়ার বা ত্যাগ স্বীকার করার পর্যায়ে আছেন, তবে কথা বলে এর একটি সুন্দর ভারসাম্য বা সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

৭. ভালো সম্পর্কে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়াও হবে

একজনের শোনানো একটি গল্পে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বলেছিলেন যে তিনি সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত ছিলেন, কারণ তাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া হতো না এবং তিনি ভেবেছিলেন তাদের সংসার খুব সুখের! কিন্তু সুস্থ দাম্পত্যে দুই মানুষের মধ্যে মতপার্থক্য ও সামান্য তর্ক হওয়া মানে তারা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। 

যখন ঝগড়া করবেন, তখন তা সম্মান বজায় রেখেই করুন—এমন কিছু বলবেন না যাতে অন্য মানুষটি আঘাত পায়। মনে রাখবেন, এর মাধ্যমে আপনারা সম্পর্কটিকে আরও পোক্ত করছেন। 

৮. সম্পর্ক মানেই ত্যাগ ও সমঝোতা 

একে অপরের জন্য ছাড় দেওয়া এবং দলগতভাবে কোনো বোঝাপড়ায় পৌঁছানোই হলো ভালোবাসার আসল প্রমাণ। এটি সবসময় সহজ নয়! তবে দাম্পত্যের এটিই সত্যি যে, এই কঠিন বিষয়গুলোই আপনাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। 

৯. বিয়ে মানেই ‘সুখে-শান্তিতে বসবাস’ নয়

‘কবুল’ বলার পরেই মূলত সম্পর্কের নতুন পথচলা শুরু হয়। দাম্পত্যের ওঠা-নামা সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা রাখলে সম্পর্ক নিয়ে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক পরিপক্ব হবে।

১০. রোমান্সের জন্য একটু সচেতন প্রচেষ্টা দরকার

সময় গড়ার সঙ্গে সঙ্গে একটু রোমান্স ও ফ্লার্টিং বজায় রাখতে বাড়তি চেষ্টার প্রয়োজন হয়। তবে আপনি একটু উদ্যোগী হলে আপনার স্বামীও হয়তো সেই ইশারা বুঝবেন এবং সাড়া দেবেন। কিংবা বিষয়টি নিয়ে খোলামেলা কথাও বলতে পারেন। হানিমুন পর্ব পার হওয়ার পর এটি একটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

১১. আপনাদের ভালোবাসা রূপ বদলাবে

দুই দশকেরও বেশি সময় আগে যখন বিয়ে হয়েছিল, তখন যেমন ভালোবেসেছিলেন, আজও ভালোবাসেন। কিন্তু একসঙ্গে জীবনের এত চড়াই-উতরাই পার করার কারণে সেই ভালোবাসা এখন অনেক পরিপক্ব ও গভীর হয়েছে। 

যদি আপনারা বছরের পর বছর ধরে সম্পর্কের পেছনে পরিশ্রম করেন, তবে আপনাদের ভালোবাসা আপনাদের সঙ্গেই আরও সুন্দরভাবে বিকশিত হবে। 

১২. ভালোবাসার পাশাপাশি দরকার পারস্পরিক সম্মান 

আপনার স্বামী যখন তার ভালোলাগার বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন, তখন তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন—একই নিয়ম তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ভালো শ্রোতা হওয়া মানেই সম্মান প্রদর্শনের প্রথম ধাপ। এর পাশাপাশি সৎ, বিশ্বস্ত ও সহানুভূতিশীল থাকার মাধ্যমে আপনারা একে অপরকে সম্মান দেখাতে পারেন, বিরক্ত বা গোপনীয়তা বজায় না রেখে। 

সন্তান লালন-পালন ও অন্যান্য ব্যস্ততার মধ্যে ক্লান্ত লাগলেও এই সম্মান প্রদর্শনের জন্য একটু অতিরিক্ত চেষ্টা ও পরিশ্রম প্রয়োজন। তবে এই দৈনন্দিন পারস্পরিক সম্মানই ভালোবাসার এমন এক শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে, যা জীবনের যেকোনো ঝড়-ঝাপটা আপনাদের একসঙ্গে পার করে দিতে সাহায্য করবে। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বিয়ের পর কেন বাড়ে ওজন, জানুন ৭ কারণ

বিয়ের পর কেন বাড়ে ওজন, জানুন ৭ কারণ

পচাত্তরের বৃদ্ধের সঙ্গে ৩০ বছরের ইনফ্লুয়েন্সারের বাগদান

পচাত্তরের বৃদ্ধের সঙ্গে ৩০ বছরের ইনফ্লুয়েন্সারের বাগদান

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কি জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে কি জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়ায়? যা বলছে গবেষণা

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

ওজর ছাড়া স্বামী হক থেকে বঞ্চিত করলে স্ত্রী কি তালাক দিতে পারবেন

শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন, যা বললেন অভিনেত্রী

শোয়েব মালিকের সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জন, যা বললেন অভিনেত্রী

বিয়ের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান, কারণ কী?

বিয়ের কথা শুনলে অনেকেই ভয় পান, কারণ কী?

আরও পড়ুন

বিয়ে নিয়ে ১২ সত্যি কথা, যা কেউ আগে বলে না

বিয়ে নিয়ে ১২ সত্যি কথা, যা কেউ আগে বলে না

পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

পুরুষদেরও হতে পারে স্তন ক্যানসার, যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন

শীত আসার আগে এই ৬ প্রস্তুতি রাখুন

শীত আসার আগে এই ৬ প্রস্তুতি রাখুন

দিনে ২ ঘণ্টা গিজার চালালে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে?

দিনে ২ ঘণ্টা গিজার চালালে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল কত আসবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম