গবেষণা
বার্ধক্যের গতি কমাতে যে অভ্যাসের ওপর জোর বিজ্ঞানীদের
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
যেকোনো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই শরীরের কোষের বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করতে কোনো একটি নির্দিষ্ট ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাসই একমাত্র পথ নয়—বরং যেকোনো স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাসই এক্ষেত্রে দারুণ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। সম্প্রতি জার্মানির ‘ডিজেডএনই’ ইনস্টিটিউটের এক বিশাল গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি বিখ্যাত গবেষণা পত্রিকা ‘নেচার কমিউনিকেশনস’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ভূমধ্যসাগরীয়, নর্ডিক, উদ্ভিদভিত্তিক কিংবা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে তৈরি ড্যাশ ডায়েট—যেকোনো স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসই শরীরের কোষের বয়স বাড়ার গতি কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।
যেভাবে পরিচালিত হয় এই গবেষণা
গবেষণার মূল দলটি প্রায় সাড়ে সাত হাজার নারী ও পুরুষের খাদ্যাভ্যাস এবং রক্তের নমুনা নিয়ে কাজ করেছেন। মানুষের জন্মসালভিত্তিক বয়সের পাশাপাশি তাদের শরীরের জৈবিক বয়স কত দ্রুত বাড়ছে, তা মাপার চেষ্টা করেন বিজ্ঞানীরা। ডিজেডএনই-এর ‘রাইনল্যান্ড স্টাডি’ এবং জার্মানির আরেকটি প্রতিষ্ঠানের ‘ইপিক-পটসডাম স্টাডি’-র ডেটা বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল নিশ্চিত করা হয়।
শরীরের জৈবিক বয়স মাপার জন্য বিজ্ঞানীরা ‘এপিজেনেটিক ক্লক’ বা এপিজেনেটিক ঘড়ির সাহায্য নেন। ডিএনএ মিথাইলেশনের মাধ্যমে শরীরের কোষ কীভাবে কাজ করছে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে কী ধরনের পরিবর্তন আসছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
খাবারের ধরণ ভিন্ন হলেও সুফল সমান
গবেষণায় দেখা গেছে, ১০টি ভিন্ন ভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের প্রতিটিই জৈবিক বয়স ধীর করতে কম-বেশি ভূমিকা রাখছে।
গবেষক দলের প্রধান ও পুষ্টিবিজ্ঞানী জুলিয়ানা তাভারেস জানান, একেকটি ডায়েটের মূল লক্ষ্য ও খাবারের ধরন ভিন্ন হওয়ায় একজন মানুষ হয়তো একটি নির্দিষ্ট ডায়েটের নিয়ম খুব ভালোভাবে মেনে চললেও অন্যটির ক্ষেত্রে তা নাও মানতে পারেন। অর্থাৎ, প্রত্যেকের জন্য একটিমাত্র ‘নিখুঁত’ ডায়েট মেনে চলা জরুরি নয়।
এই গবেষণার সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো—মানুষ নিজের পছন্দ, সংস্কৃতি, বাজেট ও রুচি অনুযায়ী যেকোনো সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নিতে পারে।
ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন এক ফল
গবেষণায় একটি অপ্রত্যাশিত তথ্যও সামনে এসেছে। দেখা গেছে, ধূমপান করেন না এমন মানুষের তুলনায় ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে ধীরগতির জৈবিক বয়সের সম্পর্কটি আরও বেশি জোরালো।
গবেষকদের মতে, ধূমপানের কারণে শরীরে যে ব্যাপক ক্ষতি হয়, সুষম খাবার খাওয়ার ফলে তা থেকে বেরিয়ে আসার বা ইতিবাচক সুফল পাওয়ার সুযোগও তাদের ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবকে এটি পুরোপুরি মুছে দিতে পারে; ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য সবসময়ই অত্যন্ত ক্ষতিকর।
একই সূত্রে গাঁথা সব ডায়েট
বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, বিভিন্ন ধরনের ডায়েটের প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি জৈবিক প্রক্রিয়া বা পথ এক ও অভিন্ন। কোষের গঠন, কোষের মধ্যকার যোগাযোগ এবং বিপাকক্রিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সব ডায়েটেই প্রায় একই রকম প্রভাব ফেলে। তবে কিছু ডায়েটের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু বিশেষ সুফলও দেখা গেছে। যেমন—ড্যাশ ডায়েট হৃদযন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে জড়িত পথগুলোকে বেশি প্রভাবিত করে, আর ব্রেন ফুড বা ‘মাইন্ড’ ডায়েট মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি ও জ্ঞানীয় কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিখুঁত কোনো ডায়েট চার্ট নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত না হয়ে বরং সামগ্রিকভাবে সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘ ও সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি।

