দই খেলে কি কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে?— যা বলছে গবেষণা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দই প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ভালো উৎস। হজমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও খাবারটি বেশ উপকারী। তবে দই খেলে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে কি না, তা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। কিছু গবেষণায় দই খাওয়ার সঙ্গে কোলন ক্যানসারের নির্দিষ্ট ধরনের টিউমারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে দই সরাসরি ক্যানসার প্রতিরোধ করে, এমন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
মানুষের অন্ত্রে ট্রিলিয়নসংখ্যক অণুজীব বাস করে। এসব অণুজীবের কিছু শরীরের জন্য উপকারী, আবার কিছু প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে এবং টিউমার বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ধরন অন্ত্রের এসব অণুজীবের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ইউএফ হেলথ ক্যানসার সেন্টারের গবেষক ক্রিশ্চিয়ান জোবিনের মতে, উপকারী অণুজীবের বিকাশে সহায়ক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে ক্ষতিকর অণুজীব বাড়তে পারে। এসব অণুজীব থেকে নির্গত কিছু বিষাক্ত পদার্থ কোষ ও ডিএনএর ক্ষতি করতে পারে, যা টিউমার তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।
কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কেন বাড়ছে?
একসময় কোলন ক্যানসারকে বয়স্কদের রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু বর্তমানে অপেক্ষাকৃত কম বয়সিদের মধ্যেও এ রোগের হার বাড়ছে। গবেষকদের ধারণা, পরিবেশ ও জীবনযাপনের পরিবর্তন এর অন্যতম কারণ হতে পারে। কোলন ক্যানসারের প্রায় প্রতি পাঁচটি রোগীর একটি রোগনির্ণয় হয় ৫৫ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে।
স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ধূমপান, মদ্যপান এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাস এ ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়াও ঝুঁকির কারণ। এসব ঝুঁকি কমাতে সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।
দই খাওয়ার সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক কী?
দইয়ের কিছু ধরনে প্রোবায়োটিক বা উপকারী জীবন্ত অণুজীব থাকে। এগুলো অন্ত্রের ক্ষতিকর অণুজীবের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
২০২৫ সালের একটি বড় গবেষণায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষকেরা তাদের মধ্যে কারা পরবর্তী সময়ে কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, তা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি টিউমারের নমুনা পরীক্ষা করে বিফিডোব্যাকটেরিয়াম নামের উপকারী অণুজীবের উপস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
গবেষণায় দেখা যায়, সামগ্রিকভাবে দই খাওয়ার সঙ্গে কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমার উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক নেই। তবে সপ্তাহে দুই বা তার বেশি পরিবেশন দই খাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিফিডোব্যাকটেরিয়ামযুক্ত নির্দিষ্ট ধরনের টিউমারের ঝুঁকি ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কম পাওয়া গেছে।
তবে এ ফলাফল দই যে সরাসরি ক্যানসার প্রতিরোধ করে, তা প্রমাণ করে না। গবেষণায় দই খাওয়ার সঙ্গে ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে মাত্র। দইয়ের মাধ্যমে গ্রহণ করা উপকারী অণুজীব অন্ত্রে দীর্ঘদিন টিকে থাকবে কি না, সেটিও নিশ্চিত নয়। অন্ত্রের নিজস্ব অণুজীবের পরিবেশে নতুন অণুজীবের স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেওয়া কঠিন হতে পারে। তাই দই খেলে সম্ভাব্য উপকার পেতে নিয়মিত খাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে আরও উন্নত গবেষণা দরকার।
কোন ধরনের দই বেছে নেবেন?
সব দইয়ে সমান পরিমাণ উপকারী অণুজীব থাকে না। কিছু দই প্রক্রিয়াজাত করার সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয়ে যায়। আবার বাজারের অনেক দইয়ে অতিরিক্ত চিনি ও কৃত্রিম উপাদান মেশানো থাকে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য দই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন—
চিনি ছাড়া দই: অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে সাধারণ বা মিষ্টিবিহীন দই বেছে নিন।
জীবন্ত অণুজীব: প্যাকেটের গায়ে ‘লাইভ অ্যান্ড অ্যাকটিভ কালচারস’ লেখা আছে কি না দেখুন।
উপাদানের তালিকা: অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম স্বাদ ও অপ্রয়োজনীয় উপাদানযুক্ত দই এড়িয়ে চলুন।
দইয়ের অন্যান্য উপকারিতা
দই প্রোটিনের ভালো উৎস, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে এবং পেশির স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ভূমিকা রাখে। দুধ থেকে তৈরি দইয়ে রিবোফ্লাভিন ও ভিটামিন বি১২-এর মতো উপাদানও থাকে, যা শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় নিয়মিত দই খাওয়ার সঙ্গে হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
ক্যানসার প্রতিরোধে যা জরুরি
দই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে, তবে কোলন ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। নিয়মিত শরীরচর্চা, আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া, প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়া উচিত। কোলন ক্যানসারের লক্ষণ বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং বয়স ও ঝুঁকি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোও জরুরি।
সূত্র: ওয়েবএমডি


