ডেঙ্গুর যেসব লক্ষণ অবহেলা করলেই হতে পারে বিপদ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তিকে কামড়ানোর পর মশাটি ভাইরাসের বাহক হয়ে ওঠে। পরে সেই মশা সুস্থ কাউকে কামড়ালে তার শরীরেও ডেঙ্গু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত অধিকাংশ ব্যক্তি সাধারণ চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠলেও কারও কারও ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই জ্বরের লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা এবং বিপজ্জনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দেয়। তবে অনেকের শরীরে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। আক্রান্ত ব্যক্তির হঠাৎ কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতে পারে। তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে। এ ছাড়া সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা
পেশি ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা
বমি বমি ভাব বা বমি
খাবারে অরুচি ও পেটব্যথা
শরীরের বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া
ত্বকে লালচে র্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া।
জ্বর ও শরীরব্যথার তীব্রতার কারণে ডেঙ্গুকে অনেক সময় ‘হাড়ভাঙা জ্বর’ বলা হয়। সাধারণত এসব লক্ষণ ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। বেশিরভাগ রোগী এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হতে শুরু করেন। তবে জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে, এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে যেসব লক্ষণ খেয়াল রাখবেন
শিশুদের ডেঙ্গু হলে জ্বরের পাশাপাশি দুর্বলতা, ঘুম ঘুম ভাব, খিটখিটে মেজাজ, ত্বকে র্যাশ, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত এবং বারবার বমি হতে পারে। পানিশূন্যতার লক্ষণও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এক বছরের কম বয়সি শিশুর অবস্থা দ্রুত খারাপ হতে পারে। তাই শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করা উচিত নয়।
মারাত্মক ডেঙ্গুর বিপদসংকেত
ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রতি ২০ জনের মধ্যে প্রায় একজনের মারাত্মক ডেঙ্গু হতে পারে। সাধারণত রোগের তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বর কমে যাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে হবে।
নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে—
তীব্র পেটব্যথা বা পেট ফুলে যাওয়া
২৪ ঘণ্টায় তিনবার বা তার বেশি বমি
নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্তপাত
বমি কিংবা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া
অস্বাভাবিক রক্তপাত বা ত্বকে লালচে ছোপ
অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা বা ঝিমুনি
দ্রুত শ্বাস নেওয়া, ঠান্ডা ও ফ্যাকাশে ত্বক
প্রস্রাব কমে যাওয়া বা দীর্ঘ সময় প্রস্রাব না হওয়া
মানসিক বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
মারাত্মক ডেঙ্গুতে রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে গিয়ে পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, গুরুতর রক্তপাত ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। এতে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। আগে ডেঙ্গু হয়ে থাকলে, গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্যন্ত্র ও কিডনির জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ডেঙ্গু শনাক্তে যেসব পরীক্ষা করা হয়
ডেঙ্গু শনাক্ত ও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি পরীক্ষা করা হয়।
এনএস১ অ্যান্টিজেন: সাধারণত জ্বরের প্রথম দিকে এই পরীক্ষা করা হয়। সংক্রমণের শুরুর দিকে ফলাফল পজিটিভ আসতে পারে। তবে কয়েক দিন পর নেগেটিভ ফল এলেও ডেঙ্গু পুরোপুরি নাকচ করা যায় না।
আইজিএম ও আইজিজি অ্যান্টিবডি: আইজিএম পরীক্ষায় সাম্প্রতিক সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে। আইজিজি পরীক্ষার মাধ্যমে আগের সংক্রমণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কোন সময়ে পরীক্ষা করা হবে, তা চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।
সিবিসি: এই পরীক্ষায় রক্তের বিভিন্ন কণিকা, প্লাটিলেট ও হেমাটোক্রিটের মাত্রা দেখা হয়। এসব ফলাফল রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে। প্রয়োজনে চিকিৎসক আরও পরীক্ষা দিতে পারেন।
বাড়িতে যত্ন নেবেন যেভাবে
সাধারণ ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনো ভাইরাসনাশক চিকিৎসা নেই। অধিকাংশ রোগী পর্যাপ্ত বিশ্রাম, তরল খাবার এবং চিকিৎসকের পরামর্শে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বিপৎসংকেত দেখা দিলে বাড়িতে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক।
পর্যাপ্ত তরল পান করুন: পানিশূন্যতা এড়াতে পানি, খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, স্যুপ ও অন্যান্য উপযুক্ত তরল পান করুন। রোগীর বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী তরলের পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশ্রাম নিন: জ্বর ও দুর্বলতার সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রয়োজন। রোগীকে মশারির ভেতরে রাখুন, যাতে তাকে কামড়ে মশা অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়াতে না পারে।
ওষুধে সতর্ক থাকুন: জ্বর ও ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে প্যারাসিটামল নেওয়া যেতে পারে। অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেনসহ অন্যান্য প্রদাহনাশক ওষুধ চিকিৎসকের নির্দেশ ছাড়া সেবন করবেন না, কারণ এগুলো রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। জ্বর কমে গেলেও রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যেতে হবে।
ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত না হয়ে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং বিপদসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: সহায়

-6ada047e5a013.jpg)
-6ad63ef7418ef.jpg)