ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লকেজে বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি, কোন চিকিৎসায় সম্ভব মাতৃত্ব?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্তান নিতে দেরি হওয়া বা গর্ভধারণে জটিলতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে নারীদের বন্ধ্যত্বের অন্যতম কারণ হলো ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লকেজ। তবে সঠিক সময়ে সমস্যা শনাক্ত করে উপযুক্ত চিকিৎসা নিলে অনেক ক্ষেত্রেই গর্ভধারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
টিউবাল ব্লকেজ কী?
নারীদের প্রজননতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফ্যালোপিয়ান টিউব। এই নালির মধ্য দিয়ে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন ঘটে। নিষেকের পর ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছে সেখানে স্থাপিত হয়। কিন্তু ফ্যালোপিয়ান টিউব আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেলে শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন কিংবা ভ্রূণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হতে পারে। ফলে গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কেন হয় ফ্যালোপিয়ান টিউবে ব্লকেজ?
বিভিন্ন কারণে ফ্যালোপিয়ান টিউবে বাধা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে—
- সংক্রমণ: প্রজননতন্ত্রের কিছু সংক্রমণ, বিশেষ করে যৌনবাহিত সংক্রমণ, টিউবে প্রদাহ ও ক্ষত তৈরি করতে পারে।
- যক্ষ্মা: জননাঙ্গের যক্ষ্মা ফ্যালোপিয়ান টিউবের ক্ষতি করে ব্লকেজ সৃষ্টি করতে পারে।
- অস্ত্রোপচার: পেট বা পেলভিক অঞ্চলে অস্ত্রোপচারের পর দাগের টিস্যু বা আঠালো সংযোগ তৈরি হয়ে টিউবের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা দিতে পারে।
- এন্ডোমেট্রিওসিস: এই রোগের কারণে টিউবের আশপাশে টিস্যু ও আঠালো সংযোগ তৈরি হয়ে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে।
কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
টিউবাল ব্লকেজের ক্ষেত্রে সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। অনেক নারী গর্ভধারণে সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বিষয়টি জানতে পারেন। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা করতে পারেন। এর মধ্যে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের অবস্থা যাচাইয়ের জন্য হিস্টেরোসালপিংগ্রাফি (এইচএসজি) এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপি করা হতে পারে।
কোন চিকিৎসায় সম্ভব মাতৃত্ব?
টিউবাল ব্লকেজের চিকিৎসা নির্ভর করে ব্লকেজের অবস্থান, মাত্রা, নারীর বয়স, ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা এবং সঙ্গীর শুক্রাণুর গুণগত মানের ওপর।
ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার: নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউবের ব্লকেজ দূর করা বা আশপাশের আঠালো টিস্যু আলাদা করা সম্ভব। নারীর বয়স কম হলে, টিউবের ক্ষতি সীমিত থাকলে এবং অন্য কোনো বড় প্রজনন সমস্যা না থাকলে অস্ত্রোপচারের পর স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকতে পারে।
ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ): টিউবের ক্ষতি গুরুতর হলে, দুই পাশের টিউব বন্ধ থাকলে কিংবা অস্ত্রোপচারে সফলতার সম্ভাবনা কম থাকলে আইভিএফ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এ পদ্ধতিতে শরীরের বাইরে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর নিষেক ঘটিয়ে তৈরি ভ্রূণ জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। এতে ফ্যালোপিয়ান টিউবের স্বাভাবিক কার্যকারিতার ওপর নির্ভর করতে হয় না।
চিকিৎসার আগে যে বিষয়টি জানা জরুরি
টিউবের অস্ত্রোপচারের পর কিছু নারীর এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুর পরিবর্তে ফ্যালোপিয়ান টিউবে বেড়ে উঠতে শুরু করে, যা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই অস্ত্রোপচারের পর গর্ভধারণ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
এ ছাড়া ওভারিয়ান সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিস বা অন্য কিছু প্রজননজনিত সমস্যার ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ল্যাপারোস্কোপি কিংবা হিস্টেরোস্কোপির প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয় না।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ জরুরি: গর্ভধারণে সমস্যা হলে দেরি না করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ নির্ণয়ের পর ব্যক্তিভেদে চিকিৎসা পরিকল্পনা করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

