Logo
Logo
×

Advertisement

সাহিত্য

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যভুবন: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্জীবনের কথন

Advertisement

Icon

ফরিদুল ইসলাম নির্জন

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যভুবন: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্জীবনের কথন

কথাসাহিত্যিক মকবুলা মঞ্জুর।

Advertisement

বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে কিছু লেখকের অবদান তাদের জীবদ্দশায় যেমন যথাযথভাবে আলোচিত হয় না, তেমনি মৃত্যুর পরও তাদের সাহিত্যকর্মের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন অধরাই থেকে যায়। তেমনই একজন কথাসাহিত্যিক মকবুলা মঞ্জুর। 

তার রচনাবৈচিত্র্য, বিষয়গত ব্যাপ্তি ও দীর্ঘ সাহিত্যিক অভিযাত্রা নতুন করে পাঠ ও মূল্যায়নের দাবি রাখে। উপন্যাস, ছোটগল্প, কিশোর উপন্যাস, শিশুতোষ সাহিত্য, অনুবাদ, জীবনী ও অন্যান্য গদ্যরচনায় তার সৃজনশীল উপস্থিতি প্রমাণ করে, সাহিত্যকে তিনি কোনো একটি বিষয় কিংবা নির্দিষ্ট পাঠকগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি। 

মানুষের জীবন, সমাজের পরিবর্তন, ইতিহাসের অভিঘাত, পারিবারিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, নারীর অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিমানুষের আত্মপরিচয়ের সংকটকে তিনি তার সাহিত্যজগতের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত এই লেখকের সৃজনশীলতার বিস্তার আড়ালেই রয়ে গেছে। 

আত্মপ্রচারবিমুখ এই মানুষ সাহিত্যচর্চার মধ্য দিয়ে নিজেকে আড়ালে রেখেছেন, সম্মুখে এনেছেন তার সাহিত্যসম্ভার। তার সমগ্র রচনাসম্ভারের দিকে তাকালে এমন একজন লেখকের পরিচয় পাওয়া যায়, যিনি নিজের সময়কে অনুধাবন করেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের সম্পর্ক অনুসন্ধান করেছেন এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বৃহত্তর সমাজের পরিবর্তন সাহিত্যে ধারণ করার চেষ্টা করেছেন।

মকবুলা মঞ্জুরের জন্ম ১৯৩৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার মুগবেলাই গ্রামে। সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার অনুকূল পারিবারিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এই লেখকের সাহিত্যপ্রতিভার বিকাশ ঘটে শৈশবেই। মাত্র আট বছর বয়সে তার ছড়া দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি কথাসাহিত্যে আত্মনিয়োগ করেন। 

নিজের প্রতিভার পরিচয় দেন উপন্যাস, গল্প ও অন্যান্য গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে। শিক্ষাজীবন, শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা এবং সম্পাদনার অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যিক মানস গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষত সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর ফিচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং দৈনিক আজাদ পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ততা তাকে সমকালীন সমাজ, সংস্কৃতি, নারীজীবন ও মানুষের বহুমাত্রিক অভিজ্ঞতার কাছাকাছি থাকার সুযোগ করে দেয়। 

২০২০ সালের ৩ জুলাই তার জীবনাবসান ঘটে। কিন্তু একজন লেখকের মৃত্যু তার সাহিত্যিক যাত্রার শেষ কথা নয়; বরং পরবর্তী প্রজন্মের পাঠ, অনুসন্ধান ও সমালোচনার মধ্য দিয়েই তার রচনার প্রকৃত তাৎপর্য ক্রমে উন্মোচিত হয়।

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যিক পরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি তার উপন্যাস। ‘আর এক জীবন’ (১৯৬৮), ‘অবসন্ন গান’ (১৯৮২), ‘বৈশাখে শীর্ণ নদী’ (১৯৮৩), ‘জল রং ছবি’ (১৯৮৪), ‘আত্মজ ও আমরা’ (১৯৮৮), ‘পতিত পৃথিবী’ (১৯৮৯), ‘প্রেম এক সোনালী নদী’ (১৯৮৯), ‘শিয়রে নিয়ত সূর্য’ (১৯৮৯), ‘অচেনা নক্ষত্র’ (১৯৯০), ‘কনে দেখা আলো’ (১৯৯১), ‘নির্বাচিত প্রেমের উপন্যাস’ (১৯৯২), ‘নদীতে অন্ধকার’ (১৯৯৬), ‘লীলা কমল’ (১৯৯৬) ও ‘কালের মন্দিরা’ (১৯৯৭) তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের তালিকায় স্থান পেয়েছে। 

এ ছাড়া ‘বাউল বাতাস’, ‘ছায়াপথে দেখা’, ‘একটাই জীবন’, ‘সায়াহ্ন যূথিকা’ ও ‘নক্ষত্রের তলে’ নামেও তার রচনার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই গ্রন্থসম্ভার তার দীর্ঘ সাহিত্যিক অভিযাত্রার ব্যাপ্তি নির্দেশ করে; তবে উপন্যাসের সংখ্যা কিংবা প্রকাশনার ধারাবাহিকতা দিয়ে একজন কথাসাহিত্যিকের শিল্পমূল্য নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন প্রতিটি রচনার বিষয়, চরিত্র, আখ্যানবিন্যাস, ভাষা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সময়চেতনার নিবিড় পাঠ। 

মকবুলা মঞ্জুরের উপন্যাসগুলোর সামগ্রিক মূল্যায়নেও এই পদ্ধতি জরুরি। ব্যক্তি ও পরিবারের সম্পর্ক, প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের পরিবর্তন, সামাজিক অবস্থান ও আত্মপরিচয়ের সংকট এবং ইতিহাসের অভিঘাত—এসব বিষয় তার উপন্যাস পাঠের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানক্ষেত্র।

মকবুলা মঞ্জুরের উপন্যাসের আলোচনায় ‘কালের মন্দিরা’ বিশেষ গুরুত্বের দাবিদার। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এই আত্মজৈবনিক উপন্যাসে ব্যক্তিগত স্মৃতি, পারিবারিক ইতিহাস, সামাজিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ একটি বিস্তৃত আখ্যানের মধ্যে মিলিত হয়েছে। উপন্যাসটির পটভূমি উনিশ শতকের শেষভাগ থেকে বিশ শতকের শেষ দশক পর্যন্ত বিস্তৃত। 

কয়েক প্রজন্মের জীবন ও অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এখানে একটি পরিবারের ইতিহাস বৃহত্তর সামাজিক ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে। কেন্দ্রীয় চরিত্র শায়লা হোসেনের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে অতীতের নানা ঘটনা ও সম্পর্ক পুনর্নির্মিত হয়। তার স্মৃতির ভেতর দিয়ে পাঠক প্রবেশ করেন পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মূল্যবোধ, বংশমর্যাদার বিভাজন এবং সময়ের পরিবর্তনে গড়ে ওঠা নতুন জীবনবোধের জগতে। 

এই স্মৃতিনির্ভর আখ্যানরীতির তাৎপর্য হলো, অতীত এখানে কেবল পেছনে ফেলে আসা কোনো সময় নয়; বর্তমানকে বোঝারও একটি মাধ্যম। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে পারিবারিক উত্তরাধিকার, সামাজিক কাঠামো এবং ঐতিহাসিক পরিস্থিতির দ্বারা প্রভাবিত হয়, উপন্যাসটির বিস্তৃত পরিসরে সেই প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

‘কালের মন্দিরা’র আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক এর ইতিহাসচেতনা। দেশভাগ, ভাষা আন্দোলন, পাকিস্তান আমলের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুক্তিযুদ্ধের মতো ঘটনাপ্রবাহের অভিঘাত ব্যক্তিমানুষের জীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উঠেছে। ইতিহাসের বড় ঘটনাগুলো এখানে শুধু রাজনৈতিক বিবরণের বিষয় নয়; মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-হতাশা, নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। 

বিশেষত মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের বিপন্নতা, বাস্তুচ্যুতি এবং পরিচিত জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা উপন্যাসটির মানবিক তাৎপর্যকে গভীর করে। একটি পরিবারের কাহিনির মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সময়ের সামাজিক পরিবর্তনকে ধারণ করার এই প্রচেষ্টা বাংলা উপন্যাসে পারিবারিক আখ্যান ও ইতিহাসের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র তৈরি করে।

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্য পাঠের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নারীর জীবন ও সমাজবাস্তবতা। তার রচনায় নারীকে শুধু পারিবারিক সম্পর্কের একটি চরিত্র হিসেবে দেখলে সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার পূর্ণতা ধরা পড়ে না। নারীর ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা, আত্মমর্যাদা, সামাজিক অবস্থান, সম্পর্কের জটিলতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা তার সাহিত্যকে বিশ্লেষণের নতুন দিগন্ত দিতে পারে। 

বিশেষত নারী লেখকের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বৃহত্তর সমাজের প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করে, কীভাবে পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতার সম্পর্ককে দৃশ্যমান করে এবং কীভাবে ব্যক্তির আত্মপরিচয়ের সংকটকে আখ্যানের কেন্দ্রে নিয়ে আসে—এসব প্রশ্ন তার উপন্যাস ও গল্পের পাঠে গুরুত্বপূর্ণ।

উপন্যাসের পাশাপাশি ছোটগল্পেও মকবুলা মঞ্জুরের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। ছোটগল্পের শক্তি অনেক সময় জীবনের সামান্য একটি ঘটনা, সম্পর্কের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন কিংবা চরিত্রের অন্তর্গত কোনো দ্বন্দ্বকে গভীর মানবিক তাৎপর্য দেওয়ার মধ্যে নিহিত থাকে। উপন্যাস যেখানে দীর্ঘ সময় ও বিস্তৃত সামাজিক পরিসরকে ধারণ করতে পারে, ছোটগল্প সেখানে নির্বাচিত মুহূর্তের মধ্য দিয়ে জীবনের গভীর সত্যকে প্রকাশ করে। 

মকবুলা মঞ্জুরের গল্প পাঠে তাই চরিত্রের মনস্তত্ত্ব, সংলাপের স্বাভাবিকতা, ঘটনার বিন্যাস, বর্ণনার সংযম এবং সমাপ্তির তাৎপর্য অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। তার ‘গল্প পঞ্চাশৎ’, ‘মাতৃঋণ’, ‘প্রমত্ত প্রহর’ ও ‘এই পথ এই প্রেম’সহ তার গল্প ও কথাসাহিত্যচর্চার বিস্তৃতি অনুধাবনের সূত্র হতে পারে। তার গল্পের সাহিত্যিক অবস্থান নির্ধারণ করতে হলে সমকালীন অন্য গল্পকারদের সঙ্গে তুলনা, প্রকাশকালীন সাহিত্যপরিবেশের বিবেচনা এবং বর্তমান পাঠকের কাছে গল্পগুলোর প্রাসঙ্গিকতা বিচার করা প্রয়োজন।

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যিক পরিচয়ের একটি স্বতন্ত্র দিক তার কিশোর উপন্যাস। ‘ডানপিটে ছেলে’ (১৯৭৮), ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস’ (১৯৮৮), ‘মহেশখালিতে মুকুট’ (১৯৯০), ‘সাহসী ছেলে’ (১৯৯১) ও ‘দুরন্ত মুকুট’ (১৯৯৬) তার উল্লেখযোগ্য কিশোর উপন্যাস হিসেবে পরিচিত। এসব বইয়ের নামই শিশু-কিশোর পাঠকের জন্য নির্মিত এক কৌতূহলোদ্দীপক সাহিত্যজগতের ইঙ্গিত দেয়। কিশোর উপন্যাসে কাহিনির গতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা, বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে কল্পনার সংযোগ এবং পাঠকের স্বাধীন চিন্তার অবকাশও জরুরি। 

মকবুলা মঞ্জুরের কিশোর উপন্যাসগুলোকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠ করলে বাংলা কিশোর সাহিত্যে তার অবদানের স্বরূপ আরও স্পষ্ট হতে পারে। তার রচনার এই শাখা নিয়ে আলাদা আলোচনা প্রয়োজন, কারণ প্রাপ্তবয়স্কদের উপন্যাসের খ্যাতি অনেক সময় লেখকের শিশু-কিশোর সাহিত্যকে আড়াল করে রাখে।

শিশু-কিশোর সাহিত্যের বিস্তৃত পরিসরে মকবুলা মঞ্জুরের ‘ছোটদের মহাভারত’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মহাভারতের মতো বিশাল মহাকাব্যকে শিশু-কিশোর পাঠকের উপযোগী করে উপস্থাপন করা সহজ কাজ নয়। মূল কাহিনির বিস্তার, বহু চরিত্র, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক সংঘাত এবং নৈতিক প্রশ্নকে সংক্ষিপ্ত অথচ বোধগম্যভাবে তুলে ধরতে হলে নির্বাচন ও পুনর্নির্মাণের বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। ‘ছোটদের মহাভারত’ এই দিক থেকে তার সাহিত্যিক আগ্রহের বিস্তৃতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। 

পরিচিত মহাকাব্যকে নতুন পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্য দিয়ে লেখক শুধু একটি কাহিনি পুনর্কথন করেন না; পাঠকের সামনে ইতিহাস, পুরাণ, নৈতিক দ্বন্দ্ব ও মানবচরিত্রের জটিলতার দরজাও খুলে দেন। তার ‘দেশে দেশে’সহ অন্যান্য শিশুতোষ বইয়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে দেখতে হবে, কীভাবে বিষয় নির্বাচন, ভাষা ও বর্ণনার কৌশল শিশুদের পাঠাভ্যাস ও কল্পনার জগৎকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ তৈরি করেছে। 

শিশুদের জন্য সাহিত্য রচনা একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক দায়িত্বও বটে; কারণ শৈশবের পাঠই ভবিষ্যতের পাঠক, চিন্তক ও সংবেদনশীল মানুষ গড়ে ওঠার ভিত্তি নির্মাণ করে। এই বিবেচনায় মকবুলা মঞ্জুরের শিশুতোষ রচনাগুলো তার সামগ্রিক সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যকর্মের মূল্যায়ন কেবল উপন্যাস, ছোটগল্প কিংবা শিশু-কিশোর সাহিত্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তার অনুবাদ, জীবনী ও অন্যান্য গদ্যরচনাও তার সাহিত্যিক পরিচয়ের বিস্তৃত পরিসরের অংশ। 

অনুবাদ একজন লেখককে অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির সাহিত্যিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করে; আর জীবনী ও প্রবন্ধের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি, সমাজ, সংস্কৃতি ও চিন্তার জগৎকে তথ্যনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মীভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি হয়। তার ‘পৌষ ফাগুনের পালা—মকবুলা মঞ্জুরের পত্রগুচ্ছ’ গ্রন্থটির মতো পত্রভিত্তিক রচনাও সাহিত্যিকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, সম্পর্ক, সময়চেতনা ও মানসিক জগতের পরিচয় অনুধাবনে সহায়ক হতে পারে। মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্য নিয়ে আলোচনায় তার ভাষা ও আখ্যানরীতির প্রশ্ন বিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যিক অবদানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি বহন করে। ২০০৫ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। এর আগে ‘কালের মন্দিরা’র জন্য ১৯৯৭ সালে জাতীয় আর্কাইভস ও গ্রন্থাগার শ্রেষ্ঠগ্রন্থ পুরস্কার এবং বিভিন্ন সময়ে রাজশাহী লেখিকা সংঘ সাহিত্য পুরস্কার, কমর মুশতারী পুরস্কার ও বাংলাদেশ লেখিকা সংঘের সম্মাননাসহ অন্যান্য স্বীকৃতি অর্জন করেন। 

২০০৭ সালে অন্যান্য সাহিত্য পুরস্কার লাভের তথ্যও তার সম্মাননার তালিকায় রয়েছে। তবে পুরস্কার কোনো লেখকের সাহিত্যিক গুরুত্বের চূড়ান্ত পরিমাপক নয়। তার রচনার দীর্ঘমেয়াদি প্রাসঙ্গিকতা, পাঠকসমাজে প্রভাব, সমালোচনামূলক গ্রহণযোগ্যতা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পুনঃপাঠের সম্ভাবনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য চালু হলো নতুন সাহিত্য পুরস্কার

এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য চালু হলো নতুন সাহিত্য পুরস্কার

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

ঐতিহ্য প্রকাশ করবে কবি ও সম্পাদক ‘আবদুল হাই শিকদার-রচনাবলী’

শেখ রবিউল হকের ৮০ বছরের সৃজনযাত্রা উপলক্ষে চিত্রপ্রদর্শনী

শেখ রবিউল হকের ৮০ বছরের সৃজনযাত্রা উপলক্ষে চিত্রপ্রদর্শনী

‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ এবং রাজনীতির সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক

সৃজনের মাসিক পাঠচক্র ‘মৃত্যু ও নির্বাসন’ এবং রাজনীতির সঙ্গে সাহিত্যের সম্পর্ক

প্রেমের অধ্যায়

প্রেমের অধ্যায়

রমজানের গল্প নিয়ে শিশুদের জন্য বই লিখলেন মারিয়া জামান

রমজানের গল্প নিয়ে শিশুদের জন্য বই লিখলেন মারিয়া জামান

আরও পড়ুন

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যভুবন: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্জীবনের কথন

মকবুলা মঞ্জুরের সাহিত্যভুবন: সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্জীবনের কথন

এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য চালু হলো নতুন সাহিত্য পুরস্কার

এআই দিয়ে লেখা বইয়ের জন্য চালু হলো নতুন সাহিত্য পুরস্কার

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

কবি শামসুর রাহমানের জন্মদিন আজ

রাজনৈতিক ছোটগল্প আপন বলয়ের অন্ধকার

আপন বলয়ের অন্ধকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম