মার্কিন অবরোধে আটকা ইরানের ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধের ফলে তেহরানের অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করা হয়েছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বেতন সংক্রান্ত সমস্যা ক্রমেই বেড়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার। খবর আল আরাবিয়ার।
ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের ওপর মার্কিন সামরিক অবরোধ তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলো একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক খাতে অর্থায়ন, অস্ত্র কারখানা পুনর্নির্মাণ এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিভিন্ন মিলিশিয়া ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তা করার সক্ষমতাকে পঙ্গু করে দেওয়া।
উল্লেখ্য, এর আগে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮ দিনব্যাপী একটি সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছিল।
অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে মার্কিন বাহিনী তেহরানকে তিনটি প্রধান ক্ষেত্রে বড় ধরনের আঘাত করেছে: তেল রপ্তানি, ডিজিটাল অর্থায়ন এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অর্থ প্রদান।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা ইরানকে অন্তত ২৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছি।’
কমান্ডার জানান, এই অর্থগুলো অন্যথায় ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া, অপরাধী চক্র এবং আমেরিকান বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলার পেছনে ব্যয় হতো।
সেন্ট্রাল কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে মিলে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পদ জব্দ করতে সহায়তা করেছে। এটি তেহরানের জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন করা অথবা মার্কিন অভিযানের সময় ধ্বংস হয়ে যাওয়া অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো প্রতিস্থাপনের সুযোগ আরও সীমিত করে দিয়েছে।
কুপারের মতে, এই আর্থিক চাপের কারণে ইরান তার নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ করে আইআরজিসির সদস্যদের বেতন বেতন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি জানান, তেহরান তেল, জ্বালানি, উৎপাদন, নির্মাণ এবং নিরাপত্তা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান বন্ধ রেখেছে বা আটকে রেখেছে।
এই আর্থিক সংকট মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের মিত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কিছু গোষ্ঠী তাদের যোদ্ধাদের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে, যাতে সেই অর্থ আইআরজিসির তহবিলে স্থানান্তর করা যায়।
কুপার বলেন, আইআরজিসি নিজেও তাদের কর্মীদের বেতন দিতে গিয়ে সংকটে পড়েছে। তিনি বিষয়টিকে ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে ক্রমবর্ধমান আর্থিক মরিয়া অবস্থার প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ এখনো কার্যকর রয়েছে। সামুদ্রিক পথে আমদানি-রপ্তানির ওপর আরোপিত এই বিধিনিষেধের ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো মানবিক সহায়তা।

