ইয়েমেনে বিমান হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ২৫
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ পিএম
ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন স্থানীয়রা। ছবি: এপি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইয়েমেনের রাজধানী সানার কাছের একটি গ্রামে বিমান হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন।
তার অভিযোগ, আল-শারিয়া গ্রামে এ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তবে এপির পক্ষ থেকে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে সৌদি আরবের তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হতাহতের এ সংখ্যা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধের মধ্যে গত গ্রীষ্মে দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। এরপর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরব-সমর্থিত প্রতিপক্ষের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীগুলোর অবস্থান দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে।
এর আগে শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের একটি বাজারে বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছিলেন হুথি কর্মকর্তারা। ওই হামলার জন্য হুথি ও সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সামরিক বাহিনী পরস্পরকে দায়ী করেছে।
শনিবারের হামলার পর হুথি পরিচালিত আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে স্থানীয় একটি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থেকে একাধিক শিশুর নিথর দেহ বের করে আনতে দেখা যায় কর্মীদের। একটি ছোট মেয়ের মাথা গুরুতরভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল। অন্য শিশুরা রক্তাক্ত ও ব্যান্ডেজে মোড়ানো অবস্থায় স্ট্রেচারে শুয়ে ছিল। হাসপাতালের কর্মীরা তাদের চিকিৎসা দিচ্ছিলেন।
হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় অবস্থিত ওই কৃষিপ্রধান গ্রামটি রাজধানী সানা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে। হামলার পর সেখানকার ভিডিওতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপ এবং বাতাসে ধুলার কুণ্ডলী দেখা গেছে। হামলা থেকে বাঁচতে স্থানীয়দের আশপাশের কৃষিজমিতে আশ্রয় নিতেও দেখা যায়।
আল-আসবাহি আল-মাসিরাকে জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৫ হয়েছে। এর আগে এপিকে তিনি ২২ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, হামলায় বিধ্বস্ত বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বেসামরিক মানুষ আটকে রয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালানোর সময় পরবর্তী হামলাগুলো তাদের লক্ষ্য করেও চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। সূত্র: এপি

