১২২ দিনে ৩৪ অস্ত্রোপচার, অবশেষে মায়ের কোলে ফিরল আরিয়ান
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৮ পিএম
আরিয়ান আফিফ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে ভয়াবহ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ১২ বছর বয়সি শিশু আরিয়ান আফিফ দীর্ঘ ১২২ দিনের বাঁচা-মরার লড়াই শেষে সুস্থ হয়ে মায়ের কোলে ফিরেছে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট থেকে বাড়ি ফিরেছে আরিয়ান।
গত জুলাই মাসে ওই বিমান দুর্ঘটনার পর যখন দগ্ধ আরিয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তখন প্রথম ৮ দিন তাকে ভেন্টিলেশনে রাখতে হয়েছিল। এরোনারি কেয়ার ইউনিট ও আইসিইউতে কাটানো সেই দুঃসহ সময়ে চিকিৎসকরা প্রায় হাল ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু হার মানেনি ছোট্ট আরিয়ান।
চিকিৎসকরা জানান, ১২২ দিনে আরিয়ানের ৩৪টি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। একেকটি অপারেশন ছিল নতুন একটি যুদ্ধ। প্রায় ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়ে গত ২১ জুলাই হাসপাতালে ভর্তি হয় সে। ত্বক প্রতিস্থাপন থেকে শুরু করে গ্রাফটিং- প্রতিটি ধাপেই মৃত্যু উঁকি দিয়েছে। এর মধ্যে আট বার তাকে আইসিইউতে নিতে হয়, তিন দিন ছিল লাইফ সাপোর্টে। তবু হার মানেনি শিশুটি। তার বেঁচে ফেরার অদম্য ইচ্ছা আর চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ নিজের পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরল ছোট্ট আরিয়ান।
আজ (২০ নভেম্বর) সকালে হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরিয়ানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ভেবেছিলাম আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। ও যতদিন ছিল না, আমার বাসার দরজা বন্ধ ছিল। আজ তা খুলে গেল।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, আরিয়ানের কেস ছিল আমাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন কেসগুলোর একটি। শুধু শারীরিক দগ্ধ নয়, মানসিক আঘাতও ছিল প্রচণ্ড। তাকে শারীরিক ও মানসিক– দুই দিক থেকেই সুস্থ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আরিয়ানকে সুস্থ করে তুলতে চিকিৎসক, নার্স ও সাপোর্ট স্টাফসহ পুরো ইউনিট দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। ভবিষ্যতে তার নিয়মিত ফলো-আপ চলবে এবং প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা সহায়তা ইনস্টিটিউট থেকে প্রদান করা হবে।
ডা. নাসির উদ্দিন আরও বলেন, আরিয়ানের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
