আবু সাঈদ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল পথিকৃৎ: ত্রাণমন্ত্রী
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শুক্রবার বিকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, রংপুরের প্রিয়সন্তান আবু সাঈদ স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনীর গুলির মুখে বুক প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিল। আমি মনে করি, আবু সাঈদ এ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মূল পথিকৃৎ।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে দিয়েছিল। তার আত্মদানের পথ ধরে সারা দেশের ছাত্র-জনতা, বুদ্ধিজীবী, শিশু ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণের এ উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তার বীরত্ব ও আত্মত্যাগ সম্পর্কে জানতে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে শহীদ আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে যারা যাতায়াত করবেন, তারা এই তোরণ দেখে আবু সাঈদের অবিস্মরণীয় আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করতে পারবেন।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন করেছে এবং সেখানে বিরোধী পক্ষকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর যেসব মৌলিক বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সেগুলোর ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করা হবে।
উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো সুবিশাল একটি প্রকল্প একদিনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। এ ধরনের মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও চূড়ান্ত নকশা প্রণয়নসহ বিভিন্ন কারিগরি ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এর মধ্য দিয়ে রংপুরবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তব অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে।
রংপুরের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য সরকার ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নিশ্চিত করেছে। কোনো অঞ্চলকেই বৈষম্যের মধ্যে রাখতে চায় না সরকার। রংপুরের উর্বর কৃষি, ভূমি ও বিপুল শ্রমশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদকাসক্তি বর্তমানে সারা দেশের একটি বড় সামাজিক সংকট, যার শিকার হচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। এ সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি সর্বাত্মক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনবল সংকট দূর করতে নতুন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর পদ সৃষ্টির উদ্যোগ এবং দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আধুনিক কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা সায়েন্স ও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো যুগোপযোগী বিষয় চালুর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই কয়েকটি নতুন বিষয় চালু করা সম্ভব হতে পারে। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক চেহারা বদলে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্বের ইতিহাসে যতগুলো সফল গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম জুলাই আন্দোলন। শহীদ আবু সাঈদের আত্মদানের ঘটনা বিশ্বমঞ্চে সবার ওপরে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
তিনি জানান, বেরোবিকে আধুনিক শিক্ষাঙ্গন হিসেবে গড়ে তুলতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের জন্য তোলা হবে।
সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শহীদ আবু সাঈদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অবিনাশী প্রতীক। তার স্মৃতিবিজড়িত এ গেটটি শুধু একটি সাধারণ প্রবেশদ্বার নয়, এটি আমাদের স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও চেতনার এক অবিচ্ছেদ্য স্মারক। তিনি জানান, যুগোপযোগী নতুন বিভাগ চালুর বিষয়ে ইতোমধ্যেই ইউজিসিতে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান প্রমুখ।
পরে সন্ধ্যায় মন্ত্রী রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মরহুম আনিসুর রহমান লাকুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
