রংপুরে এলপিজি স্টেশনে কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ, মজুত থাকলেও মিলছে না গ্যাস
Advertisement
রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি তেলের পর এবার রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলায় এলপিজি গ্যাসের সংকট দেখা দিয়েছে। স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত থাকার পরও গত কয়েক দিন ধরে সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। বাড়তি দামে বিক্রির আশায় একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করছেন পাম্প মালিক ও গ্রাহকেরা।
সরেজমিনে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলপিজি স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কোথাও স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে, আবার কোথাও মেশিন নষ্টের কারণ দেখিয়ে গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
দিনাজপুরের দশমাইল এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় এলপিজি স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে না। দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় সড়কের পাশের কয়েকটি স্টেশনেও একই অবস্থা বলে জানান তারা।
লালমনিরহাটের কাকিনা এলাকার একটি এলপিজি স্টেশনের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্টেশনে গ্যাস মজুত থাকলেও মালিক বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গ্যাসের দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
রংপুর সদর উপজেলার পাগলাপীর এলাকার একটি এলপিজি স্টেশনের কর্মচারী মুশফিক ও সোহাগ মিয়া বলেন, আশপাশের পাঁচ-ছয়টি স্টেশনে গ্যাস মজুত রয়েছে। তবে কেন বিক্রি করা হচ্ছে না, তা মালিকরা ভালো বলতে পারবেন।
ভাড়ায় গাড়ি চালানো আমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেন, মজিদুল ইসলাম ও সাজিদুল মিয়া বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অনেক স্টেশনে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। জ্বালানি তেলের দাম বেশি হওয়ায় তারা গ্যাসচালিত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস না পাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
তবে মিঠাপুকুরের হাসনা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জগদীশ রায় বলেন, তাদের স্টেশনে পর্যাপ্ত এলপিজি রয়েছে। কিন্তু মেশিন নষ্ট থাকায় বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিসমিল্লাহ এলপিজি গ্যাস পাম্পের ম্যানেজার রায়হান কবির বলেন, এলপিজির দাম বিভিন্ন সময়ে বাড়ানো-কমানো হয়েছে। বর্তমানে সরকার নির্ধারিত দরে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। তার দাবি, গ্যাসের দাম বাড়ার গুজবের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল ছোট ব্যবসায়ীরা এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
বদরগঞ্জের মণ্ডলের হাট এলপিজি স্টেশনের মালিক আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যে দাম বাড়তে পারে। এ কারণে আপাতত গ্যাস সরবরাহ না করতে বলা হয়েছে।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও বিএনপির মহানগর কমিটির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সামু বলেন, মজুত থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সরবরাহ না করা হলে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম বলেন, এলপিজি মজুত থাকার পরও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো চক্র জনগণকে জিম্মি করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রশাসন তা মেনে নেবে না।
রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান বলেন, এলপিজির কৃত্রিম সংকট বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি বিক্রি করতে হবে। নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

