Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম

ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রান্নাঘরের দৈনন্দিন খরচের একটি বড় অংশ যায় সিলিন্ডার গ্যাসের পেছনে। গ্যাসের দাম বাড়া বা বাজারে অস্থিরতার সময়ে বাড়তি খরচ সামলাতে অনেক পরিবারকেই হিমশিম খেতে হয়। তবে রান্নার পদ্ধতি ও চুলা ব্যবহারের অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনলে গ্যাসের ব্যবহার অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সঠিকভাবে চুলা ও বার্নার ব্যবহার, রান্নার আগে উপকরণ প্রস্তুত করা, ঢাকনা ব্যবহার এবং কম আঁচে রান্নার মতো সহজ কিছু কৌশল গ্যাস সাশ্রয়ে কার্যকর হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমানোর কিছু উপায়—

রান্নার আগে সব প্রস্তুতি 

রান্না শুরুর আগেই সবজি, মাংস ও অন্যান্য উপকরণ ধুয়ে, কেটে ও মসলা প্রস্তুত করে রাখুন। অনেকেই পাত্র গরম করার সময় রান্নার উপকরণ প্রস্তুত করতে থাকেন। এতে অপ্রয়োজনে চুলা বেশি সময় জ্বালিয়ে রাখতে হয়। তাই চুলা জ্বালানোর আগেই সব উপকরণ হাতের কাছে প্রস্তুত রাখুন। সম্ভব হলে শক্ত খাবারগুলো ছোট টুকরো করে নিলে দ্রুত রান্না হয় এবং গ্যাসও কম লাগে।

বার্নার ও রান্নার পাত্র পরিষ্কার রাখুন

চুলার বার্নার অপরিষ্কার থাকলে গ্যাসের দহন সঠিকভাবে হয় না। সাধারণত স্বাভাবিকভাবে জ্বললে শিখা নীল থাকে। হলুদ বা কমলা শিখা দেখা গেলে বার্নার অপরিষ্কার থাকার মতো সমস্যা থাকতে পারে। এ ছাড়া রান্নার পাত্রের নিচে পানি লেগে থাকলেও তা শুকাতে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োজন হয়। তাই চুলায় বসানোর আগে পাত্রের তলা ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এবং বার্নার নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।

সঠিক আকারের পাত্র ব্যবহার করুন

চুলার বার্নারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আকারের পাত্র ব্যবহার করা জরুরি। পাত্রের চারপাশ দিয়ে আগুন বেরিয়ে গেলে তাপের একটি অংশ সরাসরি বাতাসে চলে যায়। এতে গ্যাসের অপচয় হয়। সমতল তলার পাত্র সাধারণত তাপ সমানভাবে ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। পাত্রের তলা যদি বার্নারের তুলনায় খুব ছোট বা বড় হয়, তাহলে তাপের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

রান্নার সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন

খোলা পাত্রে রান্না করলে তাপ দ্রুত বাইরে চলে যায়। ফলে খাবার রান্না করতে বেশি সময় লাগে এবং গ্যাসও বেশি খরচ হয়। পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলে তাপ ও আর্দ্রতা ভেতরে আটকে থাকে। এতে খাবার তুলনামূলক দ্রুত রান্না হয় এবং গ্যাসের ব্যবহার কমে।

কম বা মাঝারি আঁচে রান্না করুন

রান্না দ্রুত করার জন্য অনেকে চুলার আঁচ বাড়িয়ে দেন। কিন্তু সব খাবারের ক্ষেত্রে বেশি আঁচ প্রয়োজন হয় না। অতিরিক্ত তাপে খাবার পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের অপচয়ও হয়। পানি ফুটে যাওয়ার পরও চুলা সর্বোচ্চ আঁচে রাখার প্রয়োজন নেই। বরং কম বা মাঝারি আঁচে রান্না চালিয়ে গেলে একই খাবার তুলনামূলক কম গ্যাসে রান্না করা যায়। এ ছাড়া ভাত বা পাস্তার মতো খাবারের ক্ষেত্রে রান্না শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে চুলা বন্ধ করে অবশিষ্ট তাপে রান্না সম্পন্ন করা যেতে পারে।

হিমায়িত খাবার আগে গলিয়ে নিন

ফ্রিজ থেকে বের করা জমাট খাবার সরাসরি চুলায় দিলে রান্নার আগে খাবারটির তাপমাত্রা স্বাভাবিক করতে অতিরিক্ত তাপ প্রয়োজন হয়। এতে রান্নার সময় বাড়ে এবং গ্যাসও বেশি লাগে। তাই রান্নার প্রয়োজনীয় খাবার কিছুক্ষণ আগে ফ্রিজ থেকে বের করে স্বাভাবিকভাবে গলিয়ে নিলে রান্নার সময় কমানো সম্ভব।

প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করুন

রান্নার ধরন অনুযায়ী পরিমিত পানি ব্যবহার করা উচিত। অতিরিক্ত পানি দিলে সেটি ফুটিয়ে রান্নার উপযোগী করতে বেশি সময় ও গ্যাস প্রয়োজন হয়। আবার পানি খুব কম হলে খাবার ঠিকমতো সিদ্ধ বা রান্না নাও হতে পারে। তাই খাবারের ধরন অনুযায়ী যতটুকু পানি প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করা ভালো।

প্রেসার কুকার ব্যবহার করুন

ডাল, মাংস বা দীর্ঘ সময় ধরে রান্না করতে হয় এমন খাবারের ক্ষেত্রে প্রেসার কুকার ব্যবহার করলে সময় ও গ্যাস দুটোই সাশ্রয় করা যায়। প্রেসারের কারণে খাবার দ্রুত সিদ্ধ হয়। খাবার গরম করার জন্য বাড়িতে মাইক্রোওয়েভের মতো বিদ্যুৎচালিত যন্ত্র থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে চুলা অপ্রয়োজনে জ্বালিয়ে রাখতে হয় না।

একসঙ্গে একাধিক খাবার রান্না করুন

যেসব খাবার একই ধরনের তাপমাত্রা বা পদ্ধতিতে রান্না করা যায়, সেগুলো একসঙ্গে তৈরি করা যেতে পারে। এতে আলাদা আলাদা সময়ে চুলা জ্বালানোর প্রয়োজন কমে। বিশেষ পাত্র ব্যবহার করে একটি খাবার থেকে উৎপন্ন তাপ দিয়ে অন্য খাবারও সিদ্ধ বা গরম করা সম্ভব। এ ধরনের পদ্ধতি গ্যাস সাশ্রয়ে কার্যকর হতে পারে।

তাপ ধরে রাখে এমন পাত্র ব্যবহার করুন

ঢালাই লোহা বা তামার মতো উপাদানের পাত্র তাপ ভালোভাবে ধরে রাখতে পারে। বিশেষ করে ঢালাই লোহার পাত্র দীর্ঘ সময় গরম থাকে। ফলে কম আঁচে রান্না করা এবং চুলা বন্ধ করার পর অবশিষ্ট তাপ কাজে লাগানো সম্ভব হয়। তবে পাত্রের ধরন যাই হোক, সেটি চুলার বার্নারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিন

গ্যাস সাশ্রয়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। গ্যাসের চুলার শিখা অস্বাভাবিক হলুদ বা কমলা হলে, বার্নার ঠিকমতো কাজ না করলে কিংবা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে চুলা বন্ধ করে দক্ষ ব্যক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল যত

এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল যত

এলপি গ্যাসের দাম আরও বাড়ছে, ঘোষণা আসছে

এলপি গ্যাসের দাম আরও বাড়ছে, ঘোষণা আসছে

এলপি গ্যাস বিক্রি ও মজুত নিয়ে কড়া বার্তা

এলপি গ্যাস বিক্রি ও মজুত নিয়ে কড়া বার্তা

বরিশালে এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

বরিশালে এলপি গ্যাসের জন্য হাহাকার

‘দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই’

‘দেশে এলপি গ্যাসের কোনো সংকট নেই’

২ হাজার টাকা ছাড়াল ১২ কেজির সিলিন্ডার

২ হাজার টাকা ছাড়াল ১২ কেজির সিলিন্ডার

আরও পড়ুন

মেকআপ ছাড়া চেহারায় লাবণ্য ধরে রাখবেন যেভাবে

মেকআপ ছাড়া চেহারায় লাবণ্য ধরে রাখবেন যেভাবে

১৪ সন্তানের বাবা ইলন মাস্কের আলোচিত প্রেম ও সম্পর্কের ইতিহাস

১৪ সন্তানের বাবা ইলন মাস্কের আলোচিত প্রেম ও সম্পর্কের ইতিহাস

শার্টের বুকপকেট সাধারণত বাঁ দিকে থাকে কেন?

শার্টের বুকপকেট সাধারণত বাঁ দিকে থাকে কেন?

ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে

ঘরের রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম