Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

হামের উপসর্গ কোনগুলো, কখন মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়, চিকিৎসা কী?

Advertisement

ডা. আয়শা আক্তার

ডা. আয়শা আক্তার

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

হামের উপসর্গ কোনগুলো, কখন মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হয়, চিকিৎসা কী?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

হামের প্রথম কয়েকদিন সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে। কারণ হামে ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ায় এজন্য উপসর্গগুলো শুরু হয়  নাক দিয়ে পানি পড়া, সঙ্গে জ্বর (১০৩-১০৫°), কাশি, গলা ব্যথা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া।

প্রায় ২-৪ দিন পর শরীরে লালচে ছোপ ছোপ ফুসকুড়ি প্রথমে মুখে দেখা যায়। তারপর গলায়, ঘাড়ে সারা শরীরে পড়ে। যা ৫-৭ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

হাম বা রুবিওলা ( Rubeola) একটি অত্যন্ত ছোয়াঁচে ও তীব্র ভাইরাসঘটিত সংক্রামক রোগ। প্যারামক্সিভাইরাস গোত্রের মর্বিলিভাইরাসগণের অন্তর্গত ভাইরাসের কারণে রোগটি ঘটে।

হাম শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন— ফুসফুস বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়লে গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, অন্ধত্ব এবং খিঁচুনি। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় যার কারণে অন্যান্য ইনফেকশন দ্বারা খুব সহজে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি হয়ে যায়।

হামের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা বা প্রতিকার নেই। হাম থেকে রক্ষা পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো হামের টিকা, যা নির্ধারিত ২টি ডোজ নেওয়ার পর হাম প্রতিরোধে ৯৭% কার্যকর। যদি কেউ হাম এ আক্রান্ত হয় তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই আইসোলেশনে রাখতে হবে; যাতে তার কাছ থেকে অন্য কারো মধ্যে ছড়িয়ে না পারে এবং শুরুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমাতে হলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, সময়মতো টিকা দেওয়া এবং হাম হলে সময়মত চিকিৎসা শুরু করার উপর মনোযোগ দিতে হবে।

হাম হলে প্রথম লক্ষণ দেখা দেওয়ার ২-৩ দিন পরে মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক দাগ) দেখা যায়।৩-৫ দিন পরে  ফুসকুড়ি ( ম্যাকুলোপ্যাপুলার) দেখা যায়।এটি মুখ থেকে শুরু হয় এবং নিচের দিকে চলে যায়।

হাম এ আক্রান্ত  ব্যক্তিরা যখন শ্বাস নেয়, কাশি দেয় বা হাঁচি দেয় তখন রুবেওলা ভাইরাস বাতাসের ফোঁটার মাধ্যমে ঘুরে বেড়ায়। এই সংক্রামক কণাগুলো দুই ঘণ্টা পর্যন্ত পৃষ্ঠের উপর সক্রিয় থাকে।বেশিরভাগ রোগী ৭-১০ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন।

কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় জটিলতা ধারণ করে বিশেষ করে  শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ইনফেকশন হয়ে মস্তিষ্কের প্রদাহ, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি হতে পারে।

চিকিৎসা

হাম এর নির্দিষ্ট কোন এন্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা হয়ে থাকে।আক্রান্ত হলে শরীরের সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখতে হবে এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। জ্বর হলে ওষুধ দিয়ে জ্বর নিয়ন্ত্রণ করা এবং দুদিনের জন্য ভিটামিন এ সম্পূরক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাম হলে আতঙ্কিত হওয়া যাবে না।সতর্ক ও সচেতন  হতে  হবে। রোগীকে আইসলেশনে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং ভ্যাকসিন সময় মতো দিয়ে দিতে হবে  এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

লেখক: আয়েশা আক্তার

উপ-পরিচালক

২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু

হামের বিরুদ্ধে লড়ছে বাংলাদেশ, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা

রয়টার্সের প্রতিবেদন হামের বিরুদ্ধে লড়ছে বাংলাদেশ, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা

আরও তিন মৃত্যু, হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১১৮৯

আরও তিন মৃত্যু, হাম ও উপসর্গে মোট প্রাণহানি ১১৮৯

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩৯২

হাম উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৩৯২

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু

আরও পড়ুন

সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী

সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি: প্রধানমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে

জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বাড়াতে হবে

প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বাড়াতে হবে

মঙ্গলবার রাজশাহীতে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

মঙ্গলবার রাজশাহীতে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম