Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, শিরীন শারমিন কারাগারে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

রিমান্ড-জামিন নামঞ্জুর, শিরীন শারমিন কারাগারে

সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর লালবাগ থানা এলাকায় আশরাফুল ওরফে ফাহিমকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) তার দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাকে সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর বেলা ৩টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশি বেষ্টনীতে তাকে এজলাসে তোলা হয়।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। 

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে মর্মে জানান। মামলার পলাতক আসামিসহ মামলার ঘটনা সংক্রান্তে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি কৌশলে প্রশ্ন এড়িয়ে যান। আসামিকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার ঘটনা সংক্রান্তে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেফতার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়াসহ মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করাসহ গ্রেফতার এবং মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।  

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে গতি সঞ্চার হয়। ছাত্র জনতার এই শান্তিপূর্ণ  আন্দোলন দমানোর জন্য গ্রেফতার আসামিসহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দমন পীড়ন শুরু করে। গত ১৮ই জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারী কলোনীর ভেতরে নিরস্ত্র ছাত্র জনতার বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিল করা কালে শেখ হাসিনার নির্দেশে মামলার এজাহারনামীয় আসামি, পুলিশ ও অজ্ঞাতনামা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও অন্যান্য আসামিরা বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর দেশী ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে হত্যাযজ্ঞ চালায়।   

এজাহারে আরও বলা হয়, একই দিনে ঘটনাস্থলে বাদী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনরত অবস্থায় বাম চোখ ভেদ করে চোখের রেটিনার পিছনে, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ঢলে পড়েন। আরও অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত ও নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন বাদীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং ভর্তি করে ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। পরবর্তিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালে অপারেশন করেন এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে রেফার করেন। বাদী বাম চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। 

উল্লেখ্য, গত ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী আশরাফুল। আজ ভোরে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করে ঢাকা মহানগর ডিবি পুলিশ। এরপর তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম