Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

কয়েক ধাপে কাজ করত প্রশ্নফাঁস চক্র, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:১০ পিএম

কয়েক ধাপে কাজ করত প্রশ্নফাঁস চক্র, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

Advertisement

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা, বিসিএস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্ন আগেভাগেই সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট প্রার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হতো। এর মাধ্যমে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বহু প্রার্থী সরকারি চাকরিতে নিয়োগ পান।

তদন্তে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁস চক্রটি কয়েকটি ধাপে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে কাজ করত। প্রথমে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা এমন চাকরিপ্রত্যাশীদের খুঁজে বের করতেন, যারা যে কোনো মূল্যে সরকারি চাকরি পেতে আগ্রহী। এরপর পরীক্ষার ধরন অনুযায়ী কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের সঙ্গে চুক্তি করা হতো।

পরবর্তী ধাপে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হতো। প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও প্যাকেজিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন বাইরে বের করে আনা হতো। পরে নির্বাচিত প্রার্থীদের ঢাকায় এনে নিরাপদ স্থানে রাখা হতো এবং পরীক্ষার আগের রাতে তাদের হাতে প্রশ্ন ও উত্তর তুলে দেওয়া হতো। অনেক ক্ষেত্রে উত্তর মুখস্থ করানোর জন্য আলাদা তদারকি দলও কাজ করত।

তদন্ত সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন ভোরে প্রার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্তরভিত্তিক ও অত্যন্ত গোপনীয়। চক্রের সদস্যরা আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করায় মূল নেতৃত্বকে শনাক্ত করতে দীর্ঘ তদন্তের প্রয়োজন হয়েছে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, চক্রটির বিস্তার ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে সরকারি চাকরিজীবী, পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষ জড়িত ছিলেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, নেটওয়ার্কটি বিজি প্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি সংস্থার পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।

তদন্তে উঠে এসেছে, বিজি প্রেসে কর্মরত মোহাম্মদ আকরাম হোসেন মন্ডল প্রশ্নপত্র প্যাকেজিংয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কখনো প্রশ্নপত্র বাথরুমে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনে ছবি তুলতেন, পরে কাগজ কমোডে ফ্লাশ করে দিতেন। আবার কখনো প্রশ্নপত্র অন্তর্বাসের মধ্যে লুকিয়ে বাইরে নিয়ে যেতেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, বিজি প্রেসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মজনু মিয়াও পরবর্তী সময়ে এই চক্রে যুক্ত হন। তারা বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার সব সেটের প্রশ্ন সংগ্রহ করে চক্রের অন্যান্য সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। সিআইডির মতে, প্রশ্ন বাইরে বের করে আনার এই ধাপটি ছিল পুরো নেটওয়ার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

অভিযোগপত্রে মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসনকেন্দ্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে পরীক্ষার্থীদের গোপনে রাখা হতো। পলাতক আসামি আল মামুন ‘ইউএসটি’ ও ‘পদক্ষেপ’ নামে দুটি এনজিও প্রতিষ্ঠানের আবাসন ভাড়া নিয়ে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার দুই দিন আগে সেখানে এনে রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জব্দ করা রেজিস্টার, মানি রিসিট, ব্যাংক স্লিপ এবং অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সেখানে পরীক্ষার্থীদের থাকা-খাওয়া এবং প্রশ্ন-উত্তর মুখস্থ করানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একটি নিয়োগ পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবাসন ও খাবারের জন্য ৪ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্য একটি ঘটনায় ৫০ হাজার টাকার লেনদেনের প্রমাণও মিলেছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় একই কৌশল অনুসরণ করা হয়েছিল। পরীক্ষার্থীদের আবাসনে এনে রাখা, প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহ এবং পরীক্ষার আগে প্রস্তুত করানোর বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

তদন্তে সরাসরি ৫৫ জনের নাম এলেও পুরো নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে এসেছে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের নাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রার্থী সংগ্রহ, অর্থ বণ্টন এবং প্রশ্ন সরবরাহের পুরো কার্যক্রমের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ছিল।

তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে আবেদ আলী ও তার সহযোগীরা ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট এবং অন্যান্য সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদের উৎস এবং আর্থিক লেনদেন বর্তমানে পৃথকভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ খাতে স্থানান্তর এবং সম্পদে রূপান্তরের অভিযোগে অন্তত ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অনুসন্ধান চলছে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, প্রশ্নফাঁসের অর্থ কোথায় গেছে, কার নামে সম্পদ হয়েছে, ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে কী ধরনের লেনদেন হয়েছে এবং অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, প্রশ্নফাঁস মামলার চেয়েও বড় ও বিস্ময়কর তথ্য সামনে আসতে পারে এই আর্থিক অনুসন্ধান থেকে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় গুরুত্বারোপ আইনমন্ত্রীর

অপ্রতিমকে নিয়ে মা নাহিদার আবেগঘন পোস্ট

অপ্রতিমকে নিয়ে মা নাহিদার আবেগঘন পোস্ট

ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমে কড়া নজরদারি পুলিশের

ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমে কড়া নজরদারি পুলিশের

মনে আছে কু'খ্যাত সেই এরশাদ শিকদারের কথা?

মনে আছে কু'খ্যাত সেই এরশাদ শিকদারের কথা?

ঊর্ধ্বমুখী অপরাধে উদ্বিগ্ন মানুষ

ঊর্ধ্বমুখী অপরাধে উদ্বিগ্ন মানুষ

অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারের

সিএমএসডিতে অনিয়ম-দুর্নীতি অর্ধশত কোটি টাকা আত্মসাৎ সরবরাহকারী ঠিকাদারের

আরও পড়ুন

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

মহাকাশে বড় বিপদ থেকে যেভাবে রক্ষা পেল বাংলাদেশের স্যাটেলাইট

পরবর্তী ধাপ নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ

রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা

রাতে সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে নতুন নির্দেশনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম