Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমে কড়া নজরদারি পুলিশের

Advertisement

সিরাজুল ইসলাম

সিরাজুল ইসলাম

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার পূর্ব-পশ্চিমে কড়া নজরদারি পুলিশের

Advertisement

রাজধানীসহ সারা দেশে হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে গত কয়েক দিনে যেসব বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে, সেসব বেশির ভাগ বাসের মালিক আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ব্যবসায়ী ও নেতা। নিজেদের মালিকানাধীন বাসে আগুন দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের চেষ্টা করছে তারা। নাশকতা সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার পাশাপাশি আওয়ামী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা এবং সহানুভূতি আদায় করে বিমার টাকা দাবি করাই তাদের লক্ষ্য। তবে নাশকতায় অর্থ জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খবর নির্ভরযোগ্য সূত্রের।

এদিকে, রাজধানীর ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশল অবলম্বন করে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে নাশকতা সৃষ্টির মিশন নিয়ে কাজ করছে নিষিদ্ধ দলটি। পুলিশের ভাষায় ‘হিট অ্যান্ড রান’ হলো ঘটনা ঘটিয়ে দ্রুত পলায়ন করা। এমন কৌশলই আপতত ব্যবহার করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটি। তবে তাদের এই পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। নাশকতা প্রতিরোধে রাজধানীতে এসআরবি (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন), ডিএমপি, ডিবি এবং সিটিটিসি একযোগে মাঠে কাজ করছে। রাজধানী ছাড়াও দেশের সব বিভাগ ও জেলায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আওয়ামী নাশকতার নতুন ধরন ও কৌশল সম্পর্কে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানীর প্রবেশমুখ ও পূর্ব-পশ্চিমের স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নাশকতাকারীদের টার্গেট করা রাজধানীর পূর্ব অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে-ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, সবুজবাগ, বাসাবো, খিলগাঁও। পশ্চিম অঞ্চলে রয়েছে-গাবতলী, মোহাম্মদপুর, বসিলাসহ মিরপুরের শেষ অংশ। এসব এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

সূত্র আরও জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মীরা ককটেল নিক্ষেপের মাধ্যমে প্রথমে মহড়া শুরু করে। পরে তারা বাসে আগুন দেয়। বড় ধরনের নাশকতা সৃষ্টির অংশ হিসাবে রোববার রাতে তারা কমলাপুরে ট্রেনে আগুন দেয়। তাদের পরিকল্পনায় আরও রয়েছে-মেট্রোরেলসহ সারা দেশের কেপিআইভুক্ত (কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর) প্রতিষ্ঠান। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ইতোমধ্যেই সারা দেশে কেপিআইগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনার পর এরই মধ্যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই এলাকাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। তালিকা তৈরি করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে তদারকির দায়িত্ব। নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী অর্থ জোগান ও ইন্ধন দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই রাজনৈতিক গোষ্ঠীর শীর্ষ নেতারা বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই দেশের ভেতরের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং অর্থ পাঠাচ্ছেন। তাদের নির্দেশেই দেশে অস্থিতিশীলতা ও অরাজকতা তৈরি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অর্থ জোগানদাতা ও মূল নির্দেশদাতাদের তথ্য পেয়েছে। অর্থের জোগানদাতা এবং ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে যেসব বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তার একটি বড় অংশই আওয়ামী লীগ সমর্থিত বা নেতাকর্মীদের মালিকানাধীন গণপরিবহণ। নিজেদের বাসে আগুন দেওয়া তাদের একটি কৌশলগত চাল। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনগণের সহানুভূতি আদায় এবং সরকারের ওপর দায় চাপানোর অপকৌশল হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর পেছনে পরিবহণ খাতে কৃত্রিম আতঙ্ক তৈরি করে রাজপথ অচল করার পাঁয়তারাও করছে তারা। একই সঙ্গে রেল যোগাযোগ বিনষ্টের জন্য আওয়ামী চক্র সেখানেও আগুন দিচ্ছে।

রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ইনচার্জ) ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রেলস্টেশনে আগুন এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সারা দেশে রেলপথ এবং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও সাইমুন নামের দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রায়হান বাংলাদেশ রেলওয়ের কমলাপুর রেলস্টেশনের এমওডি শাখায় ইলেকট্রিশিয়ান হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শাহজাহানপুর থানা শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আর সাইমুন শাহজাহানপুর থানা এলাকার যুবলীগের সক্রিয় কর্মী। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনের নাম ও পরিচয় পাওয়া গেছে। যাদের নাম এসেছে তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান বলেন, রোববার রাতে ট্রেনে আগুনের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নাশকতাকারীরা মূলত রাজধানীর পূর্ব এবং পশ্চিম অঞ্চলকে টার্গেট করছে। এর পেছনে বেশকিছু কারণ রয়েছে। মূল কারণ হলো, নাশকতার পর সহজে ঢাকার বাইরে পালিয়ে যাওয়া। এসব এলাকা রাজধানীর প্রবেশমুখ ও সীমান্ত ঘেঁষা হওয়ায় নাশকতা চালিয়ে দ্রুত ঢাকার বাইরে বা শহরের ভেতরের অলিগলিতে গাঢাকা দেওয়া সহজ। কেন্দ্রস্থলের নিরাপত্তার তুলনায় ঢাকার প্রান্তিক এলাকাগুলোতে সিসিটিভি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কিছুটা কম থাকার সুযোগ নিচ্ছে দুষ্কৃতকারীরা। ঝটিকা মিছিল থেকে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দিয়ে দ্রুত সটকে পড়ার জন্য তারা এই এলাকাগুলোকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীতে গণপরিবহণে আগুন, ককটেল নিক্ষেপ ও নাশকতার মূল উদ্দেশ্য হলো জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ-এমন চিত্র ফুটিয়ে তোলা। ঢাকার পূর্ব ও পশ্চিম সীমানায় নাশকতার বিষয়ে তিনি জানান, এই এলাকাগুলো ঢাকার প্রবেশদ্বার বা প্রান্তিক হওয়ায় অপরাধীরা অপরাধ করে দ্রুত বের হয়ে যেতে বা পালিয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় ঘনবসতি এবং নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের বসবাস বেশি; যা অপরাধীদের গোপন আস্তানা হিসাবে ব্যবহারের সুবিধা দেয়। তিনি বলেন, মিরপুর বা পল্লবীর বাসে মাত্রাতিরিক্ত গাদাগাদি বা ভিড় থাকে, যা রাজধানীতে চলাচলকারী অন্য বাসের তুলনায় বেশি। গণপরিবহণের এই অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই নাশকতামূলক কাজ করে সটকে পড়তে পারে-সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম