চীনা ইকোনোমিক জোন শিল্পায়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে: অর্থমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো ও কর্ণফুলী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় চায়নিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে (সিইআইজেড) এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগ হবে। এই প্রকল্প শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশের শিল্পায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বেলচূড়া এলাকায় চায়নিজ ইকোনোমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
একই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই প্রকল্পে দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ছাড়া বিনিয়োগ সম্ভব নয়। আবার বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে অর্থনৈতিক অগ্রগতিও সম্ভব নয়। নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
প্রকল্প গ্রহণের দীর্ঘ একযুগ পর ভিত্তিপ্রস্তরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করল দেশের বৃহৎ এই ইকোনোমিক জোন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, আনোয়ারা আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হক, চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনের (সিআরবিসি) সভাপতিসহ চায়না ও বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী, বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ৫শ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও অবকাঠামোসহ সব বিনিয়োগ মিলিয়ে শেষপর্যন্ত এর পরিমাণ এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের সুফল শুধু আনোয়ারায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর মাধ্যমে শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে, বিভিন্ন সেবাখাতের বিকাশ ঘটবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে শুধু শিল্পকারখানাই নয়, আবাসন, পরিবহণ, লজিস্টিকস, সেবা খাত এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
উদ্বোধন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। চাইনিজরা বিশাল আকারে বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশে আসছে। তারা শুধু গার্মেন্টস খাতে নয়, মেডিকেল ইকুইপমেন্ট থেকে শুরু করে সেলফোন উৎপাদনসহ নানা ধরনের শিল্পে বিনিয়োগ করছে।
তিনি বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে । এ কারণে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে আইন, নীতিমালা ও বিধি-বিধানে ব্যাপক সংস্কার এবং নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার শুধু চীনের নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), দেশীয় বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজারে বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহও বাড়ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে, যাতে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তারা আস্থার সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের ধরনা
এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সড়কে অবস্থান নেন ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। হলুদ গেঞ্জি পড়ে অর্থমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পথ আটকে তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি গোষ্ঠীর হয়ে পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার ব্যাংকারকে চাকরিচ্যুত করেছে। তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে এখন রাস্তায় নেমেছেন। তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য মন্ত্রীদ্বয়ের কাছে আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ব্যবস্থাপনায় এই চীনা অর্থনৈতিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এতে ব্যয় করা হবে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এই শিল্পাঞ্চলে ওষুধ, তৈরি পোশাক, গাড়ি তৈরি, ইলেকট্রনিক্স, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, রাসায়নিক, স্বাস্থ্য সরঞ্জাম, প্লাস্টিক পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, ফার্নেস ও সিমেন্টসহ ৩৭১টি শিল্প-কারখানা তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
