আসিফ নজরুল
১৬ ডিসেম্বরের পর দেশের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন আজ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আজ আমাদের আরেক বিজয় দিবস! একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরের পর বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে আনন্দের দিন আজ।’
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই দিনটি হঠাৎ করে আসেনি। জুলাই অসন্তোষ শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন হিসেবে শুরু হয়নি। কিন্তু ২৫ মার্চের কালরাতের পর যেমন মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠেছিল, তেমনি ১৬ জুলাইয়ের পর নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্বিচার হত্যাকাণ্ড শেখ হাসিনার পতনকেও অনিবার্য করে তোলে।
নিজের দেশের মানুষের ন্যায্য প্রতিবাদের জবাবে এমন নির্বিচার হত্যাযজ্ঞের নজির দক্ষিণ এশিয়ায় কোথাও পাওয়া যাবে না। ৫ আগস্টের পর সদলবলে হাসিনার এক্সোডাস বা পালানোর নজীরও আধুনিক বিশ্বে নেই।’
সাবেক আইন উপদেষ্টার পোস্টে আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নানা বিতর্ক রয়েছে। তবু একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই- এই দলটি মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করেছিল এবং সেই যুদ্ধে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়েছিল। তারপরও স্বাধীন বাংলাদেশে জনতার রুদ্ররোষে তাদের সমূলে উৎখাত হতে হয়েছে। একবার নয়, অন্তত দু’বার। কেন হয় এমন?’
আসিফ নজরুল বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর আওয়ামী লীগের খুঁজে বের করা দরকার। কিন্তু আমার ধারণা এটি তারা করবে না। এই দলটির ডিএনএ-র মধ্যে আত্মসমালোচনা বা অনুশোচনার কোনো স্থান নেই। তারা ৩২ নম্বরকে ভাবে বাংলাদেশ, শেখ পরিবারকে ভাবে বাংলাদেশের মালিক, আর মুক্তিযুদ্ধকে মনে করে ভিন্নমতকে নিশ্চিহ্ন করার লাইসেন্স। এই মানসিকতাই তাদের জুলুম ও দমন-পীড়ন চালানোর সীমাহীন দুঃসাহস জুগিয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক বলেন, ‘বাংলাদেশের অন্য রাজনৈতিক দলগুলোও ধোয়া তুলসীপাতা নয়। তাদেরও ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো এমন সীমাহীন অনাচার করার আত্মবিশ্বাস, ক্ষমতার মালিকানাবোধ এবং স্পর্ধা অন্য কোনো দলের মধ্যে আমি দেখিনি।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণায় আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী উৎফুল্ল হচ্ছেন। হোন। তাতে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু মনে রাখবেন আওয়ামী লীগ ফিরবে না তাতে। বরং হাজারো মানুষকে হত্যার এবং আরও বহুগুণ মানুষকে চিরতরে পঙ্গু করে দেওয়ার বিচার না হলে, প্রয়োজনে আমরা আবারও রাজপথে নামব। আমিও নামব।’
পোস্টের শেষাংশে আসিফ নজরুল যোগ করেন, ‘আমাদের ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। আমরা মৃত্যুভয়কে জয় করেই বেঁচে আছি। আল্লাহ যেদিন চাইবেন, সেদিন চলে যাব। কিন্তু যতদিন বেঁচে থাকব, বাংলাদেশের শিশু ও তরুণদের বুকে গুলি চালানো খুনিকে একবিন্দুও ভয় করব না, এক মুহূর্তের জন্যও ক্ষমা করব না। জুলাই আমাদের পুনর্জন্মের নাম। নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হবে, বিরোধ হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার প্রশ্নে আমরা জুলাই হয়েই বাঁচব চিরদিন।’

