Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

সাদ্দাম-ইনানকে হামলার নির্দেশ

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন

ছবি: সংগৃহীত।

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত শীর্ষ নেতার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষ। আজ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকউশন এ আবেদন করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।

প্রসিকিউশন জানায়, ২০২৪ সালের ১১ জুলাই ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানকে সরাসরি ফোন করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নির্দেশ দেন তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কল রেকর্ডটি উপস্থাপন করা হয়।

কল রেকর্ডের কথোপকথনে সাদ্দামের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, ‘এদের মারো না কেন’। প্রত্যুত্তরে সাদ্দাম বলেন, ‘পুলিশ মুখোমুখি হতে নিষেধ করেছে’।

আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদকের এমন কথায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হন বলে দাবি প্রসিকিউশনের।

গত ৪ আগস্ট এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করে প্রসিকিউশন। যুক্তিতে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি ছিল পরিকল্পিত, সুসংগঠিত ও দেশব্যাপী ব্যাপক পরিসরে সংঘটিত একটি ‘সিস্টেমেটিক ক্রাইম’।

আন্দোলন দমনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

তিনি বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে আখ্যায়িত করার পর ছাত্রলীগকে মাঠে নামার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালান। এছাড়া জুলাই-আগস্টের এ অভ্যুত্থানে প্রাণ হারায় অনেক মানুষ।

এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন–আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আসামিরা সবাই পলাতক।

গত ২ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দেওয়া ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন দমনে সমন্বিতভাবে নির্দেশ, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানানোসহ একাধিক বৈঠকে সহিংসতার পরিকল্পনা করেন। কোথাও কোথাও সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতা সংঘটিত হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে শাস্তিযোগ্য বলে উল্লেখ করে প্রসিকিউশন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

রোহিঙ্গা গণহত্যা: আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলার রায় ১৯ নভেম্বর

দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর

দেশ ছেড়েছেন কোটি টাকা ঘুস চাওয়া সেই প্রসিকিউটর

আমুসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

আমুসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল

হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

শাপলা চত্বর গণহত্যা হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ

শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

শেখ হাসিনাসহ ৮৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ

জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ: মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

জুলাইয়ে হত্যাযজ্ঞ: মাহবুবউল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

আরও পড়ুন

৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু

প্রধানমন্ত্রী খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন আজ

প্রধানমন্ত্রী খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন আজ

হামের টিকা নিয়ে অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

হামের টিকা নিয়ে অনিয়ম তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম