Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার পর এক তরুণের বাঁধভাঙা উল্লাস ও আনন্দ-চিৎকার দেখে ভিন্ন এক ভাবনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ও দাঈ শায়খ আহমাদুল্লাহ। তরুণের সেই উল্লাস তাকে নতুন এক সমাজ-জিজ্ঞাসার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে তিনি তার ফেসবুক পেজে এক পোস্টে জানিয়েছেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এটি কি জ্ঞান-পিপাসু হিসেবে উচ্চতর গবেষণার মাধ্যমে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাওয়ার আনন্দ নাকি উন্নত জীবনের মোহনীয় হাতছানি এবং আজীবন সেখানে স্থায়ী হওয়ার দুয়ার খুলে যাওয়ার আনন্দ? এই প্রশ্নটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতি বছর হাজার হাজার মেধাবী তরুণ উচ্চশিক্ষার জন্য উন্নত বিশ্বে পা রাখে এবং সেখানে ক্যারিয়ার গড়ে। উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ভিসা দেয় স্টুডেন্ট ক্যাটাগরিতে। পর্যটন ভিসার তুলনায় স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি। কোনো কোনো দেশের স্টুডেন্ট ভিসা ইস্যুর হার ৯৫%-এরও বেশি!

শিক্ষা ও গবেষণার প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা স্টুডেন্ট ভিসাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে বটে, তবে এর পেছনে একটি গভীর সমীকরণ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। ধর্মীয় মূল্যবোধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাবার কারণে অনেক উন্নত দেশের জনসংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। কমতে থাকা জন্মের হার রীতিমতো জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রণোদনা দিয়েও তারা জন্মহার বাড়াতে পারছে না।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, তাদের প্রয়োজন আমাদের মতো গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের, যারা ছাত্র ভিসায় বিদেশে গিয়ে সেখানকার দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে উঠবে। এজন্য তারা গরিব দেশের মেধাবী তরুণদের ওয়েলকাম জানাতে মুখিয়ে থাকে। অফার করে নানা রকম সুযোগ সুবিধার। অনেক দেশে পড়াশোনার পর পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক পারমিট বা পারমানেন্ট রেসিডেন্ট-এর পথ খুলে দেয়।

তিনি আরো লিখেছেন, জ্ঞান-গবেষণার জন্য দূর দেশে পাড়ি জমানো খারাপ কোনো বিষয় নয়। কিন্তু দেশের আলো-হাওয়ায় বড় হয়ে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পড়াশোনার ভিত গড়ার পর নিছক একটু ভালো থাকার জন্য উন্নত ও অমুসলিম-প্রধান দেশকে সার্ভ করা নিশ্চয়ই একজন মুসলিম তরুণের কাম্য বিষয় হতে পারে না।

বাবা-মা যতদিন বেঁচে থাকেন, ততদিন দেশের সাথে এই শ্রেণির মানুষের নিভু নিভু সম্পর্কটা হারিকেনের সলতের মতো টিকে থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাবা-মার মৃত্যুর পর অনেকে দেশের সমুদয় সম্পদ বিক্রি করে সেই টাকা বৈদেশিক সুখে বিনিয়োগ করে। দেশে তাদের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও আর অবশিষ্ট থাকে না।

শিক্ষার্থীদের মাঝে কেন দেশত্যাগের মিছিল চলছে? এর জন্য কি শুধুই তরুণদের ভোগবাদী মানসিকতা দায়ী? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় তুলবার আগে সবার প্রথমে নিজেদের ব্যর্থতার দিকে দৃষ্টিপাত করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও আমরা দুর্নীতিমুক্ত, অপরাধহীন, স্থিতিশীল, বাসযোগ্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাওয়ার মতো একটি দেশ গড়ে তুলতে পারিনি, যে দেশ নিয়ে একজন মেধাবী তরুণ স্বপ্নের বীজ বুনবে।

শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, এখানে মেধার মূল্য নেই, ঘুস ও রেফারেন্স ছাড়া চাকরি হয় না, জীবন সর্বক্ষণ ঝুঁকিপূর্ণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও অস্থিরতার ছড়াছড়ি, দুর্নীতিতে সয়লাব প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, তরুণদের নিয়ে সর্বদা আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারকে। এতসব অনিশ্চয়তার মাঝে মেধাবী শিক্ষার্থীকে যেখানে ওয়েলকাম করতে উন্নত দেশগুলো অ্যাম্বাসি খুলে বসে আছে, তার জন্য দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন ব্যাপারই।

এরপরও তারুণ্যকে তিনি এই কঠিনেরে ভালোবাসার আহ্বান জানিয়েছেন। কেউ দেশটাকে প্রস্তুত করে দেয়নি বলে আমি কি পরিবর্তনের জন্য সংগ্রাম করব না? নিরুপদ্রব জীবনের জন্য সবাই যদি বিদেশকেই ঠিকানা বানায়, তবে চেইঞ্জ মেকার হবে কে?-এই প্রশ্নটি তিনি তরুণদের কাছে রেখেছেন।

প্রকৃতপক্ষে তরুণদের সামনে কোনো ভিশন বা আদর্শ নেই, যার জন্য সে নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করবে বলে তিনি মনে করেন। অধিকাংশ পরিবার, এমনকি খোদ রাষ্ট্রও তরুণদের আদর্শবাদী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট নয়; বরং ধর্মবিযুক্তির মাধ্যমে তাদেরকে নিছক ভোগবাদী এবং স্বার্থপর করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

তাই, মেধাবী তরুণদের বিদেশে স্থায়ী হওয়ার মিছিল থামানোর জন্য মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক শিক্ষা থেকেই ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে, যেন আগামী প্রজন্ম আদর্শবাদী এবং শেকড়মুখী মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। সর্বোপরি তরুণদের ভোগবাদী জীবনের পরিবর্তে চ্যালেঞ্জের জীবন বেছে নেয়ার কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, ভোগে নয়, ত্যাগের মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সুখের ঠিকানা।

একটি দেশ উন্নত হয় মূলত তরুণদের মেধার ওপর ভর করে। সেই মেধা যদি বাইরে চলে যায় এবং বাইরের উন্নয়নে তা ব্যয় হয়, তবে সেই দেশ কোনোভাবেই সাফল্যের স্বর্ণচূড়ায় উঠতে পারে না। তাই মেধা পাচার রোধে আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে বলে শায়েখ আহমাদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শায়খ আহমাদুল্লাহর জিজ্ঞাসা— সমাজ বদলানোর দায়িত্ব নেবেন কে?

শায়খ আহমাদুল্লাহর জিজ্ঞাসা— সমাজ বদলানোর দায়িত্ব নেবেন কে?

মেয়েদের ফেসবুক প্রোফাইল পিক কেমন থাকা উচিত, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

মেয়েদের ফেসবুক প্রোফাইল পিক কেমন থাকা উচিত, যা বললেন আহমাদুল্লাহ

মোটরসাইকেল-মোবাইলের ফ্রি সার্ভিসিং দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

মোটরসাইকেল-মোবাইলের ফ্রি সার্ভিসিং দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

শুধুমাত্র স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবার্ষিক পালন করা জায়েজ কিনা?

শুধুমাত্র স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবার্ষিক পালন করা জায়েজ কিনা?

ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?

ফর্সা হওয়ার জন্য ক্রিম ব্যবহার করলে কি গুনাহ হবে?

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

নামাজি ব্যক্তি অবৈধ উপার্জন করলে কি জান্নাতে যাবে?

আরও পড়ুন

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

মেধাবীদের দেশত্যাগ রোধে শায়খ আহমাদুল্লাহর দিকনির্দেশনা

সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটাতে সহজ অর্থায়নে জোর দিচ্ছে সরকার

সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটাতে সহজ অর্থায়নে জোর দিচ্ছে সরকার

মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ

সচিব হলেন বাবুল মিঞা

সচিব হলেন বাবুল মিঞা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম