মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন চায় বাংলাদেশ
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকা মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু নির্মাণ এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ।
২০২৩-২০২৭ মেয়াদে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলের (ইডিসিএফ) আওতায় এসব প্রকল্পে অর্থায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশটির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেছে।
বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সফরের দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ২০২৩-২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিলের আওতায় ৩০টি প্রকল্পের জন্য ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৈঠকে ইডিসিএফের অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।
এ সময় কেক্সিম জানায়, তহবিলের আওতায় অগ্রাধিকারযোগ্য প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ প্রস্তাবিত তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান কারিগরি সহায়তার প্রশংসা করেন অর্থমন্ত্রী। অন্যদিকে কোরীয় পক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন, ভবিষ্যতে ইডিসিএফের সহযোগিতা এবং আইজিএনডিতে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণের বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে।
কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের (কেআইসি) সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে বিনিয়োগের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে আলোচনায় আনা হয়। পাশাপাশি কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে দুই পক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিষয়টি উঠে এসেছে। বাংলাদেশের এআই কর্মসূচির সঙ্গে কোরীয় সরকারের এআই ও ডিজিটাল রূপান্তরের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক একটি ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। এ সময় কোরীয় কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কোরিয়ার মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি সরবরাহকারীদের যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
