নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ড যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে: মাহদী আমিন
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিরপেক্ষভাবে আলোচনা করে পোশাকশ্রমিকদের জন্য যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে মজুরি বোর্ড বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মজুরি নিশ্চিত করবেন বলে সরকার বিশ্বাস করে।
বুধবার রাতে সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে দেশের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পর দ্রুততম সময়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠকের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে নিবিড়ভাবে কাজ করে চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের স্বার্থ, পোশাকশিল্পের স্বার্থ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের শ্রম ও ঘামের ওপর দাঁড়িয়েই বিশ্বজুড়ে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড পরিচিতি পেয়েছে। সরকার সব সময় সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে তাঁদের পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে নেওয়া এবং পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। এ জন্য তিন পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় জরুরি।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই পোশাকশিল্পের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ঐতিহাসিকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস খাতের সূচনা হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটে।
তিনি বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। আগে পাঁচ বছর পরপর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে নতুন মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, আগামীকাল থেকেই শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে যোগ দেবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করছে। পাশাপাশি মজুরি বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ ও পরামর্শের প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে।
তবে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত প্রবেশ করে উসকানি দিচ্ছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। কিছু সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনাও ঘটেছে, যার সঙ্গে নিরীহ সাধারণ শ্রমিকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অত্যন্ত ধৈর্য ও আন্তরিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তারা প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদার, তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ঘোষ, গার্মেন্টস টেক্সটাইল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশুসহ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

