সৌর বিদ্যুৎ খাতে বিপ্লব ঘটাতে সহজ অর্থায়নে জোর দিচ্ছে সরকার
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশে সৌরবিদ্যুতের বহুল প্রসারে সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে অর্থায়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পরিবেশবান্ধব এই খাতাটিতে বিনিয়োগ বাড়াতে কর ও শুল্ক সুবিধা, কম সুদে ঋণ, বেসরকারি মূলধন আকর্ষণ এবং কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় নিশ্চিত করার নানা কৌশল বিবেচনা করা হচ্ছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬;-এর সমাপনী দিনের সেমিনারে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ। আলোচনায় বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পথে যেসব বাধা রয়েছে, সরকার তা দূর করতে অত্যন্ত আন্তরিক। সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া নানা প্রস্তাব ও সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে এই খাতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
‘বাংলাদেশের সোলার বিপ্লবের জন্য নীতি, জনশক্তি ও মূলধন’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে চার পর্বের বিশেষায়িত এই সেমিনারের যৌথ আয়োজন করে বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)। আলোচনায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল (২০২৬-২০৩০) সফলভাবে বাস্তবায়ন, মানসম্মত সরঞ্জাম ব্যবহার এবং আমদানিতে শুল্ক ছাড় অব্যাহত রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি প্রাধান্য পায়।
সরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকরা। এজন্য দীর্ঘমেয়াদে অর্থ পরিশোধের নিশ্চয়তা এবং ভবনগুলোর কাঠামোগত শক্তি পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে মানসম্মত ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম, নেট মিটারিং সুবিধা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা শক্তিশালী করার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পগুলোতে অর্থায়নের পথ সুগম করতে কম সুদে ঋণ, গ্রিন বন্ড চালু, স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জামানতের কঠোর শর্ত শিথিল করার প্রস্তাব দেন বক্তারা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার দর ওঠানামাজনিত ঝুঁকি সামলাতে একটি জাতীয় হেজিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।
এর আগে গত ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুই দিনব্যাপী এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এই আয়োজনে দেশি-বিদেশি ৮০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান সৌর প্যানেল, ইনভার্টার, উন্নত ব্যাটারি ও সেচ প্রযুক্তির মতো নানা উদ্ভাবন প্রদর্শন করে। উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের ধারণা, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশে নতুন বিনিয়োগের দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করবে।

