Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

র‍্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে ‘এসআরবি’, যেসব দায়িত্ব পাচ্ছে এই বাহিনী

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

র‍্যাব বিলুপ্ত করে গঠন হচ্ছে ‘এসআরবি’, যেসব দায়িত্ব পাচ্ছে এই বাহিনী

ফাইল ছবি

Advertisement

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)’ নামে বাংলাদেশ পুলিশের একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক একটি খসড়া বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। খসড়া আইনে নতুন বাহিনীর কাঠামো, দায়িত্ব, ক্ষমতা, প্রশাসন ও জবাবদিহির বিষয়গুলো নির্ধারণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আইনের একটি খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।  

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, এসআরবি হবে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। বাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকায় থাকবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী, সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে দেশের অন্যত্রও ইউনিট স্থাপন করা যাবে। ইউনিটের প্রধান হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে এসআরবির দায়িত্বের মধ্যে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমন ও তদন্তের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আদালত, সরকার কিংবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে বিশেষ ধরনের মামলা পরিচালনা ও তদন্তেও ইউনিটটি কাজ করতে পারবে।

শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও সদস্যদের প্রেষণে এনে এই ইউনিট গঠন করা যাবে। প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ-সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তে কোনো সদস্যকে এই ইউনিটে প্রেষণে নিয়োগ বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

খসড়া অনুযায়ী, নির্ধারিত আইন ও বিধিমালার আওতায় এসআরবির সদস্যরা অস্ত্রবহন, তল্লাশি, জব্দ এবং গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

ইউনিটের নিজস্ব হেফাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ স্থাপনেরও বিধান রাখা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত ও বিচার-সংক্রান্ত যেসব বিষয়ে আইনে পৃথক বিধান নেই, সেসব ক্ষেত্রে প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া বাহিনীর সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। কর্তব্যে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনটি কার্যকর হলে, দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা র‌্যাবের পরিবর্তে নতুন কাঠামোর এই বিশেষায়িত বাহিনী দেশের গুরুতর অপরাধ দমন ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে বলে খসড়া বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, খসড়াটি চূড়ান্ত হওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মতামত নিয়ে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানে অনুমোদন পেলে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে।

খসড়া আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন হলো অভিযোগ প্রতিকার কমিটি। র‍্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে, নতুন বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে এ কমিটি করা হয়েছে ।

কমিটির সভাপতি হবেন– এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। সদস্য হিসেবে থাকবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা, পরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এবং মানবাধিকার, আইন-বিচার প্রশাসনে ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সরকার মনোনীত কেউ। 

কমিটি নাগরিকদের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে। প্রয়োজনে পৃথক অনুসন্ধান দল গঠন করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করতে পারবে। বাহিনীর কার্যক্রমে অবৈধ প্রভাব, হয়রানি বা অনিয়মের অভিযোগও কমিটি পর্যালোচনা করতে পারবে।

এ ছাড়া অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ প্রদান করা যাবে। ইউনিটের কার্যক্রমে বিধিবহির্ভূত প্রভাব, পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যথা আচরণসংক্রান্ত অসন্তোষ নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিতে পারবে কমিটি। ইউনিটের আইনানুগ কার্যক্রমে কোনো ব্যক্তি বা সত্তা বিধিবহির্ভূত ও অযাচিত প্রভাব বিস্তার করলে এবং অনুসন্ধানে তা প্রমাণিত হলে, ওই ব্যক্তি বা সত্তার দায়-দায়িত্ব নিরূপণপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করতে পারবে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি।

খসড়া অনুযায়ী, এসআরবির কোনো সদস্য শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ করে পলাতক হলে ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেবেন। এ জন্য পলাতক সদস্যের স্থায়ী বা বর্তমান বাসস্থানের সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অনুরোধ জানানো হবে। ওই অনুরোধকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক জারিকৃত পরোয়ানার সমতুল্য হিসেবে গণ্য করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাতক সদস্যকে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট ব্যাটালিয়নে সোপর্দ করবেন।    

উল্লেখ্য, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, সংক্ষেপে র‍্যাব। ২০০৪ সালে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করার প্রক্রিয়া শুরু করে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার । ঐ বছরের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এলিট ফোর্স র‍্যাবের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মূলত দেশে জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন এবং আইনশৃঙ্খলার মানোন্নয়নে গঠন করা হয়েছিল র‍্যাব। 

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

র‌্যাব থেকে নতুন নামে বাহিনী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে কি?

র‌্যাব থেকে নতুন নামে বাহিনী, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হবে কি?

র‍্যাব থেকে এসআরবি: পরিবর্তন আসছে যেসব জায়গায়

র‍্যাব থেকে এসআরবি: পরিবর্তন আসছে যেসব জায়গায়

নতুন নামে যাত্রা শুরু করল র‌্যাব

নতুন নামে যাত্রা শুরু করল র‌্যাব

র‌্যাব থেকে এসআরবি

র‌্যাব থেকে এসআরবি

হলো এসআরবি, থাকল র‌্যাবের প্রায় সবই

বিরোধী দলের আপত্তির মুখে সংসদে বিল পাশ হলো এসআরবি, থাকল র‌্যাবের প্রায় সবই

র‌্যাব নাম বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি

সংসদে বিল উত্থাপন র‌্যাব নাম বিলুপ্ত করে আসছে এসআরবি

আরও পড়ুন

কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

কৃষিপণ্যকে প্রধান রপ্তানি পণ্যে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ দাফন ও সৎকারে বরাদ্দ সাড়ে ৯ কোটি টাকা

মুক্তিযোদ্ধাদের মৃতদেহ দাফন ও সৎকারে বরাদ্দ সাড়ে ৯ কোটি টাকা

পাকিস্তানের বাধায় দেরি, অবশেষে এল ইউরেনিয়াম

পাকিস্তানের বাধায় দেরি, অবশেষে এল ইউরেনিয়াম

যে খবরে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই

যে খবরে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম