Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

‘আমরা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ইতিহাস বিচ্ছিন্ন কোনো জাতিগোষ্ঠী নই’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৫ পিএম

‘আমরা হঠাৎ গজিয়ে ওঠা ইতিহাস বিচ্ছিন্ন কোনো জাতিগোষ্ঠী নই’

জিন্নাহর স্মরণে বক্তৃতা দেন সম্পাদক ও কবি মারুফ কামাল খান। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

সম্পাদক ও কবি মারুফ কামাল খান বলেছেন, ‘আমরা হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা ইতিহাস বিচ্ছিন্ন কোন জাতি গোষ্ঠী নই। তার মতে, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছাড়া পাকিস্তান হতো না এবং পাকিস্তান না হলে এই জাতির বাংলাদেশ রাষ্ট্র হওয়া কল্পনা হয়েই থাকতো।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনের এনআরসি সেন্টারে জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘দি আর্কিটেক্ট রিমেম্বার্ড’ শীর্ষক স্মরণ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান বলেন, আমরা এই উপমহাদেশের দীর্ঘ ইতিহাসের এক বিরাট অংশের উত্তরাধিকার। আমরা কোন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নই। হঠাৎ করে গজিয়ে ওঠা ইতিহাস বিচ্ছিন্ন কোন জনপদ বা জাতি গোষ্ঠীও নই আমরা।

তিনি বলেন, আমাদের পূর্ব পুরুষরা একদিন জিন্নাহর নেতৃত্বে আন্দোলন করে পাকিস্তান রাষ্ট্রের পত্তন করেছিল। সেই সময় তারাই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ভালোবেসে কায়েদে আজম বা মহান নেতা উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

বাংলাদেশের খ্যাতিমান এ সিনিয়র সাংবাদিক আরও বলেন, উপমহাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল চরিত্র মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ সম্পর্কে বাঙাল মুল্লুকে গত কয়েক বছর ধরে প্রচলিত বয়ান নতুন করে ঝালিয়ে দেখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

উপনিবেশ বিরোধী মহান নেতা ও দক্ষিণ এশিয়ায় স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্রের স্থপতি জিন্নাহর স্মরণে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করেছে মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।

দলের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন প্রফেসর লে. কর্নেল (অব.) আকরাম আলী, ডা. ফরিদ উদ্দীন, ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল চৌধুরী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক তামিমা জোবায়দা ‘রিক্লেইমিং জিন্নাহ’ শীর্ষক কনসেপ্ট পেপার উপস্থাপন করেন।

এতে তামিমা জোবায়দা, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের পুনর্গঠনে জিন্নাহর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, জিন্নাহ বৃটিশ উপনিবেশের কাছ থেকে মুসলমানদের জন্য পাকিস্তানের নামে স্বাধীন রাষ্ট্র ছিনিয়ে আনেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক পরিগঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে গড়ে তোলার নীতি গ্রহণ করেন। জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশেও সাংবিধানিক পুনর্গঠন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংস্কার করা প্রয়োজন।

তামিমা আরও বলেন, বিপ্লবের পর মুক্ত ও স্বাধীন বাংলাদেশে তরুণদের কাছে মুসলিম জাতীয়তা, গণতান্ত্রিক মুসলিম রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। এর ফলে তরুণদের কাছে উপনিবেশ বিরোধী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ আইকনিক নেতা হয়ে উঠছেন।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের যুব মুসলিম লীগের সভাপতি মোহাম্মদ কামরান সাঈদ উসমানী। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেজবাহ উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, মিনহাজুল আবেদিন শরীফ, শাহ নাজমুল হাসান ফেরদাউস, গালীব ইহসান, তৌহিদ তপু, মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম, আবদুল ওয়াহেদ, জিহাদী ইহসান, মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

তিন দিনব্যাপী উৎসবের তিনদিনই বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পুরানা পল্টনের এনআরসি সেন্টারে জিন্নাহর স্মরণে আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া সমাপনী দিনে শুক্রবার বাদ জুমা জিন্নাহর সহযোদ্ধাদের জাতীয় তিন নেতার মাজার জিয়ারত ও বাদ আছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম